ভিডিও কনটেন্ট তৈরির আড়ালে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল পর্নোগ্রাফি মামলায় মামুন গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা একটি মামলায় গত মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামুন দেবহাটা উপজেলার করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, টাকা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১লা নভেম্বর দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সখীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, মামুনকে দ্বিতীয় এবং ভুক্তভোগীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অজান্তে তার দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন সাবেক স্ত্রী। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে পাঠান। এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ই অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাদের কথা না শুনলে হুমকিও দেয়া হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এছাড়া ২৯শে অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে ‘সখীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১লা নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বাদী। সাহেব বলেন, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা দেয়ার পরও তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় মামলা করেছেন। সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।