চট্টগ্রামে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা, পরিবারের দাবি—বিয়েসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ

চট্টগ্রামে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা, পরিবারের দাবি—বিয়েসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিয়েসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আব্দুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়েসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড।
নিহত আব্দুল মান্নান ওই এলাকার নূর আহমেদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই এলাকার মো. ছুফির ছেলে মোজাম্মেলকে (৪৫) শনাক্ত করেছেন নিহতের স্বজনরা।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় বাজারে নিহতের এক চাচাতো ভাইকে হত্যার হুমকি দেন মোজাম্মেল। বিষয়টির প্রতিবাদ করেন মান্নান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং হুমকি দেওয়া ব্যক্তিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে দিনের বেলায় বিরোধের আপাতত অবসান হলেও দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ থেকে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এরপর রাত ৮টার দিকে এশার নামাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মান্নান। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথেও তিনি হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। বাড়ির কাছাকাছি একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মান্নান। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি মোজাম্মেল তাকে কুপিয়েছেন বলে জানান বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হামলায় জড়িতরা তাদেরই প্রতিবেশী ও পরিচিতজন। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, নিহত ও অভিযুক্ত দুই পক্ষই পরস্পরের আত্মীয়। প্রায় ১০ মাস আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।