রায়পুরে ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতাসহ আহত ৩, হামলাকারী আটক

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়াটে ঘাতকের ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী (৬৬), জাহিদুল ইসলাম (১৫) ও খোরশেদ আলম (৩৪)। তাদের মধ্যে এবাদ উল্যা গাজী ও জাহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, খোরশেদ আলম উপেজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় নেয়া হয়েছে।

সুজনের ভাষ্য, তাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি ভাড়ায় এনেছেন। তিনি ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় ফুটপাথে টুপি বিক্রি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাতেই খাসেরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঘটনার জন্য তারা বিবদমান প্রতিপক্ষ শামীম গাজীর পক্ষকে দায়ী করেছেন। পুলিশের কাছে দেয়া বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম সুজন দাবি করেন, এক লাখ টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সেখানে আনা হয়েছে।

আসিফ নামের এক ব্যক্তি এবাদ উল্যা গাজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে যান। আসিফ ঢাকায় ফুটপাথে তার সঙ্গে টুপি বিক্রির ব্যবসা করেন বলেও দাবি করেন সুজন। তিনি বলেন, শামীম গাজী কিংবা এবাদ উল্যা গাজীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঞা বলেন, হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।