সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঈদযাত্রা: ভোগান্তির মূলে আট মহাসড়কে ১২৯ বাজার-বাসস্ট্যান্ড’। খবরে বলা হয়, মোটরযানের গতিসীমার নির্দেশনা অনুযায়ী, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার ও বাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার থাকার কথা। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এটি ৫০ কিলোমিটার। তবে দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ব্যস্ত সময়ে রাজধানী ঢাকায় এই গতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার।
গত ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে এক সেমিনারে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলের গতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসার এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সড়ক বিভাগ।
এদিকে মহাসড়কে যান চলাচলের ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের আট মহাসড়কের ১২৯টি ব্যস্ত পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এতে যানজটের দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে এই পয়েন্টের কারণে এবারও ঈদযাত্রায় বাড়তি ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।
গত ৫ মার্চ সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সেখানে মহাসড়কে যানজটের ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার বড় অংশ সড়কনির্ভর। যাত্রী পরিবহনের ৮৮ শতাংশ এবং পণ্য পরিবহনে ৭৬ শতাংশ সড়কপথ ব্যবহার হয়। ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবে সড়কপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রুট ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক। পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই মহাসড়কের পাঁচটি পয়েন্টে বাজার ও ৯টি জায়গায় বাসস্ট্যান্ড আছে। বাসস্ট্যান্ড রয়েছে– চন্দ্রা জেবি টাওয়ার, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, এলেঙ্গা, হাটিকুমরুল মোড়, চারমাথা, মোকামতলা ও চরিয়া সিকার মধ্যপাড়ায়।
রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহাসড়কের বাজার ও বাসস্ট্যান্ড আছে ১৯টি পয়েন্টে। এর মধ্যে আছে ঢাকামুখী চিটাগং রোডের মোড়, মোগড়াপাড়া, গৌরীপুর, চান্দিনাবাজার, মাধাইয়াবাজার, কুটুম্বপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, নিমসার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজারের ঢাকামুখী লেন, দেবিদ্বার বাজার, বারইয়ারহাট, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড।
২০২১ সালের মহাসড়ক আইনে বলা আছে, অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে বাজার, মার্কেট বা যে কোনো স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। সড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাটবাজার কিংবা স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আছে। তবে প্রশাসনের তরফে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
এদিকে ২০২৩ সালের হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে হাট ও বাজার স্থাপন করতে পারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর আলোকেই অনেক মহাসড়কের পাশে অনেক জায়গায় বসছে হাটবাজার।
বাজার বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে
পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড সবচেয়ে বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। সেখানে বাজার আছে ১৭টি ও বাসস্ট্যান্ড পাঁচটি। বাজারের পয়েন্টের মধ্যে আছে ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা উড়ালসড়ক, বকশীগঞ্জ, কানুরামপুর, কাশীগঞ্জ, পিরিজপুর, সিডস্টোর ও মোসলেমপুর। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বাজার ১৯টি ও বাসস্ট্যান্ড দুটি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বাজার আটটি ও বাসস্ট্যান্ড চারটি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বাজার ৯টি, বাসস্ট্যান্ড ১০টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে বাজার সাতটি ও বাসস্ট্যান্ড সাতটি, যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে বাজার একটি ও বাসস্ট্যান্ড একটি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের অন্তত ৫৫ স্থান যানপ্রবণ এলাকা। এই সড়কে যানজটের পেছনে রয়েছে অন্তত ১৬ কারণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের ৪৫টি স্থানে কম-বেশি যানজট তৈরি হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি এবং খুলনা সড়কে ছয়টি স্থানে যানজট তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বাজার, মহাসড়কে থ্রিহুইলার বা কম গতির যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, সড়ক সংকীর্ণতা ও হেঁটে রাস্তা পারপারসহ নানা কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়েও এসব মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। আর উৎসবের সময়, বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়।
তারা বলছেন, এসব স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার ও থ্রিহুইলার বা কম গতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটা কমানো সম্ভব।
