এনবিআরের উদ্যোগ: ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে উৎকণ্ঠা

সহযোগীদের খবর

এনবিআরের উদ্যোগ: ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে উৎকণ্ঠা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে উৎকণ্ঠা’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেসব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে, তাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও নাম রয়েছে। ব্যবসায়ী মহলে এসব ব্যবসায়ীর রয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি। আবার তালিকায় এমন কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে, যাঁদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফলে এ তালিকা নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

শেল্‌টেক্‌ গ্রুপ ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ ও তাঁর মা রাশিদা আহমেদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেছে এনবিআর। এই দুজনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক, আবাসনসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শেল্‌টেক্‌ গ্রুপের দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। তাঁর বাবা দেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর মালিকানাধীন এনভয় গ্রুপের সঙ্গে একসময় ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর ছেলে। সাড়ে চার বছর আগে ব্যবসায়িকভাবে তাঁরা আলাদা হলেও সালাম মুর্শেদীর এনভয় গ্রুপের সঙ্গে আগের সূত্র ধরেই তানভীর আহমেদ ও তাঁর মায়ের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেছে এনবিআর।

জানতে চাইলে শেল্‌টেক্‌ গ্রুপের এমডি তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে তালিকায় নাম দিলে হয়রানির ঘটনা ঘটত না। আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের আজকের অবস্থানে আসতে ৪০ বছর সময় লেগেছে। অভিযোগ থাকলে আমাদের সঙ্গে কথা বলা যেত। আমরা যদি সহায়তা না করতাম, তাহলে ব্যবস্থা নিত। আশা করি, দ্রুত যাচাই করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।’

এনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে এনবিআর। একই সঙ্গে সালাম মুর্শেদী, তাঁর স্ত্রী শারমিন সালাম এবং মেয়ে শেহরীন সালামের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর সালাম মুর্শেদী গ্রেপ্তার হলে তাঁর দুই সন্তান শেহরীন সালাম ঐশী ও ইশমাম সালাম বর্তমানে ব্যবসা দেখভাল করছেন।

পোশাক খাতের আরেক শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন ও তাঁর সন্তানদেরও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তাঁদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। আবার তুসুকা গ্রুপের একজন শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অস্থিরতা চলছে। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে গত রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে শিল্পমালিকেরা গত সপ্তাহে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে। সেখানে তিনি শ্রমিকদের এ আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন।

উদ্যোক্তা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে সংসদ সদস্য থাকার সূত্র ধরে গ্রুপটির অন্য তিনজন উদ্যোক্তাসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। যদিও এই তিন উদ্যোক্তা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের একজন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আরশাদ জামাল। ব্যবসায়ী মহলে উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁরও রয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি। পোশাকের বাইরে এই গ্রুপটি এয়ারলাইনস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সব সরকারের আমলেই পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনে বাইরে থেকে ইন্ধনের অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে এ প্রবণতা বেশি ছিল। তখন দেশি-বিদেশি ইন্ধনের অভিযোগও করা হতো। যদিও এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সামনে আনা হতো না। এবার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনা নজিরবিহীন। এভাবে ঢালাও পদক্ষেপ না নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাতে কারও আপত্তি থাকত না। এভাবে ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও সামনে আসত না।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অস্থিরতা চলছে। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে গত রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে শিল্পমালিকেরা গত সপ্তাহে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে। সেখানে তিনি শ্রমিকদের এ আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন।

গত সোমবার সচিবালয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা যাঁরা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরাও অস্থিরতা সৃষ্টি পেছনে কাজ করেছেন। দুঃখজনক বিষয় হলো এর পেছনে কিছু শিল্পমালিক জড়িত। সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এর সঙ্গে জড়িত আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর গত সপ্তাহে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় এনবিআর। এর মধ্যে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা। এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (আইটিআইআইইউ) ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) পৃথকভাবে এই তালিকা করেছে। এর মধ্যে আইটিআইআইইউর একটি তালিকা প্রথম আলোর কাছে এসেছে। এতে দেখা যায়, ১১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭ জন ব্যবসায়ী। আর প্রতিষ্ঠানগুলো সাতটি শিল্প গ্রুপের; যার মধ্যে একাধিক গ্রুপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৬৭ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ৬ জন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে সংসদ সংসদ ছিলেন। দুজন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পদে ছিলেন। এই আটজনের স্ত্রী, ভাই ও ব্যবসায়ী অংশীদারদের নামও রয়েছে তালিকায়। এর বাইরে একটি অংশ শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী।

জানতে চাইলে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। তবে ভালো করে তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিলে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলবের মতো উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও থাকে তাতে। সরকারের প্রতি আহ্বান, প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়েন।

রাজনৈতিক যোগসূত্রকে প্রাধান্য

পোশাক খাতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের একটি মণ্ডল গ্রুপ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে তারা। এ গ্রুপে কাজ করেন প্রায় ৫০ হাজার কর্মী। গ্রুপটির ২৮টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মমিন মণ্ডল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আলিম মণ্ডল, পরিচালক জোবায়ের মণ্ডল, আসাদুর রহমানসহ ১৯ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসন থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান আবদুল মমিন মণ্ডল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে।

চট্টগ্রামের ওয়েল গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলবের পাশাপাশি গ্রুপটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ তারিকুল ইসলামসহ ১১ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর ভাই সৈয়দ নুরুল ইসলাম আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা ছিলেন, বর্তমানে কারাবন্দী। ওয়েল গ্রুপের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ব্যবসা রয়েছে।

এ ছাড়া গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও গ্রুপের চেয়ারম্যান খতিব আবদুল জাহিদসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। আবদুল জাহিদ আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা বিজিএমইএ নেতারাও জানেন না।

উত্তরার নিপা গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও গ্রুপের চেয়ারম্যান খসরু চৌধুরীসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। খসরু চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে আছেন।

