আলোর অভাবে সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষা

আলোর অভাবে সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষা

ফন্ট সাইজ:

বিকাল ৪টা। অথচ আকাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, সন্ধ্যা নেমে এসেছে। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষ পর্যন্ত আলোই কেড়ে নিলো খেলার সময়। আলোকস্বল্পতায় একবার খেলা বন্ধ হওয়ার পর প্রায় ৫০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার মাঠে গড়িয়েছিল খেলা। তবে আর চার ওভার খেলার পরই দিনের সমাপ্তি টানেন আম্পায়াররা। ততক্ষণে বাংলাদেশের রান ৭৪ ওভারে তিন উইকেটে ২১৩। এক প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ওপেনার সাদমান ইসলাম। ১৯৩ বল খেলে ৯৯ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১০ রানে অপরাজিত লিটন দাস। আজ দ্বিতীয় দিন শুরু হবে সাদমানের শতকের হাতছানি নিয়ে। টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নামে স্বাগতিকরা। তবে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ৯ রানে জেইডেন সিলসের বলে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৭ রান। এরপর সাদমানকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। দু’জন মিলে গড়েন ৫৯ রানের জুটি। ৫১ বলে ২৮ রান করে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুমিনুল। কিন্তু জোমেল ওয়ারিকানের বলে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। পরে অধিনায়ক শান্তও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

৪২ বলে ১৯ রান করে ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাওহীদ হৃদয়। অনুশীলনে আঙ্গুুলে চোট পাওয়ায় একাদশে জায়গা হয়নি মুশফিকুর রহীমের। তার বদলেই সুযোগ পান হৃদয়। দু’জন মিলে ১৬৮ বলে যোগ করেন ৮০ রান। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৭ রান। তবে দিনের শেষভাগে মাংসপেশিতে টান পড়ায় বিপাকে পড়েন হৃদয়। ৬৫তম ওভারে জশুয়া বিশপের বলে ১ রান নেয়ার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেয়া হয় তাকে। ৮৪ বলে চার বাউন্ডারিতে ৪২ রান করেন হৃদয়। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, হৃদয়ের চোট অতটা গুরুতর নয়। আজ ব্যাট করতে পারবেন। এই ব্যাটার হৃদয় মাঠ ছাড়ার পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। তখন সাদমানের রান ৯৬, বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন উইকেটে ২০৭। এরপর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৫০ মিনিট পর খেলা শুরু হলেও চার ওভারের বেশি এগোনো সম্ভব হয়নি। পেসার শামার জোসেফের বোলিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত আলো নেই বলে জানান আম্পায়াররা। শেষ পর্যন্ত ২১৩ রানে দিনের খেলা শেষ হয়। সাদমান তখন ৯৯ রানে অপরাজিত। আলোকস্বল্পতা সাদমানের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির সামনেও সেটাই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আরও এক রাতের অপেক্ষা। গত বছরের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

এরপর শেষ ১৭ ইনিংসে চারটি ফিফটি করলেও কোনোটিকেই তিন অঙ্কে নিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার। আজ সেই বাধা ডিঙানোর একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিলেন তিনি। সাদমান সেঞ্চুরির সুবাস নিয়ে দিন শেষ করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান। দিনের উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল মুমিনুলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা। বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান ৩৩ রান দিয়ে নেন দু’টি উইকেট। সিলসের শিকার একটি, খরচ ১৪ রান। শামার জোসেফ ২৮ রান দিলেও উইকেট পাননি। চেজ ১৩ ওভারে ৫৩ এবং বিশপ ১৯ ওভারে ৫০ রান খরচ করেন।