মহাসড়কে যানজটের স্থান ও কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যানজটের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। তবে সব রুটেই কিছু সাধারণ কারণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে– সড়কে ইউটার্ন, পথচারীর হেঁটে রাস্তা পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, সড়কের পাশে বাজার বসা, সড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের ৫৫ স্থানে যানজট হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ স্থানে ইউটার্নের কারণে যানজট হয়। এ ছাড়া ১৭ পয়েন্টে মানুষ হেঁটে রাস্তা পারাপার হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যানজট হচ্ছে ১১ পয়েন্টে। অবশ্য একই স্থানে একাধিক কারণও রয়েছে। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল সড়কে বাস বা যে কোনো যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার পর চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্তে তিনটি কারণে যানজটে পড়তে হয়। কারণগুলো হলো– ইউটার্ন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও রাস্তায় হেঁটে পথচারী পারাপার। স্কয়ার কাটা নামক স্থানেও এই তিন কারণে যানজট দেখা দেয়। চন্দ্রা জেবি টাওয়ার এলাকায় পাঁচ ধরনের সমস্যা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, আন্ডারপাস রোড, রাস্তায় পথচারী পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও সড়কসংলগ্ন বাজার স্থাপন। বাজারের আসা-যাওয়ার কারণে মানুষকে হেঁটে রাস্তা পার হতে হয়। যমুনা সেতু টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণেও পেছনে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সময় সেতুর ওপরে গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সেটি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা না করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে যানবাহন।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নলকা ব্রিজ এলাকায় উল্টোপথে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন চালকরা। বগুড়া বাজার ওভারব্রিজের নিচে ঢাকামুখী সড়কের পাশে বাজার রয়েছে। বাজারে জনসমাগমের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এ ছাড়া হোটেলগুলো থেকে উল্টো পথে গাড়ি যাতায়াত করে নিয়মিত। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের চরিয়া সিকার মধ্যপাড়া এলাকায় ইউটার্ন থাকার কারণে গাড়ির গতি কমে যাওয়ায় যানজট দেখা দেয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫ স্থানে যানজট তৈরি হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর কারণ ১২টি। ঢাকার অন্যতম প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চিটাগাং রোড এলাকা। সড়কসংলগ্ন বাজার, সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার কারণে সেখানে যানজট কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে এই রুটে গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর বরাব বাসস্ট্যান্ডে তীব্র জটে পড়তে হয়। মহাসড়কে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গাড়ি থেমে থেমে চলে সেখানে। ফলে পেছনে লম্বা সারি পড়ে যায়। তারাব গোলচত্বরেও প্রায় একই সমস্যা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয় সড়কসংলগ্ন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এবং ইউটার্নের কারণে। এই সড়কে ১৭ স্থানে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। সাধারণত বাজারে সবসময়ই ভিড় থাকে। ফলে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন চালকরা। এ ছাড়া ইউটার্ন রয়েছে ১১ জায়গায়। এসব স্থানে গাড়ি ঘোরানোর সময় পেছনে সারি পড়ে যায়। এ ছাড়া রাস্তায় থ্রি-হুইলার গাড়ি তো আছেই। তিন চাকার এই গাড়ির গতি তুলনামূলক কম, যে কারণে দ্রুতগামী গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হয় চালককে। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। গৌরীপুর বাজার ও তিতাস থানা এলাকার রাস্তার মাথায় পথচারী হেঁটে পারাপার করেন। এ ছাড়া সেখানে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করা হয়। এ সময় গাড়ির জট লেগে যায়।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩ পয়েন্টে যানজট
সড়ক পথে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই মহাসড়কে ১০ কারণে ৪৩ স্থানে নিয়মিত যানজট দেখা দেয়। এই রুটে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাজার। ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৯ স্থানে বাজার, দোকান রয়েছে। বাজারে আসা-যাওয়া মানুষ রাস্তায় উঠে যাওয়ায় গাড়ির গতি কমে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ১৩টি পয়েন্টে সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে এসব স্থানে সড়ক তুলনামূলক সরু হয়ে গাড়ি এক বা দুই লেনে ধীরগতিতে চলাচল করে। রূপগঞ্জের বরপা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় যাত্রীবাহী সব বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এ ছাড়া যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় পেছনের বাসকে বাধা দিতে সামনের বাস আড়াআড়ি করে দাঁড়ায়। ফলে একটা গাড়ির পেছনে আরেকটি বাস থেমে সারি বড় হয়। রূপগঞ্জের ভূলতা মোড়ে ফুট ওভারব্রিজ না থাকা এবং ফুটপাতে দোকান থাকায় মানুষকে সড়কে হাঁটতে হয়। তখন গাড়ির গতি কমে যায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের ২১ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের তথ্যমতে, হোতপাড়া ওভার ব্রিজের নিচে, ভবানীপুর বাজার, বাঘের বাজার, নতুন বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা ফ্লাইওভার, এমসি বাজার, জৈনা বাজার, জামালপুরের বকশীবাজার ও ময়মনসিংহের নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড উল্লেখযোগ্য যানজটের স্পট। এই সড়কে মূলত ১০ কারণে যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে। এর মধ্যে সড়কের যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, সড়কের পাশে বাজার গড়ে ওঠা, রাস্তা খানাখন্দ, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থলের কারণে বেশি যানজট হয়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট
সাভারের হেমায়েতপুরে বাসস্ট্যান্ড ও সড়কের পাশে বড় একটি বাজার গড়ে ওঠায় মানুষের সমাগম থাকে সবসময়। ফলে এই সড়কের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করার সময় এবং ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর সেখানে যানজটের মুখে পড়তে হয়। সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন ওই সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সড়কে আটটি কারণে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে।
অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থা
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি পয়েন্টে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে। এর অন্যতম কারণ, সড়কের পাশে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড। এ ছাড়া আরও চার কারণে যানজট পোহাতে হয় মানুষকে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৯ স্থানে চার কারণে যানজট তৈরি হয়। যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানজটের কারণ ছয়টি।
প্রথম আলো
‘ভর্তিতে লটারি বাদ, দুর্নীতি ও বৈষম্য বৃদ্ধির আশঙ্কা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির ভর্তির জন্য বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭ সাল) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সচিবালয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এদিকে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রত্যাশিত বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শিশুদের আবারও সেই পুরোনো ভর্তিযুদ্ধে নামতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে লটারির পরিবর্তে আবার পরীক্ষা হলে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে এবং কোচিং-প্রাইভেটের প্রবণতা নতুন করে মাথাচাড়া দেবে। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্যও বাড়তে পারে। দুর্নীতিও বাড়ার আশঙ্কা আছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে এখনো অনেক দেরি। তাই এত তাড়াহুড়া করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও আলোচনা করে সম্ভাব্য ভালোমন্দ দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল সরকারের।
বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নামে ছোট ছোট শিশুদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলা, কোচিং ও প্রাইভেটের দৌরাত্ম্য, ভর্তিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এবং সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে লটারিতে ভর্তি পদ্ধতি চালু হয়।
২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে (যেসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে) প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে।
লটারির আগে ভর্তিতে অনিয়মের একটি উদাহরণ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঘটনা। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞাপনে ঘোষিত পদের চেয়ে ১ হাজার ৯৮১ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছিল। তখন প্রথম শ্রেণি ছাড়া অন্য শ্রেণিগুলোতে লটারির ব্যবস্থা ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখে মন্ত্রী
জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে গত রোববার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি ব্যবস্থা চালু করেছিল। তাঁর কাছে এটি খুব যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সবার অভিমত নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এর এক দিন পরেই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ভর্তিতে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমরা লটারি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করলাম।’
এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা শিশুদের ভর্তিতে পরীক্ষা হলে কোচিং–বাণিজ্য ও ভর্তি–বাণিজ্য শুরু হওয়াসহ নানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কার কথাও মন্ত্রীকে জানান সাংবাদিকেরা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ব্যাপক আলোচনার মধ্য দিয়ে এটি করা হয়েছে। এক মাস ধরে পর্যালোচনা-আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তিনি বলেন, এমন কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা হবে। খুব সাধারণ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তারপর দেখা যাক পরবর্তী ধাপে কী হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁরা ধীরে ধীরে ‘জোনিং সিস্টেম’ (এলাকাভিত্তিক বিদ্যালয়ে পড়ার ব্যবস্থা) চালু করবেন।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ১ মাস: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উজ্জ্বল সূচনা’। খবরে বলা হয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এক মাস মেয়াদ পূর্ণ হলো। এই অল্প সময়ে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উজ্জ্বল সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড চালু, ধর্মীয় সেবকদের সম্মানিভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি, রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নারীর নিরাপত্তা ও তাদের জন্য পিংক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদে ত্রাণ বরাদ্দ, বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা, ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস, বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে নিজ দলীয় এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল, পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসাকেন্দ্র, ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতির মতো ব্যাপক প্রশংসনীয় পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। সবশেষে স্কুলে ভর্তির বিদ্যমান লটারি প্রথা বাতিল করা হয়েছে; যেটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সোমবার সেই দাবি বাস্তবে রূপ দিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কিছুদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারের নীতি, দিকনির্দেশনা, অগ্রাধিকার এবং শাসনব্যবস্থার ধরন সম্পর্কে জনগণ প্রাথমিক ধারণা পেতে শুরু করে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক গতি সঞ্চার, আইনশৃঙ্খলার কার্যক্রম জোরদার, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা এবং জনগণের আস্থা দৃঢ় করার লক্ষ্যে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে সরকারের প্রথম এক মাসের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর কাজের এমন দৃষ্টান্ত ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন যুগান্তরকে বলেন, গত মাসের ঠিক এই দিনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে দেশের জন্য প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক মাসের পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এটি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনকল্যাণের প্রতি এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, এক মাসের পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আশা ও স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা। একই দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ নেন। ওইদিন থেকেই বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু।
কালের কণ্ঠ
‘ঈদযাত্রার ভোগান্তি স্থায়ীভাবে কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদের সময় আপনজনদের কাছে যাওয়া, আবার ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসার পথে যে মানবেতর, বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণে গতানুগতিক ধারার বাইরে বেশ কিছু উদ্যোগের পরামর্শ মিলেছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। যেমন, ঈদের সময় সরকারি ‘পরিবহন পুল’ ব্যবহার এবং ‘জাকার্তা মডেল’ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম হাদিউজ্জামান। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বর্তমানে বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করেই ঈদযাত্রাকে অনেকটা স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব।
ঈদের সময় কেন এই বিশাল জনস্রোত তৈরি হয়, তার মূল কারণ হিসেবে এই বিশেষজ্ঞ ঢাকাকেন্দ্রিক পলিসিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমরা সব কর্মসংস্থান ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ বা গাজীপুরকেন্দ্রিক করে ফেলেছি। যেহেতু এখানে বসবাসকারী প্রায় সবাই গ্রাম থেকে আসা, তাই তারা শিকড়ের টানে ফিরবেই। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও ঈদের সময় আড়াই কোটি মানুষ শহর ছাড়ে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে কর্মসংস্থান তৈরি করা, যাতে মানুষকে কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় এসে ভিড় করতে না হয়।
বিকল্প সমাধান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাদিউজ্জামান জানান, যাত্রীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো জাদুকরি সমাধান না থাকলেও সরকার চাইলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে। তিনি প্রস্তাব করেন, ঈদের ছুটির সময় সচিবালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর) অসংখ্য বাস অলস বসে থাকে। এই বিশাল ‘পরিবহন পুল’ যদি ঈদের ৭-১০ দিন সাধারণ যাত্রীদের জন্য রুট অনুযায়ী নামিয়ে দেওয়া হয়, তবে পরিবহনের জোগান বহুগুণ বেড়ে যাবে। জোগান বাড়লে ভাড়ার নৈরাজ্য এবং কালোবাজারি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যাতে দুর্ঘটনা কমে। আমাদের দেশেও দক্ষ চালকসহ এই সরকারি বাসগুলো ব্যবহার করা সম্ভব, যা বেসরকারি খাতের ওপর চাপ কমাবে।
হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অন্তত দুই মাস আগে থেকে একটি ফর্ম ফিলাপ বা জরিপের মাধ্যমে জানা সম্ভব কোন গন্তব্যে কত মানুষ যেতে চায়। যদি জানা যায় ১০ হাজার মানুষ খুলনা যাবে, তবে সেই অনুযায়ী পরিবহন পুলের বাসগুলো বরাদ্দ করা সম্ভব। এটি একটি ‘ক্রাইসিস মোমেন্ট’ বা যুদ্ধকালীন অবস্থার মতো বিবেচনা করে সরকারকে এই বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে।
নিরাপদ যাতায়াতে যাত্রীদের করণীয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, সরাসরি ট্রেন বা বাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ‘কাটা পথে’ ছোট যানে যাতায়াত করেন। কিন্তু এই থ্রি-হুইলার বা ফিটনেসবিহীন যানগুলো সড়কে আরো বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবার ও ব্যাগ নিয়ে বারবার বাহন পরিবর্তন করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই পর্যাপ্ত সরকারি জোগান না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো কঠিন।
ইত্তেফাক
‘এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে মানুষ নিজের অধিকার নিজেই প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশে কৃষকদের উপকারে দেশ জুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। এই খালখনন কর্মসূচির মাধ্যমে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশে মানুষ তার নিজের অধিকার নিজেই প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যে বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া গ্রামে খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই গ্রাম থেকেই সারা দেশে ৫৩টি স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
কৃষির উত্পাদন বাড়ানোর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিরাট দেশ। ২০ কোটি মানুষের বসবাস এই দেশে। এত মানুষের জন্য খাবার-দাবার বিদেশ থেকে আনা অসম্ভব। তাই ধান-চালসহ মৌলিক খাবারগুলো এই দেশে উত্পাদন করতে হবে। আমাদের দেশের মাটি উর্বর। শুধু খাল নয়, খালের দুই পাশে হাজার হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। খালের দুই পাশে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালে পানি না থাকায় আমাদেরকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে যতটুকু গভীরতায় পানি পাওয়া যায় এখন পানি পেতে আরো বেশি গভীরতা প্রয়োজন হয়। পানি কমে গেলে আমাদের সবাইকে বিপদে পড়তে হবে। এজন্য মাটির ওপরের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষত্ প্রজন্মের জন্য মাটির গভীরের পানি রেখে দেওয়া যায়। খাল-নদী খনন করে আমাদেরকে সেই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনি ওয়াদায় আমরা ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলী কার্ড পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। আমরা এরই মধ্যে সেই কাজটি শুরু করেছি। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। ধীরে ধীরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একটু সময় লাগছে। সরকারের বয়স মাত্র এক মাস।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চল হচ্ছে কৃষি প্রধান এলাকা। এই অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে যারা কৃষি-সংক্রান্ত দ্রব্য নিয়ে মিল-কারখানা করেছে। আমরা এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, এই এলাকায় কী কী কৃষিনির্ভর মিল-কারখানা গড়ে তোলা যায় সে ব্যাপারে, যাতে এখানকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘সাহাবুদ্দিনকে আরো এক বছর রাষ্ট্রপতি রাখতে চায় বিএনপি!’। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনকে অন্তত আরো এক বছর এই পদে বহাল রাখতে চায় বিএনপি। দলের একাধিক নেতার কাছ থেকে এমনই মনোভাব পাওয়া গেছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এখনই তাকে পদচ্যুত করে নিজেদের কোনো লোককে রাষ্ট্রপতি বানালে সংসদের মেয়াদ এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সমান হবে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের লোক থাকবে না। সাহাবুদ্দিনকে এক বছর পর সরিয়ে নিজেদের লোককে রাষ্ট্রপতি বানালে সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও রাষ্ট্রপতি নিজের পদে বহাল থাকবেন। তারা আরো বলছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, তাই রাষ্ট্রপতি নিজেদের লোক হলে নির্বাচনসহ প্রশাসনে একটু হলেও বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তা ছাড়া বিএনপির ৩১ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেকখানি বাড়ানোর কথা। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা রাষ্ট্রপতির পক্ষে আরেকটু সহজ হতে পারে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বে আসেন মো: সাহাবুদ্দিন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু মেয়াদ রয়েছে, সেখানে মো: সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই। অভিশংসন বা অপসারণ করতে হলে বর্তমান সরকারকেই সেই উদ্যোগ নিতে হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন প্রশ্নে নানা আলোচনা চলছে রাজনীতিতে। এমনকি বিএনপির কারা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, অনেক নাম দিয়েও খবর হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে অনেক নাম নিয়ে আলোচনা। দলটির নেতাকর্মীদেরও অনেকে ধারণা করছেন, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদের এখনো অনেকটা সময় বাকি আছে। