ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য শেষ ইনিংসে ৩৮৯ রানের লক্ষ্য অধরাই থেকে গেলো। ১৯৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ খোয়ালো তারা। লডর্স টেস্ট জিতে তিন ম্যাচে সিরিজ ২-০ তে জিতে নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ম্যাচশেষে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস বলেছেন টানা হারে সবাই চিন্তিত।
লডর্স টেস্টে পাকিস্তান পরাজিত হলেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে চার ইংলিশ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান। দুই টেস্ট মিলে নেন ১৭ উইকেট। ব্যাটিং ও ফিল্ডিং বিভাগের দুর্বলতায় ডানহাতি এ পেসারের দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও লড়াই করতে পারেনি পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের শেষ দুই ব্যাটার চারবার জীবন পান। ক্যাচ মিসকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে জানান আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাচ ছেড়েছি এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা প্রায় ৭০ রান বেশি করেছে। ম্যাচের মোড় সেখানেই ঘুরে গেছে, কারণ আমরা তাদের ২০০ রানের মধ্যেই অলআউট করতে পারতাম। এটা হতাশাজনক।’ সাদা পোশাকে লম্বা সময় ধরে ছন্দে নেই পাকিস্তান। শেষ ২০ টেস্টের ১৫টিতেই তারা হার দেখেছে। বিদেশের মাটিতে শেষ ১১ টেস্টের ১০টিতে হার পাকিস্তানের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে তারা। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন আব্বাস, ‘আমাদের পারফরম্যান্স সবার জন্যই চিন্তার। নির্বাচক কমিটি ও এনসিএসহ সবাই চিন্তিত। আমরা ভালো খেলছি না, এটা আমরা স্বীকার করি। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিংÑকোনোটিই ভালো হচ্ছে না। সভায় আমরা সব সময় এসব নিয়ে আলোচনা করি। আমরা সবাই এটা নিয়ে কাজ করছি এবং করাটাও দরকার।’
শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহদের টেস্ট বোলিং গ্রাফ যখন নিম্নমুখী, বিপরীতে উজ্জ্বল আব্বাস। শেষ ছয় টেস্টে তিনি ১৯ রানের কম গড়ে নেন ২৮ উইকেট। সাদা পোশাকে পাকিস্তানের নেতৃত্বভার এখন তার কাঁধে। এ সাফল্যের আগে জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাননি। উপেক্ষিত থাকার পর ক্ষোভ প্রকাশ না করে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে গেছেন আব্বাস। তবে ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে তেমন ভাবনা নেই তার। আব্বাস বলেন, ‘ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমি দল জেতাতে সাহায্য করার জন্যই পারফর্ম করার চেষ্টা করি। অনেক ম্যাচেই আমি ভালো খেলেছি কিন্তু দল জেতেনি। যা আমার হাতে ছিল, আমি তা করেছি। আমি পাকিস্তানে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। যা আমার হাতে ছিল, আমি করেছি, আর তখনকার ম্যানেজমেন্ট যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। আমি দলে সুযোগ পাব কি না, তা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।’ আব্বাসের মতে সাদা পোশাকের বাস্তবতা দেখছে পাকিস্তান, ‘এটি টেস্ট ক্রিকেট। প্রতিটি রান ও উইকেট আপনার ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়। সবাই সেই দায়িত্ব বোঝে এবং সবাই চেষ্টা করছে। আমরা ৩৫ থেকে ৫০ ওভারের মধ্যে অলআউট হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এটি তো কোনো গোছানো দল নয়।’
