১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, রয়েছে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণপত্রও। অথচ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি মানিকগঞ্জের তিন বীর সন্তান। বছরের পর বছর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ধরনা দিয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এবার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির আকুল আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন তারা। বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজেদের দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন তারা। স্বীকৃতিবঞ্চিত এই তিন ব্যক্তি হলেনÑ মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত ওয়াজউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মো. শাহজাহান চৌধুরী, একই উপজেলার কুমারদহ গ্রামের মৃত কাজী আব্দুর রশিদের ছেলে কাজী শরীফ উদ্দিন এবং ঘিওর উপজেলার সিংজুরী গ্রামের মৃত ডা. তালেবর আলীর ছেলে মো. সিদ্দিকুর রহমান বাচ্চু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাদের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সরকারি গেজেটে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আশায় বিগত দিনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো ফল মেলেনি। বার্ধক্যে পৌঁছানো এই তিন লড়াকু সন্তান আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের শেষভাগে এসেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা তাদের প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। শেষ বয়সে এসে অন্ন-বস্ত্রের চেয়েও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়াই এখন তাদের একমাত্র চাওয়া। এ অবস্থায় পুরো বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও জরুরি নির্দেশনা দাবি করেছেন তারা।
প্রমাণপত্র থাকলেও মেলেনি স্বীকৃতি
মানিকগঞ্জে তিন মুক্তিযোদ্ধার সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে
৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