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয় নেই। তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন না। সংবাদ বিশ্লেষণ সূত্র মতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে ও পরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিতর্কিত ভূমিকা, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে তার অপসারণের দাবিতে সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলাচনার সৃষ্টি করেছে। মূলত শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন বলে রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট জানালেও পরে সেই পদত্যাগপত্র খুঁজে না পাওয়ার কথা বলে তিনি সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দেন। যদিও এর আগেই ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এই রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ও ‘খুনির দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন যে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তী সময়ে দু’টি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। নতুন গল্প সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নেই।
রাষ্ট্রপতি যে আপাতত থাকছেন তা তার বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমার দুঃসময়ে বিএনপির শতভাগ সহযোগিতা ছিল। তারা সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিরি আরো বলেছিলেন, আমাকে কতভাবে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে! কোনো পরিস্থিতিতেই আমি ভেঙে পড়িনি। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আমার পাশে ছিল। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল; কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল!
বণিক বার্তা
‘তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় সরকার’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সাগরের ব্লকগুলোতে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে চায় সরকার। মোট ৪৭টি ব্লকে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাগরে ও স্থলভাগে অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অগ্রাধিকার ১৮০ দিনের মধ্যে দরপত্রের এ বিষয়ও থাকছে।’
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর (পিএসসি) আওতায় দেশের স্থলভাগে ২১টি ব্লক এবং অফশোরে (সাগরে) ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহবান করা হবে। এ উদ্দেশ্যে পেট্রোবাংলা তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেলে সাগরে ও স্থলভাগে দ্রুতই আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থলভাগে ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়ও গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর-অনশোরে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এখন সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুতই দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পাঁচ বছরের এক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারের কাছে। ওই কর্মপরিকল্পনায় ১০০ দিনের মধ্যে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্র অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মডেল পিএসসি ২০২৬ চূড়ান্তকরণের কথা বলা হয়। যা জ্বালানি বিভাগ এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিডিং রাউন্ড আহ্বান করার কথা তুলে ধরা হয়। এ কর্মপরিকল্পনায় আরো রয়েছে সাইসমিক ডেটা অ্যাকুইজিশন শেষ করা, ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি সাইসমিক সার্ভে, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে এবং স্থলভাগে সিলেট অঞ্চলে লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাসটিলা সাউথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার সার্ভে করা।
দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয় অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট-২০২৬-এর খসড়া যাচাই করার পর দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। অফশোর ও অনশোরে আইন মন্ত্রণালয় বেশকিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে। সেসব বিষয়ে তথ্যও এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।
নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১১ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন চলছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় সাড়ে ১৬ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে। স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বশেষ ২১ ডলারে কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল-গ্যাস সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘মিত্ররা পাশে নেই, যুদ্ধে একা ট্রাম্প’। খবরে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সাহায্য চেয়েও পাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। তবে এই জোটের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিস এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধে জড়াতে চায় না। জোটের অন্য দেশগুলো এখনো নীরব। যুদ্ধকে না বলছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়াও।
