আফগানিস্তানে তীব্র খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধানে খনন করা হয় লাখ লাখ সরু ও অরক্ষিত নলকূপ। এর অনেকগুলোই এখন শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি দেশটির কান্দাহার প্রদেশের মাইওয়ান্দ জেলায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় ৭০ মিটার (প্রায় ২৩০ ফুট) গভীর ও মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া একটি শুষ্ক কূপে পড়ে যায় ৫ বছর বয়সী শিশু জাইনুলাহ। টানা দুই দিন অন্ধকার ও ভেজা গহ্বরে আটকে থাকার পর ১১ বছর বয়সী আরেক সাহসী কিশোরের সহায়তায় অলৌকিকভাবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
শিশুটি যে কূপে পরে গিয়েছিলো সেটির মুখ এতই সংকীর্ণ ছিল যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে সেখানে নামা সম্ভব ছিল না। প্রথমে রশিতে হুক বেঁধে জাইনুলাহকে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন স্থানীয়রা। এতে শিশুটি উল্টো আহত হয়ে ভয় পেয়ে যায়। এরপর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী মিরাজান আবদুল্লাহর তৈরি বিশেষ ক্যামেরা ও মনিটর নিচে নামিয়ে জাইনুলাহর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
তবে খাদটি সোজা না হয়ে নিচের দিকে বাঁকানো থাকায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় তাকে দড়ি দিয়ে বাঁধা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর কূপে নামতে রাজি হয় ১১ বছর বয়সী কিশোর হযরত ওমর। প্রথম দফায় কাঁধ ও উরুতে আঘাত পেয়ে ফিরে এলেও দ্বিতীয় দফায় সে একেবারে ৭০ মিটার গভীরে নেমে যায়। সেখানে পৌঁছে জাইনুলাহর শরীরে নিরাপদে রশি বেঁধে দেয় সে। এরপর ওপরে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের উপস্থিতিতে একে একে দুই শিশুকে নিরাপদে টেনে তোলা হয়।
বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে এখন পর্যন্ত এমন খোলা কূপে পড়ে অন্তত ১০০টি দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ১০ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় অর্ধেকেরই মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে কৃষিকাজের পানির জন্য দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। কাজ শেষ হলে কিংবা পানি শুকিয়ে গেলে কৃষকেরা এগুলো অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। দারিদ্র্যের কারণে কূপগুলো পাকা করে ঢেকে দেয়া সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এই মরণফাঁদ বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