এ ছাড়া বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুল মান্নান ও তাঁর পরিবারের সদস্য ফরিদা মান্নানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর। মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্য ফরিদা ইলিয়াসের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।

স্বচ্ছ ব্যবসায়ীরাও তালিকায়

আশির দশকে যাত্রা শুরু করা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক শিল্প গ্রুপ। গ্রুপটির তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব তলব এবং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও আতিকুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাসনাত মোশাররফসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এমডি হাসনাত মোশাররফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনবিআর খুবই অন্যায্যভাবে আমাদের নাম তালিকায় দিয়েছে। আমরা কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। অন্য অনেক কারখানার পাশাপাশি আমাদের কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে নেমেছেন। তার মানে এই নয় যে আমরা শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছি। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ায় তুসুকা গ্রুপও বিপদে পড়েছে। গ্রুপের ১০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব এবং পরিচালক ফয়জুর রহমান, আরশাদ জামাল, রেফায়েত উল্লাহ, ফিরোজ আলমসহ নয়জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফয়জুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এখন অন্য অংশীদারেরা ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুসুকা গ্রুপের একজন পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে একটা অংশ বেতন পাননি। কারণ, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। কারখানায় ২০–২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। একদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রুপের চার উদ্যোক্তার একজন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্য তিনজন কখনো রাজনীতি করেননি। তাঁদেরও ব্যাংক হিসাব জব্দ। এ ধরনের উদ্যোগে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ আনার আগে ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত। এরপরই ব্যবস্থা নেওয়া যুক্তিযুক্ত। আমরা এখনো পুরো তালিকা পাইনি। এরপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগ করব।’

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তিস্তার দুর্বল শাখা বন্ধের চিন্তা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তার দুর্বল শাখা নদীর প্রবাহ বন্ধ করে মূল চ্যানেলকে স্থিতিশীল করার সম্ভাবনা যাচাই করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য শাখা চ্যানেলে আড়াআড়ি কাঠামো নির্মাণ, পলি আটকে রাখা ও নদী খননের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর প্রবাহ নির্দিষ্ট চ্যানেলে কেন্দ্রীভূত করে ভূমি উদ্ধারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। এ কাজে স্থিতিশীল চরে আইনগতভাবে বসবাসরত মানুষকে স্থানান্তর করতে হলে পুনর্বাসন, সামাজিক অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কত ব্যয় হবে, তাও নিরূপণ করা হবে।

তিস্তা অববাহিকার সমন্বিত ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাবনায় এসব বিষয় রেখেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সমীক্ষায় ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে শাখা চ্যানেল বন্ধ, ভূমি উদ্ধার কিংবা বাসিন্দাদের স্থানান্তরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পাউবোর মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন যুগান্তরকে জানান, কারিগরি কমিটির তৈরি প্রাথমিক ধারণাপত্র পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এটি সমীক্ষা প্রস্তাব। সমীক্ষা শেষ হতে দেড় বছর লাগবে। এর সুপারিশের ভিত্তিতেই তিস্তা ব্যারাজের মূল কাজ এগোবে। অর্থাৎ, মূল কাজ শুরুর জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্যারাজ নির্মাণে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের যে হিসাব এখন করা হচ্ছে, তা চূড়ান্ত নয়। প্রকৃত ব্যয় বাড়তে বা কমতে পারে। এগুলো শুধু এখন ধারণা। সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সমীক্ষা করতে চীনের সহযোগিতা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫০ শতাংশ পরামর্শক ও চীনের ৫০ শতাংশ পরামর্শক নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চীন তাদের সিদ্ধান্তের কথা এখনো জানায়নি।

দুর্বল চ্যানেল বন্ধ হবে: সমীক্ষা প্রস্তাবনায় তিস্তার কম সক্রিয় শাখা চ্যানেল বন্ধ বা পরিত্যক্ত করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এজন্য আড়াআড়ি কাঠামো বা ক্রসবার নির্মাণ এবং পলি আটকে রাখার উপযোগী ছিদ্রযুক্ত কাঠামোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। লক্ষ্য হলো নদীর প্রবাহ মূল চ্যানেলে কেন্দ্রীভূত করে তার স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং পলি ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা।

এছাড়া নদীর বিভিন্ন অংশে খনন ও পুনঃখনন, নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, তীররক্ষা, স্পার বা গ্রোয়েন নির্মাণ এবং বাঁধের অবস্থান নির্ধারণের বিষয়ও সমীক্ষায় থাকবে। বিদ্যমান নদীশাসন কাঠামোর অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

কোথায় শাখা চ্যানেল বন্ধ হবে, কী ধরনের কাঠামো নির্মাণ করা হবে কিংবা কতটুকু নদী খনন করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারিগরি কার্যকারিতা, ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব ও সামাজিক পরিণতি বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত বিকল্প সুপারিশ করা হবে।

ভূমি উদ্ধারে স্থানান্তর হতে পারে বাসিন্দারা: নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, খনন ও মূল চ্যানেলে পানি কেন্দ্রীভূত করে ভূমি উদ্ধারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। উদ্ধারযোগ্য জমির ব্যবহার নির্ধারণে ভূমি ব্যবহারের মানচিত্র ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কোন জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং কোনটি সরকারি, তা চিহ্নিত করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল চরে আইনগতভাবে বসবাসরত মানুষকে স্থানান্তর করতে হলে সম্ভাব্য ব্যয় নিরূপণ করা হবে। তাদের জন্য সামাজিক অবকাঠামো, কমিউনিটি সুবিধা ও ইউটিলিটি সেবা পুনঃপ্রতিষ্ঠার খরচও হিসাবের আওতায় আসবে। প্রয়োজনে পুনর্বাসন কর্মপরিকল্পনা ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ও রয়েছে।

তবে প্রস্তাবনায় কোনো নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ বা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেই। এসব বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সমীক্ষার ফলাফল ও সরকারের অনুমোদনের ওপর।

শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটও বিবেচনায়: বর্ষায় অতিরিক্ত পানি, বন্যা ও নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তিস্তা ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে রয়েছে পলি জমা, চর সৃষ্টি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ, প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও নদীশাসনের বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করা হবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, তিস্তা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশ প্রায় ১২০ কিলোমিটার। অববাহিকার আয়তন ১১ হাজার ২৫২ বর্গকিলোমিটার। নদীটি বছরে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টন পলি বহন করে। শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ায় পলি বহনের সক্ষমতা হ্রাস পায়। এতে নদীর তলদেশ উঁচু হওয়া, চ্যানেল সংকুচিত হওয়া ও চর স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও তীরভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে বর্ষায় বিপুল পানি ও পলির প্রবাহে বন্যা, গতিপথ পরিবর্তন এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প চালু হয় ১৯৯০ সালে। এর পরিকল্পিত কমান্ড এলাকা ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর এবং সেচযোগ্য এলাকা ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নির্ভরযোগ্য পানির ঘাটতি ও পলি জমার কারণে সেচ কার্যক্রম সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত স্থানে পানি সংরক্ষণ, প্রবাহ সরিয়ে নেওয়া এবং অববাহিকার অন্য নদীর সঙ্গে বিদ্যমান খাল নেটওয়ার্কের সংযোগ উন্নত করার সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হবে। তিস্তা ব্যারাজের সেচসুবিধা বাড়ানো এবং ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার সমন্বয়ের বিষয়ও বিবেচনায় থাকবে।

কালের কণ্ঠ

‘ক্রেতাসংকটে ধুঁকছে শপিং মল’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকত রাজধানীর অভিজাত শপিং মলগুলো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলত কেনাকাটা।

এখন দোকান খুলে দিনভর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও মিলছে না আশানুরূপ ক্রেতা। কোথাও বেচাবিক্রি না থাকায় কর্মচারী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব, দেশে মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রসারে রাজধানীর শপিং মলগুলোতে ক্রেতাসংকট তীব্র হয়েছে। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কেউ ঋণ করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন, কেউ বিকল্প পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরো অনেক দোকান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী প্লাজা, ফার্মগেটের গ্রিন সিটি মার্কেট, অর্কিড পয়েন্টসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে কমবেশি একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের ব্যাবসায়িক মন্দা, ক্রেতাসংকট ও আর্থিক লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে শান্তিনগর-কাকরাইলের একসময়ের অভিজাত বিপণিবিতান কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি।

গত ১ অক্টোবর থেকে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর এসব শপিং মল ও মার্কেট ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোশাক, ক্রোকারিজ, স্যানিটারি পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও গৃহসজ্জার সামগ্রীর খুচরা বিক্রি ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ

পর্যন্ত কমেছে। অনেক ব্যবসায়ী পণ্যের ওপর ছাড় দিয়েও আশানুরূপ বিক্রি পাচ্ছেন না। মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী প্লাজার নিচতলায় নাহার অ্যান্ড এক্সক্লুসিভ ফ্যাশন দোকানটিতে মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস বিক্রি হয়। বিক্রেতা মো. বাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্রেতা আসে, তবে গত বছরের মতো বিক্রি নেই।

গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হতো। এখন তা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় নেমেছে। কোনো কোনো দিন ১০ হাজার টাকার পণ্যও বিক্রি হয় না।’

একই মার্কেটের ফ্যামিলি কিচেনের মালিক শাহিন খান গ্লাস, চামচ, বাটি, মাল্টিকুকার, কফি মেকার, রাইস কুকার, ফ্রাইপ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের রান্নার সামগ্রী বিক্রি করেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ! আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন তা আট থেকে ১০ হাজারে নেমেছে।’

শাহিন খান বলেন, ‘আগে যে পণ্যের দাম ৩০০ টাকা ছিল, এখন তা ৪০০ টাকা। গত তিন মাসে তিনবার দাম বেড়েছে। এটাও ক্রেতা কমার কারণ।’

শাহ আলী প্লাজার ম্যাস টেলিকমের বিক্রয়কর্মী মো. রাজু ইসলাম বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে মোবাইল ফোন সেটের বিক্রি কমেছে। ছয় মাস আগে যে ফোন ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৩ হাজার টাকায়। মোবাইল ফোনের চিপ ও র‌্যামের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি মাসে ২৮০ থেকে ৩০০টি ফোন বিক্রি হলেও এখন তা কমে ১৩০ থেকে ১৪০টিতে নেমেছে।

ফার্মগেটের গ্রিন রোডের গ্রিন সিটি মার্কেটেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। স্যানিটারি পণ্যের এই মার্কেটের বেশির ভাগ দোকানে বিক্রেতাদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। দোকান মালিক নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন অনেক দোকানে কর্মচারীও নেই। বিক্রি না থাকায় তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আগে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হতো। এখন তা কমে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় নেমেছে। এমন দিনও যায়, কোনো বিক্রিই হয় না। কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ নিয়মিত ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

ব্যবসা কমার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ কমে যাওয়ায় এসব পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি কমেছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মানুষের আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়েছে। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি খরচ মেটানোর পর পোশাক, গৃহস্থালি ও শৌখিন পণ্য কেনার সামর্থ্য কমেছে। পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটার প্রসারেও প্রচলিত শপিং মলগুলো ক্রেতা হারাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে যে মন্দা চলছে, তা এক দিনে তৈরি হয়নি। ২০১৮ সাল থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সেই সংকট বেড়েছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘৩৮২৫ কোটি টাকার ইভিএম ধ্বংস করা হবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বোঝা হিসেবে পরিচিত সেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো (ইভিএম) অবশেষে ধ্বংস করা হচ্ছে। বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গুদাম ভাড়া গুনতে হিমশিম খাওয়ার পর মেশিনগুলো ধ্বংসের এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে আইনি জটিলতা আছে, এমন যন্ত্রগুলো রেখে দেওয়া হবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভায় ইভিএম নিয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় এ নিয়ে ইসি গঠিত কমিটির প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়। পরে মামলা সংক্রান্ত বিষয় বা আইনি জটিলতা আছে, এমন নির্বাচনে ব্যবহৃত মেশিনগুলো রেখে বাকিগুলো ধ্বংস করার জন্য সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বর্তমান কমিশন। গত ৬ এপ্রিল ইসির ১১তম কমিশন সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইভিএমের ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

দেড় লাখ ইভিএম কিনেছিল ইসি। বর্তমানে তাদের কাছে এক লাখ ৪৮ হাজার ৪০১টি ইভিএম রয়েছে। বাকি এক হাজার ৫৯৯টির কোনো খোঁজ মিলছে না। যেগুলো আছে সেগুলোও দুই বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহার বন্ধ থাকায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এগুলোর সংরক্ষণ বাবদ বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ওয়‍্যারহাউসের বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি দাঁড়িয়েছে। মাঠ পর্যায়ে দেশের ৪১টি জেলার বেসরকারি গুদাম ভাড়া বাবদ মাসে আরও গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

এর আগে ওয়‍্যারহাউস ভাড়া বাবদ পাওনা ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধের তাগাদা দেওয়ার পাশাপাশি এগুলো আর নিজেদের জিম্মায় রাখার বিষয়ে অপারগতা জানিয়ে চিঠিও দিয়েছে বিএমটিএফ। তবে মেশিন সংরক্ষণ বাবদ বছরে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েও পরিকল্পনা কমিশনের সাড়া না মেলায় বিপাকে ইসিও।

অন্যদিকে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের প্রতীক এই ইভিএম প্রকল্পকে ঘিরে এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনের তিন কর্মকর্তাকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। প্রকল্পটিকে ঘিরে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিরীক্ষা (অডিট) আপত্তিও রয়েছে। ইভিএমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসি গঠিত অভ্যন্তরীণ কমিটিও এ নিয়ে কাজ করে প্রতিবেদন দিয়েছে।

২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি ইভিএম প্রথম ব্যবহার করা হয়। পরে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়। ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইভিএমের সমস্যা দেখা দিলে পরে আর কোনো নির্বাচনে বুয়েটের তৈরি ইভিএম ব্যবহার করা হয়নি।

ইত্তেফাক

‘মিলেমিশে ৫৫ কোটি টাকা লুট’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপাতে বিএইচএল পেপার মিলস লিমিটেড কোম্পানির কাগজ ক্রয় করে নিজের ছাপাখানায় নিয়ে আসেন মহানগর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন। কাগজগুলো ছিল এনসিটিবির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক মানের। কিন্তু ছাপাখানায় কাগজগুলো প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে খবর চলে যায় পাঠ্যবই ছাপানো ঘিরে গড়ে ওঠা ‘শক্তিশালী সিন্ডিকেটের’ মূল হোতার কাছে। তিনি আধাঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একটি টিমকে ঐ ছাপাখানায় পাঠিয়ে দেন।

অভিযোগ উঠেছে—এনসিটিবির টিম কোনো ধরনের যাচাই না করেই ‘এই কাগজ পাঠ্যবই ছাপানোর অযোগ্য’ বলে জানিয়ে দেয়। ট্রাকে করে কাগজগুলো আবার ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন গিয়াস উদ্দিন। পরে তিনি সিন্ডিকেটের মূল হোতার প্রতিষ্ঠান (কাগজ বিক্রয়ের এজেন্ট) থেকে আগের কাগজের চেয়ে নিম্নমানের কাগজ কিনে নিমেষেই অনুমোদন পেয়ে যান। আর এজন্য তাকে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়েছে। এভাবে এনসিটিবির এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও ঐ সিন্ডিকেট মিলেমিশে পাবলিকেশনগুলোকে জিম্মি করে এবার ২৫ হাজার টন কাগজ বিভিন্ন ছাপাখানাকে কিনতে বাধ্য করেছে। সেই হিসাবে তাদের পকেটে ঢুকেছে বাড়তি প্রায় ৫৫ কোটি টাকা!

এনসিটিবির পাঠ্যবই ইন্সপেকশনের কাজ পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে উল্লিখিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, গিয়াস উদ্দিন প্রথমে যে কাগজ কিনেছিলেন, তা পরীক্ষা করে সঠিক মান পাওয়া যায়। কিন্তু অজানা কারণে এনসিটিবি তা অনুমোদন দেয়নি। জানা গেছে, সিন্ডিকেটটি যে কাগজ সরবরাহ করছে, তার বাজারমূল্য ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু অনেক ছাপাখানাকে তা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। এদিকে পাঠ্যবই ছাপাতে প্রায় ৮০ হাজার টন কাগজ প্রতি বছর প্রয়োজন হয়। সিন্ডিকেটটি এবারও ৮০ হাজার টন কাগজই অনুমোদনে জিম্মি করতে চেয়েছিল। কিন্তু কিছু ছাপাখানা মালিকের আবার সরকারের ওপরের মহলে যোগাযোগ ছিল, এ কারণে তাদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ৯০০ টন কাগজ অনুমোদন করিয়ে নেয় একটি ছাপাখানা।

জানা গেছে—ঐ ছাপাখানা মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ‘ফ্রেশ পেপার’-এর কাগজ অনুমোদনের আবেদন করেছিল। কাগজের মান ভালো হওয়ার পরও তা আটকে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি ঐ ছাপাখানার মালিক শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী এনসিটিবি কর্মকর্তাদের ডেকে নির্দেশনা দেন যে, যদি কাগজের মান ঠিক থাকে, তাহলে যেন নির্বিঘ্নে অনুমোদন দেওয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট এই ৯০০ টন কাগজ থেকে ‘অনুমোদন বাণিজ্য’ করতে পারেনি। আবার কয়েকটি ছাপাখানা চীন থেকে উচ্চমানের কাগজ এনে পাঠ্যবই ছাপাচ্ছে।

এদিকে ছাপা হওয়া ২ লাখ পাঠ্যবইকে কাগজ-কলমে ‘আড়াই লাখ’ দেখিয়ে অনুমোদন দিতে রাজি না হওয়ায় এনসিটিবির এক ইন্সপেকশন এজেন্টের মালিকের চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছে একটি ছাপাখানার লোকজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ ইন্সপেকশন এজেন্টের মালিক ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধির কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঐ ছাপাখানার লোক আমার বাসায় গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।’ বিষয়টি তিনি এনসিটিবির একজন সদস্যকে অবহিত করেছেন। সার্বিক বিষয়ে জানতে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডিসেম্বরে বই পাবে দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থী :নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে এবার তার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে চায় সরকার। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও ডিসম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন বই দেওয়া হবে। দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি।

সরেজমিনে মাতুয়াইলে ১০টি ছাপাখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিরামহীনভাবে চলছে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ। মেশিনের খটখট শব্দ, কাগজ-কালির মিশ্র গন্ধে মুখর পুরো এলাকা। কোথাও বই ছাপার ব্যস্ততা, কোথাও কাটিং, বাঁধাই আর প্যাকেজিংয়ের ধুম। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী—প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে ৯৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ বই ছাপা শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে বই ছাপার অগ্রগতি ৭২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে স্নাইপার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে সশস্ত্র তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্রের গণ্ডি পেরিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে অত্যাধুনিক রাইফেল, স্নাইপার, মর্টার শেল, নাইট ভিশন সরঞ্জামসহ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাহাড়ের গভীর জঙ্গল ও উঁচু চূড়াকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এসব অস্ত্রের মহড়া, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এতে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠী এবং পর্যটনশিল্পের নিরাপত্তাও নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে।

খাগড়াছড়ির একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন আকরামুল করীম (ছদ্মনাম) নামে এক যুবক। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গহিন পাহাড় অতিক্রম করে তিনি সেখানে পৌঁছান। ইউপিডিএফের (মূল) একজন কমান্ডারের অনুমতি নিয়ে আস্তানায় প্রবেশের পর একটি জুমঘরে তাকে ও তার সাথে থাকা অন্য দু’জনকে মোবাইল ফোন জমা দিতে হয়।

নয়া দিগন্তকে আকরামুল বলেন, সেখানে গিয়ে সশস্ত্র সদস্যদের হাতে যেসব আগ্নেয়াস্ত্র দেখেছেন, তা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। সবুজে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ের ভেতরে এত আধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র কিভাবে পৌঁছাল, সেটিই তার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বর্ণনা অনুযায়ী, অন্তত ১০ জন সশস্ত্র সদস্যের কাছে একে-৪৭, মর্টার শেল এবং নাইট ভিশন সুবিধাযুক্ত স্নাইপার রাইফেলের মতো অস্ত্র ছিল। এসব অস্ত্র সাধারণ সংঘর্ষের চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম।

আকরামুলের দাবি, শুধু ইউপিডিএফ নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছেও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক অস্ত্র রয়েছে। তার ভাষায়, পাহাড় এখন আর আগের মতো নিরাপদ নেই। এর পেছনে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্টতা, সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক জাতিগত রাজনীতির জটিল সম্পর্ক রয়েছে। দুর্গম ও অরক্ষিত সীমান্তপথ ব্যবহার করে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল এবং ভারতের মিজোরামসহ আশপাশের এলাকা থেকে অস্ত্র প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি বলেন, এর আগে আরাকান আর্মি, কুকি-চিন, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সদস্যদের সাথে তার দেখা হয়েছে। তবে স্নাইপার রাইফেল এবারই প্রথম দেখেছেন। তার ধারণা, পাহাড়ের উঁচু চূড়া থেকে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এসব অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে। অন্ধকারে অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে অস্ত্রের সাথে নাইট ভিশন ক্যামেরা বা বিশেষ অপটিক্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

স্নাইপার ও ভারী অস্ত্রের নতুন উদ্বেগ

পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে একে-৪৭, এম-৪ কার্বাইন, জি-৩ রাইফেল, এসএলআর, এসএমজি, চায়না রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, লাইট মেশিনগান, হেভি মেশিনগান, গ্রেনেড, ৪০ এমএম গ্রেনেড লঞ্চার, রকেট লঞ্চার, মর্টার শেল এবং বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রিমোট কন্ট্রোল বোমা ও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহারের তথ্যও সামনে এসেছে।

খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল), ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এবং কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টসহ (কেএনএফ) বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব সংগঠনের অস্ত্রভাণ্ডার এখন আর দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র বা সাধারণ পিস্তলে সীমাবদ্ধ নেই।

সম্প্রতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা থেকে স্নাইপার রাইফেল এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্নাইপার রাইফেলের মতো অস্ত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছানো পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, প্রশিক্ষিত ব্যবহারকারীর হাতে এ ধরনের অস্ত্র থাকলে অনেক দূর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। পাহাড়ের উঁচু অবস্থান, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আক্রমণকারীদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্নাইপার রাইফেল পরিচালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা প্রয়োজন। ফলে শুধু অস্ত্র উদ্ধারই নয়, এসব অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অস্ত্রের মহড়ায় অশান্ত পাহাড়

পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা তিন পার্বত্য জেলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে তৎপর। অতীতে বিভিন্ন অভিযানে তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র নিয়ে তাদের এই তৎপরতা পার্বত্য জেলাগুলোকে অশান্ত করে তুলছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সবসময় সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিন পার্বত্য জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো অপরাধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা সঙ্ঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। বিপুল অস্ত্রের মজুদ ও অবৈধ অর্থের প্রবাহের কারণে কোনো কোনো গোষ্ঠীর মধ্যে পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত আকাক্সক্ষা তৈরির আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে স্বাধীন জুমল্যান্ড প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষার কথাও বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করেছে। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য থাকা জরুরি।

