বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারার করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমকে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ (লাইফটাইম ব্যান) করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
ব্যারিস্টার মাহিন জানান, জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর বিসিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেয়।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিসিবি দেখতে পায়, জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের মধ্যে দু’টি কাউন্টে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে জাহানারা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিলেন, তদন্ত কমিটি সেগুলোর কোনো সত্যতা পায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিসিবির বোর্ড অব ডিরেক্টরস মঞ্জুরুল আলমকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে তিনি বিসিবি সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে আর সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তা কেন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির আইনজীবী জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিসিবি ‘প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ (POSH) পলিসি বাস্তবায়ন করেছে। পশ গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত তদন্তের কোনো উপাদান বা প্রতিবেদন গণমাধ্যমে কিংবা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করা যাবে না।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এ ধরনের তদন্তে ভুক্তভোগীসহ অনেকের অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য থাকে এবং বহু সাক্ষী জড়িত থাকেন। ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টদের মর্যাদা রক্ষা এবং যাতে কেউ সামাজিকভাবে হেয় বা জনসমক্ষে এক্সপোজড না হন, সেজন্যই নিয়ম অনুযায়ী এটি পুরোপুরি গোপনীয় রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা হয়েছিল। তখন পর্যন্ত বিসিবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ গাইডলাইন’ কার্যকর ছিল না। তবে ওই প্রতিবেদনেই সুপারিশ করা হয়েছিল যাতে দ্রুত এই নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই অনুযায়ী বিসিবি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি একটি ‘ইন্ডিভিজুয়াল কমপ্লেন অ্যান্ড রিড্রেস কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে বিসিবির ওয়েবসাইটেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উল্লখ্য, খেলাধুলাসহ প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে ‘পশ’ (POSH-Prevention of Sexual Harassment) কমিটি গঠন করেছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশের সব ধরনের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট যে ঐতিহাসিক রায় ও দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
