আট মাসের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মুক্তির পথ খুলে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। বুধবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুদকের মামলায় খায়রুল হকের জামিন মঞ্জুর করে রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেন।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চার মামলায় গত ৮ই মার্চ হাইকোর্ট জামিন দেন। সর্বশেষ দুদকের মামলায়ও জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই চার মামলায় দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
গত বছরের ২৪শে জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে পুলিশ সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যার অভিযোগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় গত ৮ই মার্চ হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ খায়রুল হককে জামিন দেন।
এর আগে গত বছরের ২৬শে অক্টোবর পাঁচ মামলায় তার জামিন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয় কেন তাকে জামিন দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ই মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ই মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। ওই রায়ের মধ্যদিয়ে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অবসান ঘটে, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়।

Musaib
৩ মাস আগেজামিন কেনো দিলো? বড় ক্রিমিনাল, সামনে তো আরো ক্রাইম করবে।