বণিক বার্তা

‘প্রায়শই শিক্ষার্থী বাড়িয়ে দেখায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো!’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় প্রকৃত শিক্ষার্থী কত, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। প্রতিষ্ঠানের নথিতে যত নাম, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সে সংখ্যক শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। কোথাও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে একই শিক্ষার্থীকে ভর্তি দেখানো হচ্ছে একাধিক প্রতিষ্ঠানে। আবার কোথাও বিদ্যালয় একীভূতকরণ এড়াতে বাড়িয়ে লেখা হচ্ছে সংখ্যা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র। আট বিভাগের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তার মতে, প্রায়শই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর ঘটনা ঘটছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয়।

দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭, যা প্রাথমিক স্তরের মোট প্রতিষ্ঠানের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদ্যালয়গুলোয় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২। অর্থাৎ এ স্তরের মোট শিক্ষার্থীর ৫২ দশমিক ৬ শতাংশই সরকারিতে পড়ে। তবে এ পরিসংখ্যানের যথার্থতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ। দেশের আটটি বিভাগে গত সাত মাসে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর তৈরি করা হয় ‘ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার ব্রিফিং’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন। তাতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আট বিভাগে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ২ হাজার ৩৫০টি আলোচনা সভা বা সেশনে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার পাঁচটি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলোয় প্রায়ই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর ঘটনা ঘটে। তাদের ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ এটিকে গুরুতর এবং ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মাঝেমধ্যে ঘটে এমন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা নতুন নয়। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ, বিদ্যালয় একীভূতকরণ বা সংযুক্তি এড়ানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ এর অন্যতম।

জেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় হাজিরা খাতায় থাকা শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাস্তব উপস্থিতি ও প্রকৃত সংখ্যার অসংগতি দেখা যায়। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে হয়তো কেউ কেউ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। অনেক অভিভাবক সন্তানকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে রাখার পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন বা মাদরাসায়ও পড়ান। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্তি এড়াতেও এমনটি করে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের মার্চে ঘোষণা দিয়েছিল, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর কম, সেগুলো পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। এ সিদ্ধান্তের পর প্রাথমিকভাবে ৩০০টি বিদ্যালয় চিহ্নিত করে সংযুক্তির নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্তের পর কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪-এর তথ্যেও সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, ২০২০ সালে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার ছিল ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সেক্টর পারফরম্যান্স রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ৩৫ হাজার ৮৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০ বা তার কম। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭ জন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষকরা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বা অর্থ আত্মসাতের জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখান, এমন ধারণা সঠিক নয়। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর কম, সেগুলো পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্ত এড়াতে কোথাও কোথাও হয়তো শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। বিদ্যালয় সংযুক্ত হলে শিক্ষকদের চাকরি হারানো বা বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় জমিদাতা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কা করেন। জন্মহার হ্রাস এবং করোনাকালে অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিকভাবেও শিক্ষার্থী বাড়ছে না। এসব কারণে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জমিদাতাদের চাপের মুখে শিক্ষকরা অনেক সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে বাধ্য হন।’

একীভূতকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের চাকরিতে কোনো সমস্যা তৈরি না করে ৫০ জনের কম শিক্ষার্থী থাকা বিদ্যালয়গুলোকে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্তের উদ্যোগকে আমরা নেতিবাচকভাবে দেখছি না। তবে এ ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক সচেতনতা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘প্রয়োজনের অর্ধেক শিক্ষক সরকারি মেডিকেলে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকসংকটে ভুগছে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো। কোনো কোনো কলেজে অনুমোদিত পদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শূন্য। পাঁচ শ্রেণির পদ মিলিয়ে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৪৭ শতাংশ পদ খালি। এতে চিকিৎসাবিদ্যার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাঠদান, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক তত্ত্বাবধানের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের চলতি মাসের তথ্য অনুযায়ী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কিউরেটর ও প্রভাষক—এই পাঁচ শ্রেণির পদে অনুমোদিত জনবল ৬ হাজার ৫৫৫ জন। কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৫০৩ জন। অর্থাৎ শূন্য পদ ৩ হাজার ৫২টি। গত বছরের জুলাইয়ে অনুমোদিত ৬ হাজার ৩৮৪ পদের মধ্যে শূন্য ছিল ২ হাজার ৭২৫টি। সে হিসাবে এক বছরে পরিস্থিতির কিছুটা অবনতিই হয়েছে।

সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) এবং ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) কোর্সে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। পুরোনো কয়েকটি কলেজে ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি), মাস্টার অব সার্জারি (এমএস), ফেলোশিপ অব দ্য কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (এফসিপিএস), মাস্টার অব ফিলোসফি (এমফিল) ও ডিপ্লোমা কোর্সও চালু রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতায়।

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, মেডিকেল শিক্ষায় সাধারণ নীতিমালা অনুসারে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক এবং প্রতি ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত ১ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষক থাকার কথা।

কোন পদে কত খালি

শিক্ষকসংকট সবচেয়ে বেশি জ্যেষ্ঠ পদগুলোতে। অধ্যাপক পদে অনুমোদিত ৮৮৯টির মধ্যে শূন্য ৫৮৫টি বা ৬৬ শতাংশ। সহযোগী অধ্যাপকের ১ হাজার ৬৮০টি পদের মধ্যে ৯২৮টি (৫৫ শতাংশ) এবং সহকারী অধ্যাপকের ২ হাজার ৫০৪টি পদের মধ্যে ১ হাজার ৩৫৪টি (৫৪ শতাংশ) শূন্য। অন্যদিকে প্রভাষকের ১ হাজার ৪২০টি পদের মধ্যে ১৭৯টি (১৩ শতাংশ) এবং কিউরেটরের ৬২টি পদের মধ্যে ৬টি (১০ শতাংশ) খালি।

