চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ সময়ে সামরিক বিমানের মহড়া দিয়ে শি জিনপিংকে স্বাগত জানানো হয়। ঐতিহাসিক তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতেই শি’কে এভাবে স্বাগত জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে আরও বলা হয়, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনায় করমর্দনের পর ট্রাম্প ও শি ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে জয়েন্ট বেস অ্যানড্রুজ ত্যাগ করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াবে। এর আগে এই বিরতির মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসে বিবিসির এক প্রতিবেদক লিখেছেন, ‘আমি এর আগে এমন স্বাগত জানানোর কোনো অনুষ্ঠান দেখিনি।
এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, ট্রাম্প এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।’ শুল্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ান- এ সব ইস্যু এ সপ্তাহে ট্রাম্প ও শি’র আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। অন্য একটি সূত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই বিরতি অন্তত ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি ও তার স্ত্রী বিমান থেকে নামার পর তাদের লাল গালিচায় স্বাগত জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এই দম্পতিকে অভ্যর্থনা জানান তারা। লিখিত এক বিবৃতিতে শি বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে। ট্রাম্প ও শি যখন জটিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামাল দেয়ার উপায় খুঁজছেন, তখন তাদের মধ্যে একজন যে অন্যজনের তুলনায় বেশি উচ্ছ্বসিত- এটি স্পষ্ট। এ কথা লিখেছেন বিবিসির চীনবিষয়ক সংবাদদাতা লরা বিকার।
তবে শির এই সফরকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভের ঝুঁকিতেও রয়েছেন। শির সঙ্গে এই সফরে চীনা সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন শির ঘনিষ্ঠ সহযোগী চাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি ও এআই কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা বৃহস্পতিবার দুই দেশের দুই নেতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেয়ার কথা। তবে চীনের ব্যবসায়ী নির্বাহীরা শির প্রতিনিধিদলের অংশ কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ বেইজিংয়ের জন্য তাদের উপস্থিতিকে শি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আরও সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাই বৃহস্পতিবারের আলোচনায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি জগতের কয়েকজন সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তিত্ব মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, অ্যাপলের টিম কুক, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এরা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমাজনের চেয়ারম্যান জেফ বেজোস, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক, গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই, ডেল কম্পিউটারসের মাইকেল ডেল এবং সিটি ব্যাংকের জেন ফ্রেজারও সেখানে থাকবেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মে মাসে শির সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প যখন চীন সফর করেন, তখন তিনি মাস্ক, হুয়াং ও কুকসহ আরও এক ডজন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী নির্বাহীকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।
সে সময় এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা এখনকার মতো ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ফলে ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়া অল্টম্যান ও হুয়াং- দু’জনই ভবিষ্যতে এআইয়ের সক্ষমতা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কী করা উচিত, সে বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। হুয়াংয়ের মতো ট্রাম্পও এআই খাতে সরকারের তুলনামূলক কম হস্তক্ষেপের পক্ষে। অল্টম্যানও এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রযুক্তির নিরাপত্তার বিষয়ে দায়িত্বশীল রাখার ধারণাকে সমর্থন করেছেন। তবে সোমবার তিনি এআই নীতিমালা নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
