সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল দুপুরে মহাখালীর ডিবিসি কার্যালয় থেকে তাকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে তুলে আনেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অপরাধ বিভাগের প্রধান প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। বলেন, দুপুরে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবিসি কার্যালয়ে যাওয়ার পর সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাকে ডিবিতে আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। তবে কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটার কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, মূলত একটি নিউজ প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তাদেরকে ডিবি অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ইকবাল সোবহান হোসেন চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেয়ার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহাখালীর ডিবিসি কার্যালয় থেকে বের হয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ওই সময়ে আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। ওই সময়ে আশপাশের কিছু লোক বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। আর চারপাশ থেকে সাধারণ মানুষ ও অফিস স্টাফরা পুরো ঘটনা তাদের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। কারোর সঙ্গে তেমন কোনো কথা না বলেই ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি পুলিশের কালো রঙের একটি গাড়িতে উঠে বসেন। ওই সময়ে ডিবিসি’র ক্রাইম হেড রাজীব ঘোষকেও তাদের সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলেন পুলিশ সদস্যরা।
এ বিষয়ে ডিবিসি’র অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদির অনিক বলেন, ডিবিসি অফিস থেকে যখন ইকবাল সোবহান চৌধুরী বের হচ্ছিলেন তখন অফিসের সামনের রাস্তা থেকে তাকে নিয়ে গেছে ডিবি। তবে ঠিক কী কারণে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কেউই বিস্তারিত জানি না। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, জুলাই বিপ্লবের সময়ে যে সব মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে সেই মামলাকে কেন্দ্র করেই ডিবি তুলে নিয়ে যেতে পারে। এরপরও আমরা ডিবিসি’র পক্ষ থেকে জানার চেষ্টা করছি কেন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। রাজীব ঘোষের বিষয়ে তিনি বলেন, মূলত ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যখন ডিবি তুলে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আমাদের সহকর্মী রাজীব ঘোষও অফিসের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন ডিবি’র অফিসাররা তাকে বলেন, আপনি একটু আমাদের সঙ্গে চলেন, চা খাবো। মুক্তাদির বলেন, রাজীব যেহেতু ক্রাইম বিট করেন, ডিবিসি’র ক্রাইম চিফ তাই পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। সেই সুবাদে হয়তো তাকে কথা বলার জন্য নিয়ে গেছে। তাকে ধরে নিয়ে গেছে এটা বলা আসলে ঠিক হবে না। তবে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যেভাবে নিয়ে গেছে সেই ক্ষেত্রে বলা যায় তাকে ধরে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও ডিবিসি নিউজের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলে ওমরা পালনে সৌদি আরব যাওয়ার সময়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠায় ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে এই বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি জিডিও করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলায় আসামি করা হয় তাকে। বর্তমানে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ইংরেজি পত্রিকা দ্যা ডেইলি অবজারভার-এর প্রকাশক ও সম্পাদকের পদে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে দীর্ঘসময় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ফেনী-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