নতুন কলেজে শূন্যতার হার বেশি

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, নতুন মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষকসংকট বেশি। ২০০৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ২৩টি কলেজের শিক্ষক, জমি, নিজস্ব ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুরা মেডিকেল কলেজে অনুমোদিত ৮৮টি পদের মধ্যে ৫৮টিই শূন্য। শূন্যতার হার প্রায় ৬৬ শতাংশ। কলেজটিতে ১১টি অধ্যাপক পদের ৭টি খালি। ২৩টি সহযোগী অধ্যাপক পদের মধ্যে ১৮টি এবং ২৬টি সহকারী অধ্যাপক পদের মধ্যে ২০টি শূন্য। সরকারি এই কলেজের নিজস্ব একাডেমিক এবং হাসপাতাল ভবনও নেই।

কোর্স সম্পন্ন করতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোনো কোর্স অসম্পূর্ণ রাখা যায় না। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। বিষয়টি আমরা প্রতি মাসেই কর্তৃপক্ষকে জানাই। তাঁরা শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের চেষ্টা করছেন।’

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ১৮টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে কর্মরত ৪ জন। ৪৬টি সহযোগী অধ্যাপক পদের মধ্যে ৩৩টি এবং ৬৭টি সহকারী অধ্যাপক পদের মধ্যে ৪৯টি শূন্য। কিউরেটরের দুটি পদই খালি।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৯৩টি পদের মধ্যে ৫৫টি, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ১০৯টির মধ্যে ৬৮টি এবং ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৮৭টির মধ্যে ৫৪টি পদ শূন্য। হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজে কোনো অধ্যাপক কর্মরত নেই।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কিছু বিষয়ে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক ও ডিগ্রিধারী পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও পদোন্নতির প্রক্রিয়াও ধীরগতির। সীমিত শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।’

পুরোনো কলেজেও সংকট কাটেনি

পুরোনো এবং বড় মেডিকেল কলেজগুলোতেও শিক্ষকসংকট রয়েছে। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ৩৪৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২০৭টি শূন্য। এগুলোর মধ্যে অধ্যাপকের ৫৪টি পদের ৪৫টি এবং সহযোগী অধ্যাপকের ৮২টির মধ্যে ৪৯টি খালি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৪২৫টি পদের মধ্যে ১৬৬টি শূন্য। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৩৫০টির মধ্যে ১৮৩টি, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ৩৫৭টির মধ্যে ১৭৮টি, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ৪৮৬টির মধ্যে ১৮২টি এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ৩৭৮টির মধ্যে ১৫৫টি পদ খালি।

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও ফার্মাকোলজির মতো মৌলিক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকট রয়েছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের আগ্রহী করতে নন-প্র্যাকটিসিং ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ে পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ নেওয়া চিকিৎসকদের প্রেষণে এনে প্রভাষক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে একাডেমিক কার্যক্রম চালানো গেলেও সংকট কাটছে না। মূল সমস্যা কলেজগুলোর মধ্যে শিক্ষকের অসম বণ্টন।’

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অ্যানাটমি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, ফিজিওলজিসহ মৌলিক আটটি বিষয়ে ২ হাজার ৬৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১ হাজার ৫৬০ জন।

দেশ রূপান্তর

‘রাজনৈতিক’ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অবশেষে যাচ্ছে ভোলায়—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজনীতির পালাবদলে দেশের এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাগ্যও বদলাচ্ছে। টানা ১০ বছর উৎপাদনে না থাকা কেন্দ্রটিকে টঙ্গী থেকে ভোলায় সরিয়ে নিচ্ছে সরকার। রাজধানীর লোডশেডিং কমাতে একসময় যে কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিই পরে হয়ে ওঠে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতীক। খুব সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি না সারিয়ে ফেলে রাখা হয় টঙ্গী ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। গ্যাস না থাকার অজুহাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও রাজধানীর আশপাশেই বড় বড় গ্যাসচালিত কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

পিডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, টঙ্গীর পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভোলায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে সরকার। চলতি বছরের মধ্যে ভোলায় কেন্দ্রটি স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে তারা।

পিডিবি সূত্র বলছে, টঙ্গী ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বৈরী রাজনীতির শিকার। বিগত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর টঙ্গী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার লোডশেডিং কমানো। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা হারায়। আর এতেই একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বৈরী রাজনীতির কোপে পড়ে। কেন্দ্রটি নির্মাণ পর্যায়ে দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে দুদক মামলাও করে। এমনকি এই মামলার বিচারও শেষ হয়।

বিগত সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতের কথা উঠলেই চারদলীয় জোট সরকারের সময় নির্মাণ করা এই টঙ্গী কেন্দ্রটির কথা বলা হতো। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী একাধিকবার এই কেন্দ্রটির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের সময়ে এই একটি কেন্দ্র ছাড়া আর কোনো কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টঙ্গী বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে একটি পলিটিক্যাল কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হতো। ফলে কেন্দ্রটিতে একবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা আর ঠিক করা হয়নি। ইচ্ছা করেই এটি করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কারণ হিসেবে এই কর্মকর্তা বলেন এই কেন্দ্রটি চলছে না, এটি দেখানো গেলে আগের সরকার যা করেছে, তা ঠিক ছিল না, তা প্রমাণ করা সহজ হয়। বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা যে শুধু আগের সরকার করেছে তা নয়, এখনও করা হচ্ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের সূত্র ধরে বলেন, এখনও কিছু কেন্দ্রের বিষয়ে একই মনোভাব দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, এই কেন্দ্র জোর করে নির্মাণ করা হয়েছে।

টঙ্গী বিদুৎকেন্দ্রটির প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ ১ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে ৩ টাকা ২ পয়সা। কিন্তু এরপরও দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ করে রাখা হয়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। পিডিবি এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে খরচ করছে ১২ টাকার মতো। সেখানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরও এই কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয় বলে জানা গেছে।

টঙ্গী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর কেন্দ্রটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কেন্দ্রটি আর আগের মতো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। দেখা যায়, ২০১৮ সালে কেন্দ্রটি সীমিত পরিসরে চালু হলেও পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। কেন্দ্রটিকে পিডিবির জন্য বাড়তি বোঝা হিসেবে উল্লেখ করেছেন পিডিবির কর্মকর্তারা। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী রাখতে হচ্ছে। আবার নিয়মিত সংস্কারও করতে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে কোনো কোনো বছর কেন্দ্রটির পেছনে ৪০ কোটি টাকা খরচ করেছে পিডিবি। কিন্তু এর বিপরীতে এক ইউনিট বিদ্যুৎও উৎপাদন করা হয়নি। উল্টো কেন্দ্রটি পাহারা দিতে গ্রিড থেকে লাখ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ নিয়েছে পিডিবি।

পিডিবির হিসাব বলছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে পিডিবির এই কেন্দ্রটি ৩৫৮ দশমিক ৭১ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তখন প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ পড়ে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। এরপর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৩৪.৩৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ১ টাকা ৫৪ পয়সায়, ২০০৯-১০ এ ২৫.৩৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ২ টাকা ৭৪ পয়সা, ২০১০-১১ তে ২৬৮.১ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ২ টাকা ৭৪ পয়সায়, ২০১১-১২ তে ৪৩৪.১৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ২ টাকা ৭৪ পয়সায়, ২০১২-১৩ তে ২ টাকা ৭৫ পয়সা ব্যয়ে ৩৩৮.২৪ কিলোওয়াট আওয়ার, ২০১৩-১৪ তে ১১৫.০৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ৮ টাকা ৩১ পয়সায়, ২০১৪-১৫ তে ১৭৪.৩৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ৩ টাকা ৫৬ পয়সায় এবং ২০১৫-১৬ তে ১৬.৯৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার ৩ টাকা ৫৬ পয়সায় উৎপাদন করে কেন্দ্রটি। এরপর ২ বছর কেন্দ্রটি বন্ধ ছিল।

আবারও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কেন্দ্রটি চালু করা হয়। তখন কেন্দ্রটি ২১.৫৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয় ১৬ টাকা ১৩ পয়সা। এরপর কেন্দ্রটি আর চালানো হয়নি। কেন্দ্রের যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তাও আর ঠিক করা হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গ্যাস সংকটের কারণে টঙ্গী কেন্দ্রটি চলছে না বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু সাবেক সরকার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অন্তত চারটি ৪৫০ মেগাওয়াটের গ্যাসচালিত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক পিডিবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, টঙ্গী কেন্দ্রটি ভোলায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রটি অনেক দিন ধরেই বন্ধ। এখানে মূলত গ্যাসের ঘাটতি থাকলেও কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। সেগুলো ঠিক করার জন্য কেন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল না আসায় কেন্দ্রটির যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক করা যায়নি।

জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট এখানেই। আমরা কেন্দ্র নির্মাণ করি কিন্তু সেগুলো ঠিকমতো চলছে কি না, তা দেখি না। আবার নতুন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন কারা, এসব কাজ করে, তা খুঁজে বের করা উচিত।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘নাশকতাকারীদের টার্গেট পুলিশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের সময় দলছুট হয়ে পড়েন কনস্টেবল মো. সাইমন। এ সময় আন্দোলনের মধ্যে থাকা নাশকতাকারীরা ওই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন এবং তার কাছ থেকে সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবারের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্যকে মারধর করা কেউ শ্রমিক নন বলে জানায় পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সকালে কুর্মিটোলায় মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন ও মিছিল করার সময় পুলিশের একটি টহল গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। একই দিন রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের ৩ নম্বর গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশকে টার্গেট করে শুধু এ ঘটনাগুলোই নয়, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কোথাও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হচ্ছে। আবার কোথাও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। ভাঙচুর করা হচ্ছে পুলিশ বক্স। রাজধানীর মিরপুর, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও নাশকতার ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। সাভারে ওসির গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই পুলিশকে টার্গেট করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। কারণ পুলিশ আবার দুর্বল হয়ে গেলে নিষিদ্ধদের আসল টার্গেট বাস্তবায়ন সহজ হবে।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টে নাশকতা আশঙ্কায় সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। এমনকি দু-একটি রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশও অধীনস্ত সদস্যদের উদ্দেশে বিশেষ সতর্কবার্তা দেয়। যা তখন ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। আগস্টে কিছু ঝটিকা মিছিল ও ককটেল হামলা করা হলেও সেপ্টেম্বরে সেটি চরম আকার নেয়। রাজধানীজুড়ে ককটেল হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগ শুরু হয়। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ও কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুন দিয়ে পুলিশের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। যে চেষ্টা আর থামেনি। যতই সময় গেছে নানাভাবে পুলিশকে আক্রমণ করা হচ্ছে। সবশেষ পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে ঢাল বানিয়ে পুলিশকে ও বাহিনীর স্থাপনাকে টার্গেট করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শিল্পাঞ্চলে পুলিশ আক্রান্ত শুরু হওয়ার পর আবারও নতুন করে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। সেই সঙ্গে নাশকতায় অর্থদাতা, ইন্ধনদাতা ও উসকানিদাতাদের তালিকা করা হয়েছে। আরও নতুন কোনো ইস্যুকে সামনে রেখে নাশকতাকারীরা যাতে তৎপর হতে না পারে সেজন্য প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ, ডিবি, এসআরবিসহ বিভিন্ন ইউনিট নাশকতায় সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে। শিল্পাঞ্চল ছাড়া অন্য কোথাও নতুন করে কেউ তৎপর হচ্ছে কি না তা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সারা দেশে পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ৪৪০টি। এর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৪২টি করে ঘটনা ঘটেছে। মার্চে পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩টিতে। এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ৬৬টিতে পৌঁছায়, যা ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মে মাসে ৫৫, জুনে ৪৯, জুলাইয়ে ৪২, আগস্টে ৪১ ও সেপ্টেম্বরে ৪০টি ঘটনা ঘটেছে।