সিনেটের পর প্রতিনিধি পরিষদেও বাজিমাত ডেমোক্রেটদের। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটি ২১৯টি হাউস আসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিম্নকক্ষেও নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। এবিসি নিউজে প্রকাশিত এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদে ২৩২ আসন পেয়েছে ডেমোক্রেটরা।
আর রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৬৭ আসন। প্রাপ্ত ফলাফলের মধ্যে ১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটরা ৫৪টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে, আর রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪৩টি আসন।
উল্ল্যেখ্য এবার নির্বাচন হচ্ছে ৩৫টি সিনেট আসনে। বাকি আসনগুলোতে পূর্বে থেকেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছিলেন। সিনেট ও হাউস—উভয় কক্ষ মিলিয়ে কংগ্রেসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্রেটদের হাতে চলে এসেছে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি মেয়াদে কংগ্রেসের ওপর তাদের জোরালো অবস্থান প্রতিষ্ঠা করল।
ট্রাম্প স্বীকার করেন, ডেমোক্রেটরা ভালো করেছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য বড় প্রভাব ফেলেছে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ক্ষুব্ধ ভোটাররা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্টকে দায়ী করেছেন। সিনেট লড়াইয়ে ডেমোক্রেটরা টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং নর্থ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকান শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও চমকপ্রদ জয় তুলে নিয়েছে—যার মধ্যে কানসাস প্রায় ১০০ বছর পর কোনো ডেমোক্রেটকে সিনেটে নির্বাচিত করল। মিশিগানের আলোচিত প্রার্থী আবদুল আল সায়েদের সিনেট আসনে ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফল এখনো চলমান রয়েছে।
তবে সায়েদ তার সম্ভাব্য জয়ের উদযাপন ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম মার্কিন মুসলিম সিনেট সদস্য। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে ডেমোক্রেটরা আগামী দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনাগুলোতে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে এবং প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও অভিশংসনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
