ইমরান খানের দলের শত শত নেতা-কর্মীকে ধরপাকড়

থমথমে খাইবার পাখতুনখোয়া

ইমরান খানের দলের শত শত নেতা-কর্মীকে ধরপাকড়

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শত শত নেতাকর্মীকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এতে ইমরান খানকে মুক্তির দাবিতে পিটিআই’র চলমান আন্দোলনে ভাটা পড়েছে। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি শাসন জারির পর থেকে ২৭৮ জন পিটিআই সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রোববার জরুরি শাসন জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে কয়েক দিন ধরে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পাক সরকার বলছে, সীমান্তবর্তী এ প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর ফলে পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।

প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে জরুরি শাসনের প্রথম পূর্ণ কর্মদিবস সোমবার বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের ঐতিহাসিক প্রাচীরঘেরা এলাকার প্রবেশপথ হাশতনগরি গেটের বাইরে অবস্থান নেন বহু পুলিশ সদস্য। প্রশাসনিক এলাকায় যান চলাচল ঠেকাতে কনটেইনার ও কাঁটাতারের তৈরি অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতাও বহাল রাখা হয়েছে।
প্রতিটি কনটেইনার চেকপোস্টে ঢাল, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের শেলসহ এক ডজনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রদেশটিতে সোমবার স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, আগের রাতে প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।

পেশোয়ারের এক গাড়িচালক সাঈদ খান এএফপিকে বলেন, এ ধরনের শাসনের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, সড়কে কনটেইনার বসিয়ে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জরুরি শাসন জারির আগে কয়েক দিন ধরে প্রদেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেন ইমরান খানের হাজারো সমর্থক। তারা রাজধানী ইসলামাবাদে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইমরানের মুক্তির দাবির পাশাপাশি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভও ছিল এসব বিক্ষোভে।

এদিকে পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জরুরি শাসন ঘোষণার পর বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার কার্যত অকার্যকর থাকবে।
জরুরি ব্যবস্থা ঘোষণার পরও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন পিটিআই নেতারা। তবে সোমবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক দিন আগের ‘লংমার্চ’-এর তুলনায় অনেক কম ছিল।

‘হেফাজতে’ প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী
এদিকে জরুরি সাংবিধানিক ব্যবস্থা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পিটিআই। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে, কিন্তু গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথমে তার সরকারি বাসভবনে ‘সুরক্ষামূলক হেফাজতে’ রাখা হয়েছিল। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে সেই স্থান সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
পাক সরকারের অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার। এ কারণেই জরুরি শাসন জারি করা হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে পিটিআই। দলটির নেতারা জরুরি ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রদেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার জেলার বারা শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শূন্যে গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

পেশোয়ারে প্রায় ৩০ জন পিটিআই সমর্থক ইমরানের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে। কিছুক্ষণ পর তারা আবার ফিরে এসে স্লোগান দিতে থাকেন।
মারদানে এএফপির এক সাংবাদিক লংমার্চে ব্যবহৃত একটি ট্রাক দেখতে পেয়েছেন, যেটি থেকে ইমরান খানের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রদেশটিতে জরুরি শাসন কত দিন বহাল থাকবে এবং এর ফলে পিটিআইয়ের আন্দোলন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আপাতত প্রদেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, আটক অভিযান ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান।