রিয়াদজুড়ে আতঙ্ক, আকাশপথে নজিরবিহীন বিপর্যয়

রিয়াদজুড়ে আতঙ্ক, আকাশপথে নজিরবিহীন বিপর্যয়

ফন্ট সাইজ:

ইয়েমেনে ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশ কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়েছে। সপ্তাহান্তে ধারাবাহিক হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের ৮২ শতাংশই বাতিল করা হয়েছে। এতে সৌদি আরবের আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত শনিবারের হামলার পর থেকেই বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর পরদিন রোববার আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
পরপর এসব হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং উড়োজাহাজের জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে চাপে রয়েছে এ খাত। এর মধ্যে রিয়াদের বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এয়ারলাইনসগুলোর আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

৮২ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৮২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। দিনের শেষে বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু রিয়াদ নয়, সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর মিলিয়ে সোমবার ফ্লাইট বাতিলের হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যচিত্রেও রিয়াদের আকাশ এড়িয়ে উড়োজাহাজ চলাচলের চিত্র দেখা গেছে। তবে সৌদি আরবের আকাশসীমার অন্যান্য অংশ দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। দেশটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত প্রধান বিমান চলাচলকেন্দ্র জেদ্দায়ও উড়োজাহাজ অবতরণ করছে।

ইউরোপ-এশিয়ার এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত
রিয়াদে হামলার পর ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন এয়ারলাইনস সৌদি আরবে তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রোববার মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবে কিংবা দেশটির আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা ইএএসএ শুক্রবার সৌদি আরবের আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতার পরিধি বাড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।

জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম সৌদি রাজধানীতে যাতায়াতকারী ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা বাড়িয়ে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
আবুধাবিভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে। এর ফলে সোমবার ও মঙ্গলবার রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মামগামী প্রায় ২০টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।