মাগুরায় সাকের হত্যাসহ দুই মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন

ফন্ট সাইজ:

মাগুরায় চাঞ্চল্যকর সাকের হোসেনকে হত্যা ও ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পৃথক দুই মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের অংশবিশেষ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বুলেট ও খালি কার্তুজসহ বিভিন্ন আলামত। পুলিশের দাবি- পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত দু’টি অপরাধের নেপথ্যের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বুধবার মাগুরা পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ই অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায় তারা।

সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তার কাছে থাকা ১৫০ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)। তাদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা ঢঝজ ও পালসার মডেলের দু’টি মোটরসাইকেল এবং একটি সিলভার রংয়ের টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২১শে অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের মধ্যে মোটরসাইকেলে এসে পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন (৩৬)কে মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)। তাদের কাছ থেকে বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দু’টি মামলায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম। দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১১ জনকে। পুলিশ আরও জানায়, উভয় মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএমের (সেবা) নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।