উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি- ১০

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

আর হিন্দু জনগোষ্ঠীর ধর্ম সম্পর্কে কান্টের ধারণা যে, ‘ধর্মটি নানা বিকৃতি ও বিদ্বেষ দিয়ে রচিত’।৫৮ কান্টের মতে, ‘নিগ্রো আর হিন্দুদের পক্ষে নৈতিক পরিপক্বতা অর্জন একেবারেই অসম্ভব’।৫৯

আফ্রিকা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বর্ণবাদী নিন্দাবাদের প্রচারক হিসেবে, কান্টের পর, প্রবল প্রভাবশালী জার্মান দার্শনিক জর্জ ভিল্‌হেল্‌ম হেগেলের (১৭৭০-১৮৩১) নাম আসতে বাধ্য। হেগেল, যিনি ‘চেতনা’ ও ‘ইতিহাসে’র দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে বিকাশের রাজনৈতিক-দার্শনিক তত্ত্ব নির্মাণ করে পশ্চিমা দর্শনের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছেন, তিনিই আবার দাবি করেছেন যে, ‘যুক্তি’ বা ‘চেতনার’ মূর্তিমান অভিব্যক্তি হিসেবে বিকশিত ‘ইতিহাস আফ্রিকাকে এড়িয়ে গেছে’। অর্থাৎ আফ্রিকার কোনো ‘ইতিহাস’ নেই। হেগেলের বিশ্বাস ছিল, এই ‘যুক্তি’ বা ‘চৈতন্যের’ সর্বোচ্চ সৃষ্টিশীল বিকাশ ঘটেছে ইউরোপে, আর ‘আফ্রিকা-সদর’, অর্থাৎ সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে বিস্তৃত কালো আফ্রিকা, একটি ‘শিশুস্থান’, যে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে ‘অচেতন’, ফলে ‘চেতনার’ সর্বনিম্ন স্তরে, অর্থাৎ ‘ইতিহাসের বাইরে’ অবস্থিত এক ‘শিশুস্থান’ মাত্র। হেগেলের ভাষায়, “আফ্রিকা সদর গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল- বদ্ধদুয়ার; নিজের ভেতর সংকুচিত এক স্বর্ণভূমি- আত্মসচেতন ইতিহাসের বাইরে অবস্থিত এক শিশুস্থান, যা অমানিশার অন্ধকারে আবৃত্ত রয়েছে”।৬০
সহজ করে বললে, পৃথিবীর ইতিহাস যেহেতু আলোকময় ‘সচেতন চৈতন্যের’ বিকাশের ইতিহাস, অন্ধকারময় ‘অচেতন’ আফ্রিকা অতএব ইতিহাসের বাইরে অবস্থিত। হেগেলের ইতিহাস বিকাশের এই তত্ত্ব যুগ যুগ ধরে অনেক খ্যাতিমান ইউরোপীয় রাজনীতিক, দার্শনিক ও ইতিহাসবিদকে প্রভাবিত করেছে।

উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, জ্যান ক্রিশ্চিয়ান স্মাটস্‌ (১৮৭০-১৯৫০), ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার একজন খ্যাতিমান দার্শনিক-রাজনীতিক, যিনি ১৯৪০-এর দশকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তিনি ১৯২৯ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত তার ‘রোডস স্মৃতি বক্তৃতা’য় দাবি করেন যে, আফ্রিকার মানুষদের ভেতর কিছু ‘বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান’; আর সেই ‘বিস্ময়কর’ বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে, স্মাট্‌স বলেন যে, “[আফ্রিকার] এই জনগোষ্ঠী এক ধরনের শিশুসুলভ মনস্তত্ত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গিসহ এখনো শিশুর মতোই রয়ে গেছে।”৬১ স্পষ্টতই, স্মাটসের এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মূল কালো আফ্রিকাকে হেগেল কর্তৃক ‘শিশুস্থান’ হিসেবে আখ্যা দানের অন্যায্য দার্শনিকতার ভেতর প্রোথিত রয়েছে। এভাবে ‘শিশু’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পর, আফ্রিকার জনগণকে অনেকটা পিঠ চাপড়ে দিয়ে স্মাটস বলেন, “শিশুসুলভ মানুষ কেউ কখনোই খারাপ মানুষ হতে পারে না।”

