মিরপুরের তপ্ত দুপুরে বল হাতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন নাহিদ রানা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ ওভারে স্পেলে মাত্র ২৪ রানে পাঁচ উইকেট নেন এ তরুণ ফাস্ট বোলার। ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম ৫ উইকেট শিকার । পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিং ফিগারও এটি। তবে এমন অর্জনের দিনেও বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখালেন না ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’ খ্যাত নাহিদ রানা। গতকাল ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাসিমুখে জানালেন, তার কাছে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের জয় এবং নিজের ফিটনেস ধরে রাখাই মুখ্য। নাহিদ বলেন, ‘আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না, আমি সাধারণ একজন মানুষ যে দেশের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চায়।’ মিরপুরের উইকেটে সাধারণত স্পিনাররা সুবিধা পেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের উইকেটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হওয়ায় স্পিনারদের পাশাপাশি পেসাররা সুবিধা পেয়েছেন। স্পোর্টিং উইকেট পেয়ে নিজেকে মেলে ধরেন নাহিদ রানা। গতি আর বাউন্স দিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের হাত খুলে খেলার সুযোগ দেননি। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘সারপ্রাইজিং কিছু ছিল না। মোস্তাফিজ ও তাসকিন ভাই যখন শুরু করেছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি উইকেটের আচরণ নিয়ে। এক স্পটে লাইন-লেংথ বজায় রেখে বল করলে ব্যাটারদের জন্য খেলা কঠিন-মাঠে সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’
প্রথম স্পেলে টানা সাত ওভার বোলিং করেন নাহিদ রানা। পেসারদের জন্য লম্বা সময়ের স্পেল করা কঠিন কাজ। কিন্তু নাহিদ ব্যতিক্রম। দলের প্রয়োজনে নিজের সেরাটা উজার করে দিতে চান। নাহিদ বলেন, ‘সবসময় টিমের কথা চিন্তা করি। যখন উইকেট পাচ্ছিলাম এবং প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা আমার বল খেলতে সমস্যায় পড়ছিল, তখন অধিনায়ক নিজেই আমাকে স্পেলটা লম্বা করতে বলেন। একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় হিসেবে যেকোনো কন্ডিশনে ১০ ওভারের স্পেল করার মতো ফিটনেস থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের সবশেষ আসরে খেলার সময় লিজেন্ডারি পেসার ওয়াকার ইউনুসের কাছ থেকে টিপস নেন নাহিদ। পাকিস্তানের সাবেক পেসার তাকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন? নাহিদ বলেন, ‘তিনি শুধু একটি কথাই বলেছেন- নিজের স্ট্রেন্থ কখনো হারিও না এবং ফিটনেস ঠিক রাখো। যা বলছি তা হয়তো এখন মাথায় ঢুকবে না, কিন্তু নিজে যখন মাঠে এগুলো এক্সিকিউট করবে, তখন দীর্ঘ সময় মনে থাকবে।’ দেশি পেসারদের গড় গতি বিবেচনায় নাহিদ রানাই এগিয়ে। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেন। আর গতি বাড়াতে চান কিনা এমন প্রশ্নে নাহিদের উত্তর পরিণত। তিনি বলেন, ‘গতি নিয়ে এখন খুব বেশি চিন্তা করছি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির চেয়ে স্কিল বেশি ম্যাটার করে। আমি শুধু ভাবি কীভাবে ফিট থেকে দেশের জন্য ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স করা যায়।” শর্ট লেগে ফিল্ডার রেখে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে আউট করার পরিকল্পনাটি ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর। নাহিদ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘শান্ত ভাই ও লিটন ভাইদের অনেক দিনের অভিজ্ঞতা। মাঠে যখনই সাহায্যের দরকার হয়, আমি তাদের কাছে যাই। তাসকিন ও মোস্তাফিজ ভাইদের পরামর্শ আমাকে অনেক প্রেশার ফ্রি রাখে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে নাহিদ রানার পরিসংখ্যান বেশ উজ্জ্বল। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১১ উইকেট নেন। এবার ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়মিত ভালো করার রহস্য নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডিতে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে সত্য, কিন্তু আমি দল দেখে খেলি না। উইকেট যেটা ডিমান্ড করে, সে অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করি।’ প্রথম ওয়ানডের স্পোর্টিং উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট নাহিদ। তিনি বলেন, ‘স্পোর্টিং উইকেট থাকলে ব্যাটার-বোলার সবার স্কিল বাড়ে। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমাদের পাঁচজন ভালো পেসার আছে। যদি দেশে আমরা নিয়মিত এমন স্পোর্টিং উইকেট পাই, তবে বিদেশের মাটিতেও আমরা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবো।’
মাটিতেই পা নাহিদ রানার
স্পোর্টস রিপোর্টার
১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
