দু’সপ্তাহেরও কম সময় পরেই ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে সর্বশেষ জরিপে তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অনলাইন আল জাজিরা।
এতে বলা হয়, সোমবার সর্বশেষ দুটি জরিপের ফল সামনে এসেছে। এর মধ্যে কোয়েস্ট জরিপে দেখা গেছে, ফ্লাভিও বলসোনারোকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪২ ভাগ ভোটার। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪১ ভাগ ভোটার। অন্যদিকে বিটিজি প্যাকচুয়াল/নেক্সাসের জরিপে দেখা গেছে, সিলভাকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪৬ ভাগ ভোটার। আর বলসোনারোকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪৫ ভাগ ভোটার। এর আগে ৫ই আগস্ট কোয়েস্ট জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৫ ভাগ মার্জিনে এগিয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। তাকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪৪ ভাগ মানুষ। বলসোনারোকে সমর্থন করছেন ৩৯ ভাগ ভোটার। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৪ঠা অক্টোবর সেখানে প্রথম দফার ভোট হবে।
এতে যদি কোনো প্রার্থীই শতকরা কমপক্ষে ৫০ ভাগের বেশি ভোট নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৫শে অক্টোবর। তাতে শীর্ষে থাকা দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ওই দু’জনের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে হবে ভোটারদের। নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়ছেন লুলা দা সিলভা। কিন্তু এক্ষেত্রে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর ছেলে ডানপন্থি ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির নির্বাচনী আদালত জায়ের বলসোনারোকে ক্ষমতায় অযোগ্য ঘোষণা করে। ওদিকে ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি লুলা দা সিলভাকে পরাজিত করে নির্বাচনের ফল উল্টে দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
লুলা দা সিলভা গত ২রা আগস্ট সাও পাওলোতে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে তার পুনঃনির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন। তিনি নিজেকে মার্কিন প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। জুলাইয়ে ব্রাজিলের পণ্যের ওপর দুই দফা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। একে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ব্রাজিলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার নেতিবাচক প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানান লুলা। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণ দেয়ার কথা। নিউ ইয়র্কে সোমবার প্রথমেই সাক্ষাৎ করেছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে। ওই সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য অভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।
