গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে যা জানাল ভারত

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে যা জানাল ভারত

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলোও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার দ্বিসাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান।

১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে জয়সওয়াল আরও বলেন, পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোটি কার্যকর রয়েছে।

জয়সওয়াল উল্লেখ করেছেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদুদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সম্প্রতি বলেন, এ বছর ১২ ডিসেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ হতে চলা ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি শুধু নবায়ন না করে, গঙ্গার পানি বণ্টন বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ । এই মন্তব্যের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তার মতামত জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করা হচ্ছে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, ভারত নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, আমরাও এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কিছুই জানানো হয়নি। কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা চিঠিও আসেনি। স্বাভাবিকভাবেই, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ভারত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিগুলোর শর্তাবলি, বিশেষ করে অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে কি না, তা যাচাই করার জন্যই সরকার এগুলোর পর্যালোচনা করছে।

চুক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং উন্নয়ন সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত বাংলাদেশে রেল, সড়ক ও বন্দর সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ সহায়তা (লাইন অফ ক্রেডিট) প্রদান করেছে।