বেকারত্ব কমাতে কারিগরি-প্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্বের আহ্বান প্রেসিডেন্টের

ফন্ট সাইজ:

দেশের বেকারত্ব হ্রাসে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বঙ্গভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান— বলে জানিয়েছে তার প্রেস উইং।

সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তিনি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্টের সংশ্লিষ্ট সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার উপস্থিত ছিলেন।

ওদিকে গতকাল সকালে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রেসিডেন্টের প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বস্ত্র খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে তুলে ধরারও পরামর্শ দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা-সহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমরা আমাদের অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অর্থনীতির খাতগুলোকে পুননির্মাণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট সব থেকে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত সময়ে দেশের নিজস্ব গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান ও আহরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
সাক্ষাতে বিটিএমএ-সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের অর্থনৈতিক খাতে বস্ত্রশিল্পের অবদান তুলে ধরেন।