ভুটানকে হারিয়ে শেষ চারে এগিয়ে থাকতে চান ডুলি

ভুটানকে হারিয়ে শেষ চারে এগিয়ে থাকতে চান ডুলি

ফন্ট সাইজ:

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে থাকতে প্রথম ম্যাচেই ভুটানকে হারাতে চায় বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট শুরু করার আগে জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জনই এখন স্বাগতিকদের প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলির বিশ্বাস, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া দল হামজা চৌধুরীকে ছাড়াও জয় তুলে নিতে সক্ষম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা থাকলেও খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা হারাতে রাজি নন তিনি।


গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনের তৃতীয় দিনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ডুলি। হামজা চৌধুরীকে ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততে পারবে কি না- এমন প্রশ্নে ডুলি বলেন, ‘অবশ্যই পারবো। আমি আমার খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি।’ কোচের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে দলের প্রতি আস্থা এবং ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখার প্রত্যয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। এসব আলোচনা খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে কি না- জানতে চাইলে ডুলি বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা সবাই জিততে চাই। নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। দলের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি, যেন খেলোয়াড়রা তাদের পরিবার, সমর্থক ও দেশের জন্য সেরাটা দিতে পারে। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই সাফল্য আসবে।’ ভুটানকে অবশ্য কোনোভাবেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না ডুলি। তার মতে, প্রতিটি দলের বিপক্ষেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিবেচনায় রেখে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব। প্রথম ম্যাচে জয় পেলে শুধু পয়েন্টই মিলবে না, পরের ম্যাচগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দল মানসিকভাবেও শক্তি পাবে। সে কারণে উদ্বোধনী ম্যাচকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এদিকে, দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন তাজউদ্দীন ও আবদুল্লাহ ওমর সজিব। স্কোয়াডে খেলোয়াড় সংখ্যা সীমিত এবং কয়েকজনের চোটের সমস্যা থাকায় বিকল্প প্রস্তুত রাখতেই তাদের ডাকা হয়েছে। টুর্নামেন্টের আগে দলের সবাইকে ফিট রাখা এবং প্রয়োজনে বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও কোচিং স্টাফের ভাবনায় রয়েছে। ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েও সতর্ক ডুলি।

গুরুত্বপূর্ণ এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তার খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। টুর্নামেন্টের আগে বিশ্বনাথের ফিটনেস ফিরে পাওয়া দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিতে চান কোচ। জাতীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলন নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ডুলি। মাঠের সুযোগ-সুবিধা কিংবা অন্যান্য বিষয় নিয়ে নেতিবাচক আলোচনায় সময় না দিয়ে খেলোয়াড়দের মনোযোগ মাঠের পারফরম্যান্সে রাখতে চান এই কোচ। তার ভাবনায় এখন প্রস্তুতি, দলের সংহতি এবং ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা। ২০০৩ সালে সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে ২৩ বছর, কিন্তু আর শিরোপা জেতা হয়নি। এবার ঘরের মাঠে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে দল। তবে শিরোপার লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ ভুটানের বিপক্ষে জয়। ‘এ’ গ্রুপে উদ্বোধনী ম্যাচের পর আগামী ১১ই নভেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মাঝের ম্যাচগুলোর ফলও সেমিফাইনালের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটাতে হলে শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। ডুলি অবশ্য আপাতত দূরের হিসাব না কষে প্রথম ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান। তার বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব। ভুটানের বিপক্ষে জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।