আফ্রিকার এই দাস শ্রমিকদের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “তারা আপাদমস্তক কালো, আর তাদের নাক এতই থ্যাবড়া যে, তাদের সম্পর্কে কোনো রকমের কৃপা জাগ্রত হওয়া রীতিমতো অসম্ভব।” একই নিঃশ্বাসে তিনি লিখেছেন, “ঈশ্বর, যিনি খুবই প্রাজ্ঞ এক সত্তার অধিকারী, কীভাবে আপাদমস্তক কালো একটি শরীরের ভেতর কোনো আত্মা, সর্বোপরি কোনো ভালো আত্মা, স্থাপন করবেন?”৮৮
মঁতেস্কুর মতে, ‘গাত্রবর্ণ দিয়েই মানবতার নির্যাস তৈরি হয়’। তিনি, মনে করেন ‘নিগ্রোদের কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই’, কেননা, ‘তারা সোনার বদলে কাঁচ দিয়ে গলার মালা তৈরি’ করে।৮৯ এই ফরাসি রাজনৈতিক পণ্ডিত, আবহাওয়া ও রাষ্ট্রের রূপ ভেদে, কোনো কোনো দেশে দাসপ্রথা জারি রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।৯০ তবে, তিনি কোনো ‘আধুনিক রাষ্ট্রে খুব বেশি সংখ্যায় দাস না রাখার’ পক্ষে ওকালতি করেছেন। কেননা, কোনো ‘রিপাবলিকের পক্ষে খুব বেশিসংখ্যক দাস পোষা সম্ভব নয়’, ফলে ‘অনেক দাসের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যককে মুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন’। সেক্ষেত্রে আবার মনে রাখা দরকার, বেশিসংখ্যক মুক্ত মানুষ রিপাবলিকের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে’। মঁতেষ্কু অতএব ‘আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দাস ও মুক্ত মানুষের সংখ্যার ভেতর ভারসাম্য বজায় রাখার’ পরামর্শ দিয়েছেন।৯১
মঁতেস্কুর মৃত্যুর এক শ’ বছর পরও ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীদের এক বিরাট অংশের ভেতর কালোদের প্রতি এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে আমরা ভুবনবিখ্যাত ব্রিটিশ বুদ্ধিজীবী থমাস কার্লাইলের (১৭৯৫-১৮৮১) কথা উল্লেখ করতে পারি। কার্লাইন নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতেন যে, ‘কালোদের জন্মই হয়েছে [শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা] শাসিত হওয়ার জন্য’।৯২ উল্লেখ্য, ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ জ্যামাইকার ছোট্ট ‘মরান্ট বে’ শহরে জমি ও শ্রম সম্পর্কিত এক মামলায় শ্বেতাঙ্গ বিচারকের এক ‘অজনপ্রিয়’ রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে স্থানীয় কালোদের সঙ্গে উপনিবেশক সাদাদের সংঘর্ষ বাধে এবং উভয় পক্ষে অনেক হতাহত হয়। পরদিন, জ্যামাইকার ব্রিটিশ গভর্নর এডওয়ার্ড জন আয়ার (১৮১৫-১৯০১) খবর পান যে, ‘মরান্ট বে’ শহরে ‘কালোরা বিদ্রোহ করেছে’, আর সে খবরের ভিত্তিতে বিদ্রোহ দমন করার জন্য আয়ার সেখানে সৈন্য পাঠান এবং সেই শহরে ‘সামরিক আইন’ জারি করেন। পরবর্তী একমাসে, শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘কালোদের কোনো সংগঠিত প্রতিরোধ না থাকা সত্ত্বেও’, ব্রিটিশ সৈন্যরা ৪৩৯ জন কালো মানুষকে হত্যা করে, ছয় শ’ জনেরও বেশি কালো নারী-পুরুষকে চাবুক মারে এবং কালোদের এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। তাছাড়াও, জামাইকার ‘হাউস অব এসেম্বলির’ একজন শংকর বর্ণের [প্রতিবাদী] সদস্য জর্জ উইলিয়াম গর্ডনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়’।৯৩
এই বর্বরোচিত ঘটনার খবরাখবর লন্ডনে পৌঁছুলে, ইংরেজ রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের উদারনৈতিক অংশের ভেতর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় ও তার ফলে ব্রিটিশ সরকার আয়ারের এই কর্মকাণ্ডের তদন্ত করতে বাধ্য হয়। সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে কালোদের বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে গর্ভনর আয়ারের ‘তীব্র প্রতিক্রিয়াকে’ ন্যায্যতা দেয়া হয়, কিন্তু হত্যা, চাবুক মারা ও ঘরবাড়ি পোড়ানোর সংখ্যার বিবেচনায় এই কর্মকাণ্ডকে ‘উচ্ছৃঙ্খলতা’, ‘বর্বরতা’ ও ‘নিষ্ঠুরতা’ আখ্যা দেয়া হয়। এ রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার, ১৮৬৬ সালে, আয়ারের ‘গোপন বিচারের’ সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু এই প্রস্তাবিত বিচারকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ বুদ্ধিজীবী সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া তিনবার মুখ থুবড়ে পড়ে। এই বিচারপ্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে, ১৮৬৮ সালে, কার্লাইল বলেন-“আয়ারের কর্মকাণ্ড ছিল বিরোচিত। তিনি [জ্যামাইকার] শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করেছেন। কালোরা [শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা] শাসিত হওয়ার জন্যই জন্মেছে।”৯৪
