সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘প্রথম অধিবেশনে উত্তাপ ছড়াবে জুলাই সনদ’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনীতির নতুন বিরোধ 'জুলাই সনদ বাস্তবায়ন' নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে এই অধিবেশনে। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যও প্রথম অধিবেশনে নির্ধারণ হবে। প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন।
আজকের অধিবেশনের দলীয় কৌশল নির্ধারণে গতকাল বুধবার সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা আলাদা সংসদীয় দলের বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি- শুরুর বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন। গতকালের বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের অবস্থান অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) সহকারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান অনুযায়ী বিরোধীদলীয় সদস্যরা গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন চান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতিসহ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে মূলত মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এ দুটি পদে ক্ষমতাসীন দল থেকেই সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএনপি।
জুলাই সনদেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়। তবে গতকাল বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠকের পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। সর্বশেষ ওই বছরের ৫ জুন শুরু হওয়া সংসদের বাজেট অধিবেশন ১৯ কার্যদিবস চলার পরে শেষ হয়েছিল ৩ জুলাই রাতে।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক ডাকতে হয়। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন। সাধারণত সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে প্রথম অধিবেশনের সময়কাল ঠিক হবে।
স্পিকারের শূন্য চেয়ার
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পরে কখনোই স্পিকারের পদটি শূন্য থাকেনি। এর আগে এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকারের মেয়াদে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের পরও বিএনপি মনোনীত স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে শুরু হয়েছিল নতুন সংসদ। ওই সংসদের এমপিদের শপথও পড়ান তিনি। এবার অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন শপথ পড়িয়েছেন এমপিদের।
আজ বৈঠকের শুরুতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ নেতা তারেক রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে এই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। ওই বক্তব্যে তিনি কোনো একজন সংসদ সদস্যকে অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করার আহ্বান জানাবেন এবং তাঁর সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বিদ্যমান সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। আর ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শামসুল হক টুকু। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্পিকারের পদ ছাড়েন শিরীন শারমিন, আর ডেপুটি স্পিকার মামলার আসামি হয়ে কারাগারে।
ধারণা করা হচ্ছিল, অধিবেশনের আগের দিন সরকারি দলের সংসদীয় দলের সভায় এটি চূড়ান্ত হতে পারে। কিন্তু ওই সভায় বলা হয়েছে, অধিবেশনের প্রারম্ভিক সভাপতি এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার– এসব কিছুই চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ নেতা প্রারম্ভিক বা স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি বিধি মোতাবেক আহ্বান করবেন।
প্রথম দিনে যা যা হবে
সাধারণত সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পরই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করে সংসদের অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি হয়ে যায়। এরপর সাংবিধানিক নির্দেশনা মেনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। এবারের ভিন্ন পরিস্থিতিতে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দুজনই সাংবাদিকদের বলেন, শুরুতেই সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমান একজনকে সভাপতিত্ব করার আহ্বান জানবেন এবং ‘সেই একজন’ কে হবেন, সেটি তিনিই নির্ধারণ করবেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একজন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। এরপর ওই সদস্য সভাপতিত্ব করবেন। চিফ হুইপ আরও জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নেতার আহ্বানে কোনো একজনের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে। যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে একাধিক প্রার্থী না থাকেন, তাহলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমেই তাদের নির্বাচিত করা হবে। এরপর অধিবেশন কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি হবে। ওই মুলতবি সময়ে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে সংসদ ভবনেই শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।
এরপর সংসদে পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন, কার্যোপদেষ্টা কমিটিসহ কিছু সংসদীয় কমিটি গঠিত হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর বৈঠক মুলতবি করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ৭৬ শতাংশই নতুন। সাধারণত প্রতি সংসদেই উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নিয়ে নতুন এমপিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এবার সংসদ সচিবালয় থেকে নানা উদ্যোগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন স্পিকার না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের ইতোমধ্যে নিজ নিজ দলের উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবে বিরোধী দল
ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রায় সরকার ও বিরোধী দলের মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল শপথ নিয়ে। এমপি হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে এই শপথ থেকে বিরত ছিল বিএনপি।
এরই মধ্যে নতুন সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় তারা সংসদের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংসদের লবিতে অবস্থান নেবেন বলে গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করা হবে কিনা– প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সংসদের বৈঠকে আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।
এর আগে সংসদ প্রাঙ্গণেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এ বিষয়ে তাহের বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাঁকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।
তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ছাড়াই সংসদ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যে কারণে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দল আওয়ামী লীগ ছাড়াই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের অধিবেশন। যদিও এর আগে এরশাদের সময় ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ সংসদ ও খালেদা জিয়ার অধীনে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে দলটি সংসদে ছিল না।
এখনও দু্ই প্রার্থী শপথের বাইরে
সংসদের ৩০০ আসনের দুটিতে নির্বাচনের ফল স্থগিত রয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন বাতিল হয়েছে। নির্বাচনে ভোট বেশি পেলেও ঝুলে আছে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির দুই প্রার্থীর ভাগ্য। সরোয়ার আলমগীর ও মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফল আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে। ফলে তারা প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না।
বাকি ২৯৭ আসনের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপির মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন।
বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে বিরোধী দলে বসছে। অভ্যুত্থানের নেতাদের দল এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে পেয়েছে ছয়টি আসন। জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি আসনে।
প্রথম আলো
‘এত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দরকার আছে কি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এখন ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন। এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তা এর আগে কখনো ছিল বলে জানা যায়নি। তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। এ দুই পদে এত বেশিসংখ্যক নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনবিশেষজ্ঞরা।
এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমরা দেখছি কী করা যায়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল একজন থাকবেন, সংবিধানে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তিনজনের বেশি হবেন না, এটি বলা আছে ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার’-এ। তবে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ঠিক কতজনকে নিয়োগ দেওয়া যাবে, সেটি সংবিধান বা কোনো আইনে উল্লেখ নেই। যে কারণে যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা তাদের পছন্দের আইনজীবীকে এসব পদে ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়োগ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সূত্রমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে) বিভিন্ন সময়ে ৬০ থেকে ৬৮ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ১৪৩ জন। আর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনজন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতে তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আরও নিয়োগ হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান মনে করেন, ৬০ থেকে ৮০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৬০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বেশি দরকার নেই। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগে অনেক ক্ষেত্রেই একটা আশঙ্কা দেখা যায় যে এটা যতটা না প্রয়োজন বা মেধার বিবেচনায় হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার উপজীব্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিটি কোর্ট বা বেঞ্চে, বিশেষ করে মোশন বেঞ্চে (নতুন মামলা) দুই বা তিনজন করে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল থাকতে পারেন বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেন, শুনানির বেঞ্চে (রুল) এক বা দুজনের বেশি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের দরকার হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি মোশন বেঞ্চের জন্য একজন করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দরকার, যেখানে সরকারের (যেসব মামলার সরকারপক্ষ হিসেবে রয়েছে) মামলা বেশি। এর বাইরে রুল শুনানির জন্য যেসব বেঞ্চ রয়েছে—দুটি কিংবা তিনটি বেঞ্চ মিলিয়ে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্বে থাকতে পারেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চ ছিল, পরে দুটি বেঞ্চ হয়। গত জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এর পাশাপাশি আপিল বিভাগের দুটি চেম্বার আদালতেও বিচারিক কাজ চলছে। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে এখন বিচারপতি আছেন পাঁচজন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ৩১ হাজার ১২০টি ও হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১টি মামলা বিচারাধীন ছিল। আর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ৪১ হাজার ৫৫১টি ও হাইকোর্ট বিভাগে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি মামলা বিচারাধীন ছিল।
হাইকোর্ট বিভাগে রয়েছেন ১০৩ জন বিচারপতি। আর বর্তমানে বেঞ্চ (একক ও দ্বৈত) আছে ৬৫ থেকে ৬৭টি। সাধারণত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরকার বা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা লড়েন। অবশ্য কোনো কোনো বেঞ্চে দুজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলও দায়িত্ব পালন করেন। হাইকোর্টের প্রতিটি বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এক বা একাধিক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে সরকার বা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা ও শুনানিতে অংশ নেন।
রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার
প্রভাবমুক্ত স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠনের সুপারিশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশন। সংবিধান সংস্কার কমিশন গত বছরের ১৫ জানুয়ারি আর বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগ্যতা বা দক্ষতা বা সততা নয়, মূলত আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগকে বিবেচনা করা হয় রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে। সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটি স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ আজ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আজ। অধিবেশন বসবে বেলা ১১টায়। গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন জাতীয় নির্বাচনের। ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গঠিত হয় বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার। মূলত এরপরই থেকেই সবাই ক্ষণ গুনছিলেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। অর্থাৎ কবে বসবে স্বপ্নের সেই সংসদ অধিবেশন। আজ সেই স্বপ্ন পূরণের দিন।
