৩৬ দিন পরও অচলাবস্থা কাটেনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব-বিদ্যালয়ে (চুয়েট)। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, শিক্ষা খাতের অন্য স্তরেও বাড়ছে অস্থিরতা। পাঠ্য বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সংশোধনের সিদ্ধান্তে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ব্যয়ের চাপ। অন্যদিকে, আটকে আছে শিক্ষকদের বদলি। বদলিসহ তিন দাবিতে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরাও। আবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে সংকট।
চুয়েটে টানা ৩৬ দিনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শেষে সীমিত আকারে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষ খুললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের পুরোপুরি অবসান হয়নি। সমস্যা সমাধানে গতকাল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অস্থিরতার পাশাপাশি পাঠ্য বই নিয়েও নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের পর সেটি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বই বিতরণের পর সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ায় প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আসছে। সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ ঘটনায় সোমবার এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর আগের দিনও একজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির বই নয়, প্রাথমিক স্তরের বাংলা বইয়ে ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে। এসব ছবি নিয়ে আপত্তি উঠলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে এনসিটিবি’র কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু নির্ধারণ ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। প্রায় দেড় মাস আগে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদন নেয়া হয়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঢাকায় এসে হার্ড কপিতে আবেদন জমা দিয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরও আবেদন গ্রহণ করেছে। তবে এখনো তিন ক্ষেত্রেই বদলির ফল প্রকাশ হয়নি।
বদলির ফল প্রকাশের দাবির পাশাপাশি বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা নিয়েও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ৪ঠা নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট।
আয়োজকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বদলির আদেশ দ্রুত জারি, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করা।
এসব অসন্তোষের মধ্যেই মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার আন্দোলনের একপর্যায়ে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এর আগের দিন সয়েল টেস্টের জন্য যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতিবাহী গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বদলির আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবো শতভাগ উৎসব ভাতা আদায়ের আন্দোলনের দিকে। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য- এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ।
গতকাল বদলি নিয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুুল হক মিলন বলেন, বদলির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেয়া হবে না। বদলির সুযোগ থাকবে, কিন্তু নিয়মবহির্ভূত সুযোগ বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত করা হবে না। একটি সুশৃঙ্খল সিস্টেমের মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাই। সফটওয়্যারে আবেদন করা হয়েছিল তা ছিল ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ)। শিক্ষামন্ত্রী সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্য বই তুলে দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
