ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (সিপিএল) বল হাতে নিজের দ্যুতি ছড়িয়েই চলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টুর্নামেন্টে নিজের অভিষেক আসরেই দারুণ ছন্দে থাকা এ টাইগার স্পিনার তৃতীয় ম্যাচেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন। তবে সিপিএলে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে প্রথম হারের তিক্ত স্বাদ পেলো তার দল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে ৯৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৬ উইকেটে হার দেখে টেবিলের শীর্ষ দলটি।
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে গায়ানা। শুরুতেই আফগান স্পিনার এএম গজনফারের তোপে মাত্র ১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দলটি। বিপর্যয় সামাল দেয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পাঁচে নামেন মিরাজ। ওপেনার গ্লেন ফিলিপসের সঙ্গে ছোট একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করে ২৪ বল খেলে একটি করে চার ও ছক্কার সাহায্যে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষের দিকে রোমারিও শেফার্ডের ২২ রানের সুবাদে ১৮.১ ওভারে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয় গায়ানা।
স্বল্প পুঁজি নিয়ে ডিফেন্ড করতে নেমে শুরু থেকেই বল হাতে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেন মিরাজ। নিজের চিরচেনা ঘূর্ণি জাদু দেখিয়ে একে একে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করে প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। এরপর শ্যাডর্যাুক ডেসকার্টেকে ৩২ রানে নিজের শিকারে পরিণত করেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ম্যাচে ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৫ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন মিরাজ। তবে ব্র্যান্ডন কিংয়ের ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ১৪.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বারবাডোজ।
দলের হার নিশ্চিত হলেও এবারের সিপিএলে মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। মাত্র ৩ ম্যাচেই তার শিকার এখন ৯ উইকেট, যেখানে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মোটে ৫.০৮। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি টেবিলের শীর্ষস্থানের ভারসাম্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি। কেননা, গায়ানার শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত ছিল।
টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্ব শেষ হওয়ায় এখন সরাসরি ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে তারা। আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম কোয়ালিফায়ারে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের মুখোমুখি হবে মিরাজের দল।
