আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিশর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ নতুন রূপ নিচ্ছে। এমনই এক মুহূর্তে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ সফর করছেন শি জিনপিং। আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মাঝেই শি’র সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। চলতি বছর শি জিনপিংয়ের দ্বিতীয় বিদেশ সফরের দ্বিতীয় পর্ব এটি। এর আগে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র আল-আহরামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট সিসি লিখেছেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় গ্লোবাল সাউথের ভূমিকাকে শক্তিশালী করতে মিশর ও চীন একযোগে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে শি জিনপিং দুই দেশকে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো ঘনিষ্ঠ ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পাওয়া মিশর গত মাসে চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। সেই মহড়ায় প্রথমবারের মতো আফ্রিকায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয় এবং ফরাসি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ডগফাইট মহড়ায় অংশ নেয় চীনা বিমান। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়ায় কায়রো এখন বৃহত্তর কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে। ফলে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি বেইজিং, মস্কো ও ইউরোপের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক করার পদক্ষেপ নিচ্ছে মিশর।
ইসরাইল, সুদান ও লিবিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এবং সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ থাকা মিশরকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিশরের উৎপাদন খাত, বন্দর, সৌরশক্তি ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিস্তিন ও ইসরাইল সংকট, আফ্রিকা ও পারস্য উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ইস্যুগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় মিশরকে সফরের জন্য বেছে নিয়েছে বেইজিং। চলতি মাসের শেষের দিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে শি জিনপিংয়ের।
