ভিলাকে বিদায় জানিয়ে কাঁদলেন ওয়াটকিনস

ভিলাকে বিদায় জানিয়ে কাঁদলেন ওয়াটকিনস

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ ছয় বছরের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো ওলি ওয়াটকিনসের। তবে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে সম্পর্কের এই ইতি টানাটা যে এভাবে হবে, তা কখনোই কল্পনা করেননি ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। সৌদি প্রো লীগের ক্লাব আল-হিলালে ৫১ মিলিয়ন পাউন্ডে যোগ দেয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় প্রিয় ক্লাবকে বিদায় জানান তিনি। ৩০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আল-হিলালের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছেন। ভিলার হয়ে গত ছয় মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগে ৯১ গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নিলেন তিনি। বিদায়ী বার্তায় ওয়াটকিনস লেখেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই, অ্যাস্টন ভিলায় আমার সময় এভাবে শেষ হোক, আমি কখনোই তা চাইনি, কল্পনাও করিনি। তারপরও গত ছয় বছরের জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ। এই সময়টা শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে গড়ে দেয়নি, একজন মানুষ হিসেবেও তৈরি করেছে।’

ভিলার জার্সিতে ছয় মৌসুমে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী হন ওয়াটকিনস। তবে ক্লাবের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ায় কখনো কার্পণ্য করেননি বলে জানান তিনি। কোচ উনাই এমেরির অধীনে ভিলার উত্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই স্ট্রাইকার। তার সময়েই ক্লাবটি নিয়মিত প্রিমিয়ার লীগের সেরা ছয়ে জায়গা করে নেয়ার মতো দল হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘ ৪৪ বছর পর জিতে নেয় ইউরোপিয়ান ট্রফি। ওয়াটকিনসের এই বিদায়ে আবেগে ভাসতে দেখা গেছে কোচ এমেরিকেও। ‘দারুণ একজন’ খেলোয়াড়কে বিদায় জানানোর সময় নিজের চোখে ‘ছোট ছোট অশ্রু’ জমেছিল বলে জানিয়েছেন ভিলা কোচ। ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো তুলে ধরে ওয়াটকিনস বলেন, ‘লিভারপুলের বিপক্ষে ৭-২ জয়ে আমার প্রথম গোলগুলো থেকে শুরু করে ক্লাবকে ইউরোপে ফেরানো, ভিলা পার্কে চ্যাম্পিয়নস লীগের রাত, ইস্তাম্বুলের সেই অবিস্মরণীয় রাত এবং ভিলার সর্বোচ্চ প্রিমিয়ার লীগের গোলদাতা হওয়া-সবকিছুই আমার কাছে বিশেষ।’ নিজের ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়া কোচদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি ওয়াটকিনস।

ডিন স্মিথ, স্টিভেন জেরার্ড এবং বিশেষ করে উনাই এমেরির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’ ভিলায় থাকাকালীন সময়েই জন্ম হয়েছে তার দুই সন্তানের—সেই স্মৃতিও আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেছেন ওয়াটকিনস। তিনি লিখেন, ‘আমার দুই সন্তান এখানে জন্মেছে। তাদের আমার পরিবারের সঙ্গে মাঠে হাঁটতে দেখা এবং তাদের সামনে ভক্তদের আমার নাম ধরে গান গাইতে দেখা—এই স্মৃতি সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’ সবশেষে সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে ওয়াটকিনস লিখেন, ‘বার্মিংহাম সবসময় আমার বাড়ি থাকবে। ভিলাও থাকবে।’