যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই মার্কিন ভাড়াটে সেনাকে 'মুক্তি' দিল ভারত
ফাইল ছবি

কংগ্রেসের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই মার্কিন ভাড়াটে সেনাকে 'মুক্তি' দিল ভারত

ফন্ট সাইজ:

ভারতের কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন মার্কিন ভাড়াটে সেনা ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক। একই দিনে লক্ষ্নৌ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন ছয় জন ইউক্রেনীয়। মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মার্চ মাসে ভ্যানডাইক এবং ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল এনআইএ। সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় তারা সকলেই অভিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু এনআইএ বিশেষ আদালত ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইককে জামিনে মুক্তি দিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য এক মাসের জন্য নিজ দেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি ছয় ইউক্রেনীয়কেও পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য জামিনে মুক্তি দিয়েছে। 
কংগ্রেসের অভিযোগ, মার্কিন ভাড়াটে সেনাকে ভারত মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে। গত মে মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফরের সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে মার্কিন ভাড়াটে সেনার মুক্তি দেয়ার বিষয়টি তুলেছিলেন। তারপরই সেপ্টেম্বরে এনআইএ ইউএপিএ ধারা থেকে মার্কিন ভাড়াটে সেনাকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লির একটি আদালত ভ্যানডাইককে 'ডিফল্ট জামিন' দিয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার এনআইএ'র বিশেষ আদালত ওই সাত বিদেশি নাগরিককে এক মাসের জন্য নিজ দেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে তিহার জেল থেকে মুক্তিও দেয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন চাপের প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেছেন , ভ্যানডাইক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন।
জয়রাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপই এই মুক্তি দেয়ার মূল কারণ। কিন্তু এর বিনিময়ে ভারত কী পেল?—এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, কীভাবে বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ভ্যানডাইকের ভ্রমণের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরাও সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভ্যানডাইক প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই মিজোরামে প্রবেশ করেছিলেন, এরপর মিয়ানমারে গিয়ে সেখানকার ভারত বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।