এমন সময় এ ঘটনা ঘটছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় তেলের স্থাপনার পাশাপাশি শিল্প এলাকায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় গতকাল সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা শুরু করে তারা। যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল হয় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করায়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্রদেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এরপর ২০টির মতো জাহাজে হামলাও চালিয়েছে তারা। এর জেরে তেল পরিবহনে সংকট দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে থাকে দাম। গতকাল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রণালি বন্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ বন্ধ থাকলে দাম বাড়তেই থাকবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে আন্তর্জাতিক মহলে চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরুর জন্য প্রথমে নিজ দেশের নৌবাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, মার্কিন বাহিনী ওই প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা দেবে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এই উদ্যোগ নেবে না। এরপর ট্রাম্প খানিকটা পিছু হটেন। পরে তিনি হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপত্তা দিতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি চীনকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে বলেন গত শনিবার। তবে এই দাবি খারিজ হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান জানিয়ে দেয়, তাদের জন্য জাহাজ পাঠানো কঠিন। আর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানায়, তারা সংঘাতে জড়াতে চায় না।
তবে ট্রাম্প থেমে যাননি। এবার ন্যাটো জোটের সদস্যদেশগুলোর কাছেও সাহায্য চেয়েছেন তিনি। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির সুবিধাভোগী যারা, তাদের সহযোগিতার হাত বাড়ানো উচিত, যাতে কোনো বাজে ঘটনা সেখানে না ঘটে। এই আহ্বানে যদি সাড়া না পাওয়া যায়, কিংবা নেতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়, তাহলে আমার ধারণা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ হবে।’
এ নিয়ে গতকাল হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। এ সময় মিত্ররা হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে সহায়তা করতে না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা এ ব্যাপারে উৎসাহ বোধ করছে না।’ একই সঙ্গে তিনি আবার বলেন, কয়েকজন নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প তাঁদের নাম উল্লেখ করেননি।
দেশ রূপান্তর
‘প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবতায় সরকারের যাত্রার এক মাস’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মাত্র এক মাসেই প্রতিশ্রুতির পথে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির সূচনা, ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত ভাতা চালু, খাল পুনঃখননের মতো উদ্যোগগুলো সরকারের প্রথম মাসেই পরিবর্তনের বার্তা খুঁজছেন অনেকেই।
পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানো থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, কূটনৈতিক তৎপরতা ও ভিআইপি প্রটোকল কমানোর বিষয়গুলো ‘দিকনির্দেশনামূলক সূচনা’ হিসেবে দেখছেন তারা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সূচনাকে টেকসই সাফল্যে রূপ দিতে প্রয়োজন ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন। পাশাপাশি দুর্নীতিকে শক্ত হাতে দমন করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সরকার গঠনের পর সংসদীয় দলের প্রথম সভায় বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দলটির কোনো এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। আর তাতেই অভিনন্দন আসে জনগণের পক্ষ থেকে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি আবার চালু করে বিএনপি পাচ্ছে ভূয়সী প্রশংসা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের দীর্ঘ পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি সরকারকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে আসবে। প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। কর্মপরিকল্পনা অনেক, সবগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে।’
পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক মাসেই কিছু প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ লক্ষ করা গেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

no need
২ মাস আগেBazar er jonno katoo Taka ''Chada'' naan Santrasi Bahini ?
Bangladesh-e Onek Manush onek Ochacheton.