আল-আকসা মসজিদে শত শত ইসরাইলি, চললো নাচ-গান

আল-আকসা মসজিদে শত শত ইসরাইলি, চললো নাচ-গান

ফন্ট সাইজ:

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে শত শত ইসরাইলি প্রবেশ করেছে। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোট উপলক্ষে তারা সেখানে যায় বলে জানিয়েছেন জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফের এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আনাদোলুকে বলেন, ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শত শত ইসরাইলি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, এ সময় সেখানে তালমুদিক ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা, নাচ ও গান করা হয়েছে। মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রচলিত ‘স্ট্যাটাস কুও’ বা ঐতিহাসিক ব্যবস্থার সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধ রয়েছে।

১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখলের আগের ঐতিহাসিক ব্যবস্থায় আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ব্যবস্থাপনার একক দায়িত্ব জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফের। এটি জর্ডানের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন। ১৪৪ দুনাম বা প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ একর আয়তনের এই প্রাঙ্গণ মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত একটি ইবাদতের স্থান।

সুক্কোট উপলক্ষে আল-আকসায় বড় ধরনের প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিল ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী। গত শনিবার শুরু হওয়া সুক্কোট আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।
জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ জানিয়েছে, রোববার ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি ইসরাইলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। সোমবার এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০০-এর বেশি এবং মঙ্গলবার প্রবেশ করে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।
ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শুরু হওয়ার পর থেকে আল-আকসায় ইসরাইলিদের প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

ইহুদিদের উৎসব শুরু হয় ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ইহুদি নববর্ষের মধ্য দিয়ে। এরপর ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ইয়োম কিপুর। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সুক্কোট। এরপর ৩ অক্টোবর পালিত হবে সিমখাত তোরাহ।
২০০৩ সাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ একতরফাভাবে ইসরাইলিদের পশ্চিম দেয়ালের মুগরাবি গেট দিয়ে আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে। এ সময় তাদের সঙ্গে ইসরাইলি পুলিশ সদস্যরাও থাকে।

আল-আকসায় এসব প্রবেশ বন্ধের জন্য জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এসব আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, কয়েক দশক ধরে ইসরাইল দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম, বিশেষ করে আল-আকসা মসজিদের ‘ইহুদিকরণ’ এবং এর আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে।