ট্রাকে করে এক রাতেই ৬ গরু চুরি, দিশাহারা খামারি

ফন্ট সাইজ:

নিজের জমানো টাকা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট গরুর খামার। স্বপ্ন ছিল গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাবেন। কিন্তু এক রাতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। ট্রাক নিয়ে এসে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ২০ লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। খামারের সব গরু হারিয়ে এখন দিশাহারা খামারি তারিকুল ইসলাম ও তার পরিবার।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কয়ারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারিকুল ইসলাম ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম মিঞা জানান, রাতে চোরেরা তারিকুলের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ছয়টি গরু নিয়ে যায়। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। এর আগে কানুহরপুর ও বিষয়খালী গ্রামেও একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত গ্রামবাসী রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। কানুহরপুর গ্রামে বেতনভুক্ত নৈশপ্রহরীও নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিবেশী বসির উদ্দীন জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তারিকুল গরুর খামারটি গড়ে তুলেছিলেন। এই খামার ঘিরেই তার পরিবারের সচ্ছলতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু এক রাতের চুরিতে শেষ হয়ে গেছে তাদের জীবনের সব পরিকল্পনা। খামারি তারিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও গোয়ালঘরে তালা দিয়ে ঘুমাতে যান তিনি। ভোরে উঠে দেখেন গোয়ালঘরের তালা ভাঙা, ভেতরে একটি গরুও নেই। খামারটিই ছিল তার পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এখন ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। এলাকাবাসী সাজেদুর রহমান জানান, গত কিছুদিন ধরে ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার না হওয়ায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, একাধিক আন্তঃজেলা চোরচক্রকে গ্রেপ্তারের পর বেশ কিছুদিন জেলায় গরু চুরি বন্ধ ছিল। আবারো চুরির ঘটনা বেড়েছে। তারিকুলের চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।