জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক কর্মসূচিতে দলগুলোর নেতাকর্মীরা মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। গতকাল ঢাকা মহানগরীতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এর দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়বে। জ্বালানি খাতে লোকসান ও ভর্তুকির যে ব্যাখ্যা সরকার দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আপনি কি এটা দোকান খুলেছেন যে লোকসান হয়ে যাচ্ছে, ভর্তুকি আপনাকে দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করে জনগণের প্রয়োজন মেটাতে হবে। সরকারের এত বড় ব্যর্থতা কীভাবে হতে পারে যে, ৭ মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করতে হলে গণশুনানি করতে হয়। কিন্তু সরকার কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে জ্বালানি তেলের দাম মধ্য রাতে বাড়ালেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর দিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত না নিয়ে যা ইচ্ছা তা করে যাচ্ছে সরকার, জনগণের গণভোটের রায়কে পাল্টে দেয়া হয়েছে। এটার নাম হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন, দ্রব্যমূল্য, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করুন। জনগণ ইতিমধ্যে আপনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বাংলা মোটর এলাকা থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সময়ে পল্টন মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পৃথক কর্মসূচিতে দল দু’টির নেতাকর্মীরা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত আবারো ১৮ কোটি মানুষকে দিতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার। সরকারকে অবশ্যই জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে।
এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। বিবৃতিতে তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির আগে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। এতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে তেল গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মহামারির আকার ধারণ করেছে। চলমান দুর্নীতি দুঃশাসন এ অস্থিরতার অন্যতম কারণ।
প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক আঘাত হেনেছে। এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী এবং এর প্রভাবে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