স্মাটস অবশ্য একা নন, আফ্রিকার মানুষ সম্পর্কে এই হেগেলীয় প্রতিপাদ্য দিয়ে পরবর্তীকালের আরও অনেক শ্বেতাঙ্গ দার্শনিকই প্রভাবিত হয়েছিলেন। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী জার্মান দার্শনিক-ধর্মতাত্ত্বিক আলবার্ট সুইটজার (১৮৭৫-১৯৬৫) আফ্রিকার কালো মানুষকে ‘নিগ্রো’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “সে শিশু বৈ-তো নয়, আর কর্তৃত্ব ছাড়া এই শিশুদের দিয়ে কিছুই করানো যাবে না।”৬২ আবার, বিখ্যাত স্কটিশ ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ফাইফের (১৯২০-২০০৮) মতে, আফ্রিকার এই ‘শিশু’ কোনো ‘স্বাভাবিক শিশু নয়’, সে হলো ‘পিটার প্যানের শিশুদের মতো, যারা কখনোই বড় হয় না- এরা জাতি/বর্ণ হিসেবেই শিশু’।৬৩ ওদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হিউ ট্রেডর রোপ (১৯১৪-২০০৩) ১৯৬০-এর দশকে হেগেলের বক্তব্যকেই ভিন্নভাবে লিখেছেন, “আফ্রিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পূর্বে সেখানে শুধুই অন্ধকার ছিল; আর অন্ধকার যেহেতু ইতিহাসের বিষয়বস্তু নয়, ইউরোপীয় উপনিবেশায়নের মাধ্যমেই আফ্রিকায় ইতিহাসের সূত্রপাত ঘটে”।৬৪ অর্থাৎ, আফ্রিকায় ইউরোপীয়দের ইতিহাসই আফ্রিকার ইতিহাস। বলার অপেক্ষা রাখে না, ইতিহাসের দর্শন সম্পর্কে ভাববাদ-তাড়িত এই সব বর্ণবাদী তত্ত্ব আফ্রিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশবাদী শাসন-শোষণকে বহু যুগ ধরে জ্ঞানতাত্ত্বিক ‘ন্যায্যতা’ জুগিয়েছে, আর তা এখনো অনেক মানুষের জন্য ইউরোপীয়দের ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসকে অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক ন্যায্যতা জোগায়।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আইজ্যাক স্যামুয়েল নামক আফ্রিকার একজন তরুণ গবেষক সম্প্রতি, ২০২৩ সালে, আফ্রিকার ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রে হেগেলের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। স্যামুয়েলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হলো, আফ্রিকা সম্পর্কে তার তত্ত্বকে বস্তুগত ভিত্তি দেয়ার জন্য হেগেল অষ্টাদশ শতকীয় আফ্রিকার ‘আসান্তে রাজ্য’ সম্পর্কিত ঐতিহাসিক তথ্য সচেতনভাবে বিকৃত করেছেন। কেননা, আসান্তে রাজ্য সম্পর্কে লেখার জন্য সেই রাজ্যের তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত থমাস বডউইচের ১৮১৯ সালে প্রকাশিত একটি পুস্তক-মিশন ফ্রম কেইপ কোস্ট ক্যাসল টু আসান্তে-ব্যবহার করার সময়, হেগেল সে পুস্তকে ওই রাজ্যটি সম্পর্কে বর্ণিত তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়ে উদ্ধৃত করেছেন।৬৫

অথচ বাস্তব সত্য হলো, আফ্রিকা-বিষয়ক আধুনিক ব্রিটিশ গবেষক ব্যাসিল ডেভিডসন যেমন লিখেছেন, “মানবেতিহাসের বিকাশ প্রক্রিয়ার তথ্য ও বর্ণনানুসারে, খ্রিষ্টযুগ শুরুর ৭০০০ বছর আগে, ধরা যেতে পারে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০০ সালের দিকে, কৃষিকর্মের সূত্রপাত ও বিস্তারের সময়কালে, আফ্রিকার ইতিহাসের সূচনা ঘটেছে। তারপর, খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ সালের দিকে, লোহার পাতের তৈরি যন্ত্রপাতি, বিশেষত লোহার পাতের নিড়ানি তৈরির সঙ্গে সঙ্গে, আফ্রিকার ইতিহাস আধুনিকতা-পূর্ব নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল। সামাজিক ও সৃজনশীল উন্নয়নের বেশ লম্বা ও জটিল এই দ্বিতীয় ধাপটি ছিল ধাতব প্রযুক্তির যুগ- খনি খনন, ধাতু গলানো, লোহার আকরিকসহ অন্য কিছু ধাতব পদার্থের নানা আকৃতি দানের কালপর্ব, যা প্রথমে কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম সুদান আর নাইল উপত্যকার তৃণভূমিতে শুরু হয়েছিল। ইতিহাসের এই পর্বটি আফ্রিকার এই অঞ্চলে কয়েক শতাব্দীব্যাপী এক সামাজিক-রাজনৈতিক অগ্রগতি ও তার পরিপূরক কাঠামোগত উন্নয়নের যুগ সূচনা করেছিল।”৬৬

