আর্সেনাল তারকা মিকেল মেরিনোর জীবনের গল্পটা যেন কোনো থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়। সম্প্রতি ‘দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার উন্মোচন করেছেন এক লোমহর্ষক অধ্যায়। ২০১৭ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময় অল্পের জন্য মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। মোনাকোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেরিনো বলেন, ‘পায়ের পেশিতে টান অনুভব করায় সেদিন আমি আমার নিয়মিত সিটে না বসে সামনের দিকে বসি। পেছনের সিটের হেডরেস্টে আছড়ে পড়ে একটি বড় ধাতব টুকরো। একটু এদিক-সেদিক হলেই আজ আর বাঁচতাম না।’ ডর্টমুন্ডের টিম বাসে সেই বোমা হামলাটি চালায় সের্গেই ভেনেরগোল্ড নামের জার্মানির এক রুশ বংশোদ্ভূত নাগরিক। জার্মান ক্লাবটির শেয়ারের দাম কমিয়ে দিয়ে আর্থিক লাভ বা শেয়ার বাজার থেকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের ফন্দি থেকেই এই হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি।
সেদিনের কথা স্মরণ করে মেরিনো আরও বলেন, ‘আমার কাঁধে যেন কোনো অদৃশ্য ফেরেস্তা ভর করে ছিল। চোখের সামনে রক্তের দাগ, ধোঁয়া আর আর্তনাদ। সে এক মর্মান্তিক দৃশ্য যা আজও আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।’ কেবল সেই হামলা নয়, ক্যারিয়ারে আরও এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয় মেরিনোকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডান পায়ে গুরুতর ফাটল পাওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে ছয় মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকার পরামর্শ দেন। অথচ সামনেই কড়া নাড়ছিল বিশ্বকাপ। ঘুরে দাঁড়ানোর পণ করা মেরিনো বলেন, ‘ডাক্তার যখন বললেন ছয় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে, তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তবে আমি জানতাম, আমাকে ফিরতেই হবে। পায়ে স্ক্রু বসানোর অস্ত্রোপচার করিয়ে কোনো রকমে মাঠে ফেরার লড়াই শুরু করি।’
বিশ্বকাপজয়ী মেরিনো ক্লাব কোচ মিকেল আর্তেতার সঙ্গে তীব্র যুক্তিতর্ক ও ফিজিওদের পরামর্শ উপেক্ষা করেই ক্রিস্টাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার তীব্র জিদ ধরেন। বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য মাত্র ৩০ মিনিটের সেই পরীক্ষাই ছিল তার শেষ সুযোগ। অবিশ্বাস্য সেই কামব্যাকের মুহূর্তটি স্মরণ করে মেরিনো উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘টিভির সামনে বসে শুধু প্রার্থনা করছিলাম। হঠাৎ পর্দায় ভেসে উঠলো স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড-মিকেল মেরিনো! সে এক অভাবনীয় অনুভূতি। আমি জানতাম, আমার এই জেদ
বৃথা যায়নি।’
