মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন দেশটির অভিবাসন তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। সোমবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার ওই বাড়িতে এ তল্লাশি চালানো হয়। একটি ‘ফৌজদারি তদন্তের’ অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র।
বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বিচার বিভাগের ওই মুখপাত্র জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা আদালতের অনুমোদন পাওয়া তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছেন। তবে চলমান কেন্দ্রীয় তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
তল্লাশির সময় ইলহান ওমর বাড়িতে ছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশন চলছে না। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইলহান ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
সোমালিয়ায় জন্ম নেয়া ইলহান ওমর যুদ্ধের কারণে আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনর্র্নিবাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবেও পরিচিত তিনি।
অভিবাসন নথি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের প্রকৃতি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে এর আগেও রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস তার অভিবাসন নথিপত্র সংগ্রহের জন্য সমন জারির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হতে হলে দেশটির নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ২০১৮ সাল থেকে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে ডনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়ে আসছেন। এর আগে ট্রাম্প তাকে সোমালিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে ইলহান ওমর একে ‘অস্বাস্থ্যকর ও অদ্ভুত এক ধরনের আসক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায় সম্পর্কেও নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মিনেসোটা ‘সোমালি অভিবাসীদের দখলে চলে যাচ্ছে’। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দাদের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ইলহান ওমর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম সোমালি-আমেরিকান। তিনি মিনিয়াপোলিস এলাকার একটি নির্বাচনী আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবের সঙ্গে তিনিও মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন।
তবে ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধিতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।