ডেভিডসন আরও লিখেছেন, “ইতিহাসবিদগণ এই লম্বা কালপর্বটিকে সাধারণভাবে ‘আফ্রিকার লৌহযুগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই কালপর্বে গোটা আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে ধাতব প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়েছিল; আর চতুর্থ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই প্রযুক্তি দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশগুলো পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। এই ‘লৌহযুগ’ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও পরিবেশের নিয়ন্ত্রণক্ষম রাজনীতি ও অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই যুগটিই আফ্রিকায় বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির, যাকে আমরা এখন ‘ঐতিহ্যিক’ বলে অভিহিত করি তার বিকাশ ঘটিয়েছিল। আফ্রিকার ইতিহাসের এই পর্বটিই তার উন্নয়নে ‘কেন্দ্রীয় সময়কাল’ হিসেবে অনন্য ভূমিকা রেখেছিল। খ্রিষ্টীয় উনিশ শতকে আফ্রিকার উন্নয়নের এই পর্বটির সমাপ্তি ঘটে- খানিকটা নিজেরই কারণে, লৌহযুগের পুরনো কাঠামোগুলো তারই উন্নয়নসৃষ্ট নতুন চাহিদা মেটানোর সামর্থ্য ইতিমধ্যেই হারিয়ে ফেলার জন্য, আর বাকি পুরোটা ইউরোপের লুটপাটের জন্য।”৬৭ স্পষ্টতই, ইতিহাস আফ্রিকাকে এড়িয়ে যায়নি, হেগেলই বরং আফ্রিকার সমৃদ্ধ ইতিহাসকে এড়িয়ে গেছেন।

ইউরোপ শুধু লুটপাট করেই আফ্রিকা ও এশিয়ার স্বাভাবিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেনি, বরং দখলীকৃত উপনিবেশগুলোতে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত করার জন্য বহু স্থানীয় শিল্পকে রীতিমতো ধ্বংস করে দিয়েছে। ওয়ালটার রোডনি ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, “আফ্রিকায় এমনকি ঔপনিবেশিক যুগের শুরুতেও, ঔপনিবেশিক শক্তির দাসব্যবসা ও নানা ইউরোপীয় পণ্যে আফ্রিকা সয়লাব হওয়া সত্ত্বেও, আফ্রিকার নানা কারিগরি শিল্প, কোনো প্রযুক্তিগত উন্নয়নের স্পর্শ না পেয়েও, প্রাণবন্ত অবস্থায় টিকে ছিল। কিন্তু, পরবর্তীকালে ইউরোপীয় পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থাপ্রসূত পণ্যের ব্যাপক উৎপাদনের ফলে, [অসম প্রতিযোগিতার মুখে] আফ্রিকার স্থানীয় বস্ত্র, লবণ, সাবান, লোহা, এমনকি মৃৎশিল্পও পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।”৬৮

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা ভারতবর্ষেও, বিশেষত বাংলায়, নানা শিল্প ধ্বংস করে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়েছিল। প্রাক-ঔপনিবেশিক জমানায় বাংলার তাঁতশিল্প ও তার উৎপাদিত নানা বস্ত্র, বিশেষত মসলিন, জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিল। ১৯৫৭ সালে সংঘটিত পলাশীর ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিজয়ের মাধ্যমে ইংরেজের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, ইংরেজ, ফরাসি ও ওলন্দাজ কোম্পানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন জাতির বণিক সম্প্রদায় আপন আপন দেশে মসলিনসহ নানা ধরনের তাঁতবস্ত্র প্রতিযোগিতামূলক দামে সংগ্রহ করতো। কিন্তু ১৭৫৭ সালে ‘বাংলায় ইংরেজের রাজনৈতিক একাধিপত্য সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে, বাংলার তাঁতী ও মধ্যস্বত্বভোগী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বস্ত্রের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের প্রতিযোগিতামূলক বাজার হারিয়ে ফেলে। কেননা, ব্রিটিশ কোম্পানি তার সদ্য পাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে এবার শুধু ইংরেজদের জন্য, ইংরেজদেরই নির্ধারিত মূল্যে, বস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ করতে স্থানীয় তাঁতীদের বাধ্য করে।”৬৯

তথ্যসূত্র:
৫৮.  Chikwado P.Ejeh, ‘Kant’s Racial Views and the Categorical Imperative’. https://medwinpublishers.com/PhIJ/kants-racial-views-and-the-categorical-imperative.pdf
৫৯. প্রাগুক্ত
৬০. Georg W. F. Hegel, The philosoply of History, p. 91
৬১. জ্যান স্মাটসের উদ্ধৃতির জন্য দেখুন, Mahmood Mamdani, Citizen and Subject: Contemporary Africa and the Legacy of Late Colonialism, p.4
৬২. প্রাগুক্ত
৬৩. প্রাগুক্ত
৬৪. Ngugi Wa Thiong’o, ‘The Bodz of Knowledge’, Decolonizing Language and Other Revolutionary Ideas, p. 19
৬৫. বিস্তারিতের জন্য দেখুন, “How Hegel’s Deliberate Ignorane of African History Legitimated the Colinisation of Africa”, https://roape.net/2023/07/20/how-hegels-deliberate-ignorance-of-african-history-legitimated-the-colonisation-of-africa/
৬৬. Basil Davidson, The Black Man’s Burden: Africa and the Curse of the Nation-State, p. 77
৬৭. প্রাগুক্ত ঢ়. ৭৭-৭৮
৬৮. Walter Rodney, How Europe Underdeveloped Africa, p. 280
৬৯. Om Prakaging ‘From Market-determined to Coercion-based: Textile Manufacturing in Eighteenth-Century Bengal’, in Giorgio Riello and Thirthankar Roy (ed.), How India Clothed the World: The World of Sourth Asian Textile: 1500-1850, p. 224