‘হকিতে আমরা দুই পা এগোলে তিন পা পিছিয়ে যাই’

‘হকিতে আমরা দুই পা এগোলে তিন পা পিছিয়ে যাই’

ফন্ট সাইজ:

দেশের হকি অঙ্গনের পরিচিত মুখ মাইনুল ইসলাম কৌশিক। ২০১২ সালে অভিষেকের পর এক যুগের বেশি সময় লাল-সবুজ জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সুদীর্ঘ এই পথচলায় রাসেল মাহমুদ জিমি কিংবা পুষ্কর খীসা মিমোদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন দেশের পতাকা সগর্বে উঁচিয়ে ধরতে। এ পথচলা থেমেছে জাপানে শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ছিল দেশের জার্সিতে কৌশিকের শেষবার টার্ফে নামা। ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইনডোর ও আউটডোর মিলে ৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের ক্যারিয়ার, স্মরণীয় মুহূর্ত ও বাংলাদেশের হকি নিয়ে ভাবনা জানিয়েছেন কৌশিক-

প্রশ্ন: আপনি কখন ও কীভাবে হকি খেলা শুরু করেছিলেন?
কৌশিক:
আমার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর শহরের কমলাপুরে। বড় ভাই স্থানীয় মাঠে হকি খেলতেন। তার কাছে আমার হাতেখড়ি। এরপর ২০০৬ সালে বিকেএসপিতে ট্রায়ালের মাধ্যমে হকির সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হয়ে যাই।

প্রশ্ন: অবসরের সিদ্ধান্ত কবে নিয়েছিলেন? এশিয়ান গেমসকে কেন শেষ টুর্নামেন্ট হিসেবে বেছে নিলেন?
কৌশিক
: এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে অবসরের সিদ্ধান্ত নিই। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় টুর্নামেন্ট। এই আসর থেকে অবসর নিতে পারা বেশি সম্মানজনক বলে মনে করেছি। অবশ্যই সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল। কারণ আমার অবসর নেয়ার বয়স এখনো হয়নি। আল্লাহর রহমতে আমি অনেকটাই ফিট। কিন্তু নিজের সম্মানের জন্যই অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রশ্ন: এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? শেষ ম্যাচ খেলার সময় আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
কৌশিক
: লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ হওয়া, হতে পারিনি। তবে সবাই নিজের নিজের জায়গা থেকে অনেক চেষ্টা করেছে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে নিজের খেলা আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোকে স্মৃতিচারণ করেছি।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ বা মুহূর্ত কোনটি?
কৌশিক
: ২০১৩ সালে ভারতে হকি ওয়ার্ল্ড লীগের দ্বিতীয় রাউন্ড হয়। প্রথম রাউন্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি ফিল্ড গোল করি। সেটি এফআইএইচ এর র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই বছর সেরা দশে ছিল।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং আক্ষেপ কী? কোন কোচ বা সিনিয়র খেলোয়াড় আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন?
কৌশিক
: জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। যে জায়গা থেকে এতকিছু পেয়েছি সে জায়গায় কোন আক্ষেপ নেই। দীর্ঘদিন হারুন ভাইয়ের কোচিং এর অধীনে অনেকদিন জাতীয় দলে খেলেছি। ভালো মেন্টর হিসেবে মামুনুর রহমান চয়ন ভাইকে পেয়েছি। এ দুজনের দ্বারাই বেশি প্রভাবিত হয়েছি।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হকিতে কী কী পরিবর্তন দেখেছেন?
কৌশিক:
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দেখেছি হকি যেখানে দুই ধাপ এগোলে তিন ধাপ পিছিয়ে গেছে। হকির অগ্রগতিতে কখনো ধারাবাহিকতা ছিল না।

প্রশ্ন: এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে কী কী পদক্ষেপ দরকার? হকিকে জনপ্রিয় করতে ফেডারেশন, ক্লাব ও গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
কৌশিক
: প্রথমত খেলোয়ারদের
সঠিকভাবে মূল্যায়ন। দ্বিতীয়ত নিয়মিত মাঠে খেলা থাকা। প্রিমিয়ার লীগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ, জাতীয় ও বয়সভিত্তিক পর্যায়ের খেলাগুলো নিয়মিত হলে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান কমবে। হকিকে জনপ্রিয় করতে ফেডারেশনের তৃণমূল থেকে পুরুষ এবং মহিলা এখন মহিলা খেলোয়াড় বাছাই করে নিয়ে আসতে হবে। সঠিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। খেলাকে রাজনৈতিক মুক্ত করতে হবে। ক্লাবগুলোকে লীগ খেলার জন্য আগ্রহী হতে হবে। গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন: খেলোয়াড়দের অবসর-পরবর্তী জীবনের জন্য কী ধরনের সহায়তা থাকা দরকার বলে মনে করেন?
কৌশিক
: খেলোয়াড় জীবন থেকে অবসরের পরে অনেকের জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিকভাবে তারা কোনো সহায়তা আর পায় না। সরকারের পক্ষ থেকে এই সকল বিষয়গুলো নজরে রাখা দরকার। বর্তমানে ক্রীড়াবিদরা ভাতার আওতায় এসেছেন। এটি আমাদের আশা দেখায়।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কোনোভাবে হকির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান?
কৌশিক
: আমি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে আছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হকি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে চাই।