শুধু তা-ই নয়; কালোদের ওপর ১৮৫৩ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে, কার্লাইল লিখেছেন, ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের দখলীকৃত আফ্রিকার জমিতে, শ্বেতাঙ্গদের স্বার্থে, চিনি উৎপাদনের জন্য ‘আখের চাষে শ্রম দেয়া কালোদের দায়িত্ব’, আর ‘এই দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছুক কালোদের ওপর বল প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমদানে বাধ্য করা ইউরোপীয়দের অধিকার’।৯৫ একই প্রবন্ধে কার্লাইল কালোদের ‘কুমড়োখেকো অলস’ ও ‘কুড়ে দ্বিপদ পশু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, অবজ্ঞাসূচক ‘কুয়াশী’ বলে বর্ণনা করেছেন, এবং গায়ানার কালো কৃষকেরা ইউরোপের তরফে লাভজনক চিনি উৎপাদনের জন্য আখের চাষে নিয়োজিত না হয়ে, ‘কুমড়ো চাষ’ নিয়ে তৃপ্ত থাকাকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে, তাদের ‘জমিজমা কেড়ে নেয়ার জন্য’ ওকালতি করেছেন। তাছাড়া, আফ্রিকার কালোরা ‘চাকর হওয়ার জন্যই জন্মেছে’- এমন দাবি করে, শ্বেতাঙ্গদের চাহিদামতো তাদের শ্রমদানে বাধ্য করার জন্য তিনি, প্রয়োজনে, ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে ‘ইতিপূর্বে বিলুপ্ত দাসপ্রথাকে ফিরিয়ে আনার’ সুপারিশ পর্যন্ত করেছেন।৯৬ বলার অপেক্ষা রাখে না, আফ্রিকার মানুষ সম্পর্কে ইউরোপের এই সব প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীর এহেন নির্মানবিক বয়ান ইউরোপের নানা শ্বেতাঙ্গ শাসকগোষ্ঠীর ভেতর অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীসমূহের ওপর নিপীড়নমূলক ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ কায়েম ও জারি রাখার পক্ষে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ন্যায্যতা জুগিয়েছে। প্রসঙ্গত, ঔপনিবেশিক প্রশাসনে কর্মরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ভেতর উপনিবেশিত জনগণের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী উচ্চমন্যতা জারি রাখা উপনিবেশবাদী প্রশাসনিক নীতিমালার একটি সহজাত অনুষঙ্গ হিসেবে বিদ্যমান থাকতো। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ভারতে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড ম্যায়ো (১৮২২-১৮৭২), পাঞ্জাবের লেফটেন্যান্ট-গভর্নরকে ১৮৭০ সালে লিখেছিলেন, “তোমার অধীনস্থ [শ্বেতাঙ্গ] কর্মকতাদের বলবে যে, আমরা সকলেই ব্রিটিশ ভদ্রলোক, যারা একটি হীন জনগোষ্ঠীকে শাসন করার মহৎ কাজে নিয়োজিত রয়েছি।”৯৭
এই শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ দার্শনিক ও রাজনীতিক সম্প্রদায়ের কুৎসিৎ বর্ণবাদী বয়ান শুধু ব্রিটিশ উপনিবেশভুক্ত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীরই চরম দুর্দশার কারণ হিসেবে জারি থাকে নি, ইউরোপের অপরাপর ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহের দখলিকৃত নানা ভূখণ্ডের বিভিন্ন উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর দুর্দশার ক্ষেত্রেও অভিন্ন অবদান রেখেছে। লর্ড ম্যায়োর এই বক্তব্যের এক দশকের মধ্যেই আমরা একই ধরনের বর্ণবাদী উক্তি শুনতে পাই ফরাসি রাজনীতিক জুলে ফেরির (১৮৩২-১৮৯৩) মুখে। ফেরি, যিনি ১৮৮০ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে দুই দফা উপনিবেশবাদী ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, ফরাসি উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সম্প্রসারিত করার পক্ষে ওকালতি করে বলেন, “উচ্চতর জাতিগোষ্ঠী নিম্নতর জাতিগোষ্ঠীর উপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে, নিম্নতর জাতিগোষ্ঠীকে সভ্য করার দায়িত্ব তাদের [ওপর অর্পিত রয়েছে]।”৯৮
ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ‘আলোকায়ন প্রকল্পের’ এসব প্রভাবশালী দার্শনিক ও রাজনীতিকদের এহেন অসভ্য, অন্যায় ও অযৌক্তিক বয়ান সমকালীন পৃথিবীর যেকোনো সভ্য, ন্যায়পরায়ণ ও যুক্তিশীল মানুষকে স্তম্ভিত করতে বাধ্য।
যা-ই হোক, উনিশ শতকে ব্রিটিশ চিনিশিল্পের স্বার্থে উপনিবেশিত আফ্রিকায় আখের চাষে কালোদের বাধ্য করার ঘটনা, সমসাময়িক কালে উপনিবেশিত ভারতবর্ষের বাংলা প্রদেশে, ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্পের স্বার্থে, স্থানীয় রায়তদের নীল চাষে বাধ্য করার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয় বইকি।
এখানে যে ঐতিহাসিক সত্যটি উল্লেখ করা অপরিহার্য, তা হলো, আফ্রিকায় আখের চাষে কালোদের অনীহার পেছনে তাদের কার্লাইল কথিত ‘আলস্য’ বা ‘কুড়েমি’ দায়ী ছিল না, বরং আখের চাষ থেকে সৃষ্ট আয়ের পুরোটাই ইউরোপীয় বণিকদের পকেটস্থ হওয়ার কারণে, স্থানীয় কালো চাষি-মজুরদের ভেতর সৃষ্ট বাস্তব বঞ্চনাবোধ সক্রিয় ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনাধীন বাংলায় নীল চাষে স্থানীয় কৃষকদের অনীহার পেছনেও অভিন্ন কারণ সক্রিয় ছিল। ইংরেজ নীলকররা অষ্টাদশ শতকের শেষের দিক থেকে ঊনবিংশ শতকের প্রথমভাগ পর্যন্ত সময়কালে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের দিয়ে বলপূর্বক নীল চাষ করিয়ে, খুবই অল্প মূল্যে তা ক্রয় করে, বহুগুণ বেশি মূল্যে ইংল্যান্ডে বিক্রয় করে প্রভূত মুনাফা অর্জন করতো।৯৯ বাংলার কৃষক সমাজ, তার দিক থেকে অলাভজনক, এই নীল চাষে অনীহা প্রকাশ করতো। কিন্তু কৃষকের তরফে এই অনীহার পরিণাম হতো ভয়াবহ।
তথ্যসূত্র:
৮৮. প্রাগুক্ত
৮৯. প্রাগুক্ত
৯০. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৫৬
৯১. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৬১
৯২. কার্লাইলের উদ্ধৃতি’র জন্য দেখুন, Catherine Hall, Civising Subjects: Metropole and Colony in the English Imagination (1830-1867), p. 25
৯৩. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৩
৯৪. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৫। উপনিবেশবাদী গভর্নর আয়ারের বিরুদ্ধে কার্লাইলের নেতৃত্বে আর যে সকল বিখ্যাত ইংরেজ বুদ্ধিজীবী সমবেত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্স (১৮১২-১৮৭০), চিন্তাবিদ জন রাসকিন (১৮১৯-১৯০০), চার্লস কিংসলে (১৮১৯-১৮৭৫) ও কবি আলফ্র্যেড টেনিসন (১৮০৯-১৮৯২)। অন্যদিকে, এই বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে নেতৃত্বদানকারী বুদ্ধিজীবী ছিলেন দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩) আর তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন প্রকৃতি বিজ্ঞানী ও ভূতত্ত্ববিদ (১৮০৯-১৮৮২), দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানী হারবার্ট স্পেন্সার (১৮২০-১৯০৩), জীববিজ্ঞানী থমাস হাক্সলি (১৮২৫-১৮৯৫) প্রমুখ।
৯৫. Thomas Carlyle, “Occasional Discourse on the Nigger Question,” 1853, https://collections, americantiquarian.org/ freedmen/Manuscripts/carlyle.html
৯৬. প্রাগুক্ত; উল্লেখ্য, সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগ থেকে অষ্টাদশ শতকের প্রথম তিন দশক পর্যন্ত উপনিবেশিত আফ্রিকার নানা অঞ্চলে থেকে থেকে দাসবিদ্রোহ ঘটে। শেষ পর্যন্ত ১৮৩১-১৮৩২ জ্যামাইকাতে স্যামুয়েল শার্পের (১৮৩১-১৮৩২) নেতৃত্বে সহিংস দাসবিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে, ১৮৩৩ সালে, ব্রিটশ উপনিবেশগুলোতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়। তার পূর্বে, ১৮৩২ সালে, শার্পকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিত কর্তৃপক্ষ হত্যা করে। এ ঘটনার দেড় শ বছর পর, ১৯৮২ সালে, জ্যামাইকা শার্পকে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণা করে।
৯৭. লর্ড ম্যায়োর উদ্ধৃতির জন্য দেখুন, Bipan Chandra, “The Impact of British Rule”, Bipan Chandra and others, Freedom Sturggle, p. 39
৯৮. জুলে ফেরির উদ্ধৃতির জন্য দেখুন, হেদায়েতুল্লাহ্ আল মামুন, উপনিবেশবাদ ও বাঙালির সংস্কৃতি, পৃষ্ঠা: ৭৯
৯৯. আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস, পৃষ্ঠা: ১৫