এদিকে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত পর্ব সম্পন্ন হবে। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ-সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। আরেকজন সংসদ-সদস্য তার এই প্রস্তাব সমর্থন করবেন। যার নাম প্রস্তাব করা হবে, তার সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। বিদায়ি সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ওই সংসদের ডেপুটি স্পিকার একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় বিকল্প হিসাবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে অধিবেশনের যাত্রা শুরু হবে। এর আগে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর সময় একই পদ্ধতি অনুসরণ করার নজির রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রস্তাব অনুযায়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে দেখা যেতে পারে। তার সভাপতিত্বে প্রথম দিন শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন, সব নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করতে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা না হলে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সবশেষে সংসদের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে এদিন উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন শুরুর পর ২ দিন (শুক্র ও শনিবার) সংসদের বিরতি হবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে। ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ ফের অধিবেশন শুরু হবে। এই অধিবেশনে সংসদ উপনেতা পদে কে বসবেন, কারা হবেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি তা ফয়সালা হবে। এছাড়াও সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের সংসদ-সদস্যদেরও দেখা যাবে এই অধিবেশনে। এর আগে নারী আসনে নির্বাচনসংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন।
অধিবেশনকে সামনে রেখে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। অধিবেশন কক্ষে আসন বিন্যাসের কাজও শেষ। ট্রেজারি বেঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশে বসবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে অধিবেশনের প্রথম দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে জাতীয় সংসদ। ক্ষমতাসীন বিএনপি বলছে, সংবিধান মেনেই রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারকেও শপথ পড়াবেন। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পতিত স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে বলেছে, তার ভাষণ দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটও করার আভাস দিয়েছেন জামায়াতসহ বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যরা। তবে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে কি বলবেন, এ নিয়েও কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা ব্যর্থতা, গণ-অভ্যুত্থান, ছাত্র-জনতার ভূমিকাসহ নানা বিষয় থাকবে রাষ্ট্রপতির ভাষণে, এমন আভাস ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।
কালের কণ্ঠ
‘স্পিকারের আসন খালি রেখে বসছে সংসদ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়। তবে সংসদের এই অধিবেশনে চিরায়ত দৃশ্য দেখা যাবে না। কারণ অধিবেশনকক্ষে সংসদ সদস্যদের আসনগুলো পূর্ণ থাকলেও স্পিকারের আসনটি থাকবে খালি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদে স্পিকার না থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এ কারণে আজ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তৃতা করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সংসদের স্পিকার নির্বাচন সেশন পরিচালনার জন্য (সভাপতি) একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। সেই প্রস্তাব সংসদ সদস্যরা সমর্থন করলে জ্যেষ্ঠ ওই সংসদ সদস্য স্পিকারের আসনে বসবেন এবং সেশন পরিচালনা করবেন। এর জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও উপনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকার নির্বাচনের পর ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। ওই সময়ে নবনির্বাচিত স্পিকার শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন।
শপথ নিয়েই স্পিকার অধিবেশনকক্ষে যাবেন এবং পরবর্তী সেশন পরিচালনা করবেন। তিনি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রস্তাব করবেন। পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাবে গুরুত্ব পাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ‘জুলাই যোদ্ধারা’। তাঁদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ওই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
অধিবেশনের প্রথম দিনই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। ওই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে একটি বিশেষ কমিটি। এই কমিটির সুপারিশের ওপর নির্ভর করছে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য। সর্বশেষ সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। অবশ্য সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল।
ইত্তেফাক
‘নিরাপত্তা না দিলে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি পেট্রোল পাম্প মালিকদের’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশ জুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পর পেট্রোলপাম্পগুলোতে তৈরি হওয়া ভিড় ও অস্থির পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার এক দিকে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে রেশনিং করে তেল সরবরাহের নির্দেশ দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি, বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনাও ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পাম্প পরিচালনা বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিদ্বেশ্বরী সার্কুলার রোডের একটি হোটেলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। পাম্প মালিকরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করছেন। তবে একদিকে সরকার পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলছে, অন্যদিকে সীমা নির্ধারণ করে তেল দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে—এই দ্বৈত অবস্থানের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’—এ ধরনের প্রচারের কারণে মানুষ পাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনেকেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে রাখার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাম্পে হামলা ও কর্মীদের ঝুঁকি: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সমপ্রতি সুনামগঞ্জে এক পাম্প কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের বিক্রির তুলনায় ১০ শতাংশ কম সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে তার চেয়েও বেশি কম দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ সময়ে যানবাহনের সংখ্যা ও তেলের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে বাস্তবে ঘাটতি আরো প্রকট হচ্ছে।
রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার নির্দেশনা নিয়ে আপত্তি
সংবাদ সম্মেলনে রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পাঁচ লিটার অকটেন দেওয়ার সরকারি নির্দেশনার সমালোচনা করা হয়। পাম্প মালিকদের মতে, কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগবে, এতে লাইনে দাঁড়ানো অন্য গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে এবং বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে।
মোবাইল কোর্ট নিয়ে ক্ষোভ
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হলে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। তাদের মতে, কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা তেলের পরিমাণ পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংক ও ডিসপেনসারের মিটার রিডিং যাচাই করলেই অনিয়ম আছে কি না বোঝা সম্ভব।
কৃষি ও জেনারেটর খাতে জটিলতা
পাম্প মালিকরা জানান, শহরের বহুতল ভবনের জেনারেটর ও গ্রামাঞ্চলের সেচ পাম্পের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনা না থাকায় পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালানোর জন্য তেল পাচ্ছেন না বলেও তারা দাবি করেন।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গণ-আকাঙ্ক্ষার সংসদের যাত্রা আজ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। প্রায় দুই দশক পর শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতিতে গঠিত এই সংসদকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা, রাজনৈতিক কৌতূহল এবং নানা আলোচনার আবহ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান হচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী সরকার ও কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি সংসদকে আরো প্রাণবন্ত ও কার্যকর করে তুলতে পারে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে শুরু থেকেই সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী জোট জামায়াত-এনসিপির মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ উত্তাপ সংসদ এবং রাজপথ দুই ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ইতোমধ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করতে পারেন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা।
স্পিকারের চেয়ার খালি রেখেই শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হবে। সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যতিক্রম।
বিগত আওয়ামী লীগ আমলের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে এবার স্পিকারের চেয়ার খালি রেখেই সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংসদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হবে। এরপর সংসদ নেতা কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য। অন্য একজন সংসদ সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করবেন। এরপর প্রস্তাবিত জ্যেষ্ঠ সদস্য অস্থায়ীভাবে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন এবং তার তত্ত্বাবধানেই নতুন স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়ে আলোচনা
সরকারি দল থেকে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নাম আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে বিএনপি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান গতকাল বলেন, ‘জুলাই সনদেই বলা আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাই না। আমরা চাই প্যাকেজ আকারে- জুলাই সনদের সবকিছু বাস্তবায়ন হোক এবং তার ভিত্তিতে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি।’
বণিক বার্তা
‘ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ’-এটি বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তিনি সংসদের স্পিকার নির্বাচনী সেশনে বক্তব্য দেয়ার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। সেই প্রস্তাব সংসদ সদস্যরা সমর্থন করলে ওই সংসদ সদস্য তখন স্পিকারের আসনে বসবেন এবং সেশন পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারি দল থেকে স্পিকার ও বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্পিকার নির্বাচনের পর ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। ওই সময়ে নবনির্বাচিত স্পিকার শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ নিয়েই স্পিকার অধিবেশন কক্ষে যাবেন এবং সেশন পরিচালনা করবেন। তিনি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রস্তাব করবেন। পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
শোক প্রস্তাবে গুরুত্ব পাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদরা। তাদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। প্রথম দিনেই বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। ওই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে একটি বিশেষ কমিটি। যে কমিটির সুপারিশে সেগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। সর্বশেষ সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এ রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পৃথক বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে দলীয় প্রধানরা সংসদ সদস্যদের বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সভায় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ উপনেতা পদে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে স্পিকার পদে আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সংসদ উপনেতা পদে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে বিরোধী দল থেকে নাম প্রস্তাব করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যমান সংবিধানে নির্ধারিত ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে সরকারি দলের দেয়া প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দলের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারদলীয় সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জুলাই সনদে দুটি ডেপুটি স্পিকারের পদের উল্লেখ থাকলেও বিদ্যমান সংবিধানে একটি ডেপুটি স্পিকারের পদ রয়েছে। সেক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগেই ডেপুটি স্পিকার পদে নাম প্রস্তাব করা হবে কিনা, সে বিষয়ে আজ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়েও বৈঠকে আপত্তি জানানোর প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল’। খবরে বলা হয়, বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশনের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে।
