উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ৩৪

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

আমরা আগেই বলেছি, বাংলাদেশের সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধের পেছনে প্রধানত বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা সক্রিয় থাকলেও, দেশটির অপরাপর অবাঙালি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীসমূহের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ সেই মরণপণ যুদ্ধে নানাভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অবাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনকি অসমসাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য স্বাধীনতা-উত্তর সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় খেতাবও অর্জন করেছিলেন। কিন্তু এই নবোত্থিত রাষ্ট্রের সংবিধান রচনার সময়, ১৯৭২ সালে, বাঙালি শাসকশ্রেণির দল আওয়ামী লীগ অন্যতম রাষ্ট্রীয় ‘মূলনীতি’ হিসেবে শুধু ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’কেই গ্রহণ করে। সাংবিধানিকভাবে গৃহীত এই জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা নিরূপণ করেলেখা হয়, “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।”২৮৬
স্পষ্টতই, ভারতের পশ্চিমবাংলা প্রদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে বাংলাদেশের বাঙালিকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার জন্যই এই অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের অধিবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠীর জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদ। কিন্তু এই অনুচ্ছেদের বয়ান থেকে একথাও স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই ‘বাঙালি জাতির’ সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব সংখ্যালঘু অবাঙালি জাতিগোষ্ঠী ‘ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ’ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান তাঁদের জাতি ও গোষ্ঠীগত স্বীকৃতি প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি শাসকশ্রেণির ‘জাতিবাদী’ আত্মাভিমান এমন উৎকট পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, এই শাসকশ্রেণি অবাঙালি সংখ্যালঘু জাতিসত্বাগুলোকে ‘উপজাতি’র অধস্তন মর্যাদায় চিহ্নিত করে এবং সেই শাসকশ্রেণির প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের অবাঙালি জাতিগোষ্ঠীসমূহকে প্রকাশ্যে ‘বাঙালি হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন’।২৮৭
তাছাড়াও, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত চাকমাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে ‘নিছক ট্রাইব’ আখ্যায়িত করে, মুজিব নিজের কথিত‘ঔদার্যবশত’ তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে ‘প্রমোশন’ দেয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন।২৮৮
মুজিব ও লীগের তরফে এই ‘ঔদার্য’ প্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা আসলে ছিল বর্ণবাদী ঔপনিবেশিক চিন্তার অনুবর্তী এক উগ্র ‘জাতিবাদী’ রাজনীতির উৎকট অভিপ্রকাশ। অন্যদিক থেকে দেখলে, জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ববাদ যদি ফ্যাসিবাদী ভাবাদর্শের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক উপাদান হয়ে থাকে - বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মান শাসকশ্রেণীর চিন্তার মধ্যে আমরা যেমন দেখতে পাই - তাহলে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি শাসকশ্রেণির শীর্ষ নেতা মুজিবের এই রাজনৈতিক বক্তব্যের ভেতর সেই ফ্যাসিবাদী ভাবাদর্শগতপ্রবণতার সুস্পষ্ট ছাপ অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
লীগ সরকারের পতনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দলের শাসনামলে, ‘রাষ্ট্রীয় মূলনীতি’ হিসেবে, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’কে, বাংলাদেশের সকল জাতিগোষ্ঠীভুক্ত নাগরিকদের জন্য ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্রতিপাদ্য হিসেবে, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু তখনো বাঙালি শাসকশ্রেণির দিক থেকে অবাঙালি জাতিগোষ্ঠীসমূহকে ‘ট্রাইব’, ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ প্রভৃতি উপনিবেশবাদী চিন্তাপ্রসূত নেতিবাচক বিশেষণে আখ্যায়িত করা হতো - আজও তা অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে সমাজে ইতিমধ্যে বহু আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে, ২০১১ সালে, একটি পরস্পরবিরোধী পরিবর্তন সাধন করে, যেখানে বলা হয়: “বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিক হিসাবে বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন।”২৮৯
স্পষ্টতই, বাংলাদেশের জনগণের অংশ হিসেবে, অবাঙালি জাতিগোষ্ঠীসমূহের জাতীয় পরিচয়ও ‘বাঙালি’ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত থাকে।
এই সময় রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের সম্পর্ক নির্ধারণের প্রশ্নেও লীগ এক পরস্পরবিরোধী সুবিধাবাদী অবস্থান গ্রহণ করে। একদিকে লীগ কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রের একটি মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাকে’ ফিরিয়ে আনে, অন্যদিকে ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ হিসেবে অক্ষুণ্ন রাখে। একটি রাষ্ট্রকে একই সঙ্গে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বিকশিত করার ধারণাটি হাস্যকর বটে। সর্বোপরি, যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তার সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ধর্ম-বিশ্বাসকে ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদা’ দান করে সংখ্যালঘু নাগরিক সম্প্রদায় সমূহের ধর্ম বিশ্বাসকে অধস্তন স্তরে নামিয়ে আনে, সে প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চয় ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করার অবকাশ থাকে না। বলার অপেক্ষা রাখেনা, এই সব উৎকৃষ্টতাবাদী জাতিবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা মূলত আধিপত্যবাদ এদেশের শাসকশ্রেণীর ঔপনিবেশিক চিন্তা-চেতনারই বিভিন্ন অভিপ্রকাশ মাত্র।
আমরা এই দীর্ঘ প্রবন্ধে দীর্ঘক্ষণ ধরে দেখেছি, ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ নিজেদের স্বার্থে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার নানা দেশে, ৫০০ বছরেরও বেশী সময় ধরে, ইতিহাস-চর্চা, ভাষা ও শিক্ষার উপনিবেশবাদী রাজনীতির মাধ্যমে,নানা ধরণের শোষণ-শাসন জারি রেখে সংশ্লিষ্ট নানা জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রেখেছিল। সেই ঔপনিবেশিক শোষন-শাসন ও নিপীড়নের দীর্ঘস্থায়ী বিষফল উপনিবেশোত্তর দেশ ও রাষ্ট্রসমূহের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে নেতিবাচকভাবে কিভাবে প্রভাবিত করেছে, করে চলেছে এখনো, তাও এই প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে। উপনিবেশোত্তর যে-কোনো সমাজের বিশেষত তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এই ইতিহাস জেনে রাখা শুধু নয়, নিরন্তর মনে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ইতিহাস পাঠ ও বিশ্লেষণের গুরুত্ব নিশ্চয় পুরনো ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহকে নিরন্তর অভিসম্পাত করে সেই পুরনো ইতিহাসের ভেতরেই নিজেদের বন্দী থাকার মধ্যে হতে পারে না, বরং আপন আপন দেশে সমতাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে, পুরনো ঔপনিবেশিক ইতিহাসের যাবতীয় নেতিবাচক অবশেষ থেকে নিজেদের মুক্ত করে, নতুন সৃজনশীল ইতিহাস নির্মান করার জন্য নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করে তোলার মধ্যেই তা নিহিত।
এ প্রবন্ধে আলোচিত ইতিহাস ও তার বিশ্লেষণের আলোকেএ কথা অতএব নিশ্চিত ভাবে বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশসহ উপনিবেশোত্তর দেশগুলোকে যথার্থ গণতান্ত্রিক মুক্তি অর্জন করতে হলে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহকে উপনিবেশবাদী ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষানীতি,উৎকৃষ্টতাবাদী জাতিচিন্তা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতামূলক ধর্মীয় আধিপত্যবাদের খপ্পর থেকে মুক্তিলাভ করতে হবে; আর তার জন্য সর্বাগ্রে উপনিবেশত্তোর রাষ্ট্রসমূহের শাসকশ্রেণিসহ সংশ্লিষ্ট জনগণের মন ও মননের বিউপনিবেশায়নের কোনো বিকল্প নেই।
নয়
এবার অতি সংক্ষেপে কয়েকটি সতর্কতামূলক প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেবর্তমান রচনাটির ইতি টানব। প্রথমত, আমরা ইতিপূর্বে বলেছি, আমাদের উপনিবেশোত্তর দেশগুলোর সমাজ ও রাষ্ট্রের যথার্থ গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের আপন আপন ইতিহাসকে পশ্চিমা উপনিবেশবাদী বয়ান থেকে মুক্ত করে, বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার ভিত্তিতে, নিজেদের ইতিহাসের পুনর্গঠন করতে হবে; কিন্তু সেক্ষেত্রে একথাও মনে রাখতে হবে যে, নিজেদের মননশীল সৃজনশীলতা প্রয়োগ করার পাশাপাশি, শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসর আধুনিক পশ্চিমা দেশগুলোর নির্ভরযোগ্য ইতিহাসবিদদের বিভিন্ন বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার ধরন ও গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণপদ্ধতি থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণ ও প্রয়োজনে তা প্রয়োগ করার দক্ষতা অর্জন করা আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত, আমরা বলেছি যে, যথার্থ গণতান্ত্রিক মুক্তিপ্রয়াসী উপনিবেশোত্তর দেশগুলোকে ঔপনিবেশিক ভাষাসমূহের আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়ে, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পরিসরে আপন আপন ভাষার সর্বাত্মক চর্চার মাধ্যমে, নিজেদের ভাষার বিকাশ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে; কিন্তু এ কথার অর্থ মোটেও এই নয় যে, পৃথিবীর অপরাপর সমৃদ্ধ ভাষাগুলোর চর্চা আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। আমাদের বরং মনে রাখতে হবে যে, ইউরোপের উপনিবেশবাদী বুদ্ধিজীবী শ্রেণি তাদের আপন আপন দেশ ও জনগোষ্ঠীর উন্নততর বিকাশের স্বার্থে উপনিবেশিত অঞ্চলের ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষাব্যবস্থাকে বিকৃত করলেও, নিজেদের ক্ষেত্রে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা পরিসরে সুস্থ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ অনুসন্ধান ও সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে উদ্ভাবিত নতুন নতুন জ্ঞান আপন আপন ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন - যার একটি বিরাট অংশ জীবন ও জগতের উন্নততর সর্বজনীন বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ফলে, আমাদের নিজেদের ভাষাকে ভালোভাবে রপ্ত করার পাশাপাশি,উপনিবেশোত্তর দেশগুলোর যত বেশি মানুষ যত বেশি ভাষার ওপর নিজেদের দখল বাড়াতে পারবে, সেসব ভাষায় ধারণকৃত নানামুখী জ্ঞানের ভেতর আমাদের প্রবেশযোগ্যতা ততই বৃদ্ধি পাবে - যা প্রকারান্তরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এমনকি জাগতিক সমৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার প্রখ্যাত সমাজ, শিক্ষা ও ভাষা সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা, যিনি ‘বিদ্যাসাগর’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন, তাঁর ‘বাক্যকথন - ভাষা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, “ইংরেজরা এক্ষণে আমাদের দেশের রাজা। সুতরাং ইংরেজি আমাদের রাজভাষা। এ নিমিত্ত সকলে আগ্রহপূর্বক ইংরেজি শিখে। কিন্তু অগ্রে জাতি ভাষা না শিখিয়া পরের ভাষা শিখা কোনও মতে উচিত নহে।”২৯০

তথ্যসূত্র:
২৮৬ দেখুন, প্রাগুক্ত, ১৯৭২, অনুচ্ছেদ ৯
২৮৭ আনিসুজ্জামান, “আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও সংবিধানের মূলনীতি”, বাঙালী ও বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা: ১১৪।
২৮৮ Dr. Mizanur Rahman Shelley (ed.) The Chittagong Hill Tracts of Bangladesh: The Untold Story, p. 124

২৮৯ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ২০১১, অনুচ্ছেদ ৬[২]
২৯০ ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা, “বাক্যকথন - ভাষা”, বোধোদয়, পৃষ্ঠা: ৩২