সরকারি দল বলছে, সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। তবে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’। তাই তাঁকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার পক্ষে তাঁরা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশনে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বিরোধী দল। তাঁরা বলেছেন, এ নিয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত আজ দেখা যাবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পান মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী আজ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেবেন। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেবেন সংসদ সদস্যরা।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণীর বিষয়ে সংবিধানে বলা আছে, প্রতি সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রতিবছর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ ওই ভাষণের ওপর আলোচনা করবে।
জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এরপর কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি তিনি প্রস্তাব করবেন।
নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর আবার অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল ঘোষণা করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা করা হবে। আইনমন্ত্রী সংসদে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো পেশ করবেন। কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ সংসদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটি প্রথম দিন গঠন করা হবে। তিনি জানান, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংবিধানের আলোকে প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। এরপর অধিবেশন মুলতবি করা হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদে তাঁর (রাষ্ট্রপতি) ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। সংসদীয় দলের বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাঁকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, আমরা পরিষ্কার নই। এই বিষয়ে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেগুলো কালকে (আজ) দেখবেন।’
দেশ রূপান্তর
‘শুরুতেই উত্তাপ ছড়াবে সংসদ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ বৃহস্পতিবার। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশবাসীর প্রত্যাশার অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেড় বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি সংসদকে কার্যকর, গঠনমূলক এবং অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকারি দল ও বিরোধী দল। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সংসদকে কার্যকর করতে সরকার ও বিরোধী দল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুরুতেই উত্তাপ ছড়াবে সংসদÑ এমন আভাসও পাওয়া গেছে।
প্রথম দিনের বৈঠকে কার্য উপদেষ্টা, প্রিভিলেজ কমিটি এবং হাউজ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান চিফ হুইপ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে দিনের অধিবেশন মুলতবি করা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ে বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করে ওয়াক আউট করতে পারে। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর পাঁচ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত করা হবে। এদিকে প্রথম অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে প্রথম অধিবেশনের সময়কাল ঠিক হবে। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে দুদিনের জন্য মুলতবি করা হবে। রবি ও সোমবার অধিবেশন হয়ে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটির জন্য মুলতবি করা হবে। ঈদের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ থেকে আবারও অধিবেশন বসতে পারে। এরপর আগামী এপ্রিল মাস জুড়ে তা চলবে।
সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতীতে সংসদে গালিগালাজ, বাগড়ম্বর ছিল-এগুলো বাদ দিতে হবে। বিরোধী দলকে মর্যাদা দিয়ে অর্থবহ, কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে এ সংসদকে। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
ছাত্র আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যদিও ওই সময় সংসদ অধিবেশন চলমান ছিল না। ওই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন বসেছিল ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। সে হিসেবে ১ বছর ৮ মাস ৭ দিন পর আবারও বসতে যাচ্ছে সংসদের অধিবেশন।
সংসদের কাছে প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কখনো সংসদের ধারেকাছে যাইনি। কারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সে সম্পর্কে ধারণাও নেই। তবে কার্যকর ও অর্থবহ সংসদের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রথম পাতার খবর ‘কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ চায় বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ সকালে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদকে বিএনপি চায় সংসদীয় গণতন্ত্রের উদাহরণ করতে। এজন্য সংসদে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধান করতে চায় দলটি। একই সঙ্গে সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি।
এদিকে মন্ত্রী এবং দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) চলনে-বলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সামনের দিনগুলোতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী ও এমপিদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় এ পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক এমপি জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন এ বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নেওয়া জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সামনের দিনগুলোতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিদের দিকনির্দেশনা দেন। সভায় বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিই মানুষ দেখতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন শুরু করা হবে।’ ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক নির্দেশনা দেন তিনি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সরকার যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।’ মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় অনেক সিনিয়র নেতা আছেন। বিশেষ করে তরুণদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে।’ অফিসে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ট্রাফিক আইন মেনে চলেন বলে সভায় উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।’ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে, সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।’
