স্পটের সিসিটিভি নষ্ট নিয়ে যে প্রশ্ন

সিলেটে ব্যবসায়ী খুন

স্পটের সিসিটিভি নষ্ট নিয়ে যে প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

শাহপরান (রহ.) মাদ্রাসার কাছাকাছি এলাকার নির্জন স্থানে খুন হন ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন। গোটা এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। স্পটেও আছে সিসিটিভি ক্যামেরা। কিন্তু ওই ক্যামেরা কোনো কাজ করেনি। নষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর এ কারণে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি। গতকাল নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে উপস্থিত অনেকেই এ প্রশ্ন করেন। তাহলে কী খুনের মিশনে অংশ নেয়া ঘাতকরা সিসিটিভিকে আগে নষ্ট করে খুন করেছে। শাহপরান এলাকার ইসলামাবাদ ছড়ারপাড়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন। মূল বাড়ি তার বিয়ানীবাজারের চারখাইয়ে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাহারের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে তিনি শাহপরান এলাকার ছড়ার পাড়ে ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

এক ছেলে ও এক মেয়ে দেশের বাইরে বসবাস করেন। এরপর মাজারের প্রধান সড়কের পাশে একটি ফাস্টফুডের দোকান দেন তিনি। ওই দোকান নিজেই পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা ছিল তার। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেনÑ হাসি-খুশি থাকতেন সব সময়। সোমবার রাত ১১টার দিকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তিনি বাড়ির পথ ধরেন। দোকান থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বের পথ। এই পথ ধরেই তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। রাত ১১টার একটু পর। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। মাদ্রাসা পাড়ি দিয়ে নির্জন একটি স্থানে যাওয়ামাত্র তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। ঘটনাস্থল ব্যস্ত সড়ক। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কারণে ছিল নিরিবিলি। একটু পর ওই পথ ধরে যাচ্ছিলেন পথচারীরা। এ সময় তারা দেখেন উপুর হয়ে শুয়ে আছেন ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন। রক্ত ঝরছে শরীর থেকে। পথচারীরা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনা নিয়ে এন্তার রহস্য।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এরই মধ্যে দু’টি তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্যগুলো পুলিশ সংগ্রহ করে। ঘটনাকালীন সময়ে একটি প্রাইভেটকার ওই এলাকা দিয়ে ঢুকেছিল। পরবর্তীতে ওই কার এসে নিহত শাহাবউদ্দিনের দোকানের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়ায়। সেখান থেকে তামাবিল রুট দিয়ে চলে যায়। ঘটনার আগে শাহাবউদ্দিনের পিছু পিছু রেইনকোট পরা এক ব্যক্তিকে ওই সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে তার চেহারা দেখা যায়নি। ঘটনার পর রেইনকোট পরা ওই ব্যক্তি কোনদিকে গেছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পথচারীরা জানিয়েছেনÑ নিহত ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিনের লাশ উপুর করা ছিল। সিজদারত অবস্থায় দেখা গেছে। তার গলা ও ঘাড়ে একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় আরও দু’টি কোপের চিহ্ন ছিল। তারা ধারণা করেনÑ যে বা যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা পরিকল্পিতভাবে এটি ঘটিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ঘটনা ঘটিয়ে চলে গেছে। নিহতের ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান- রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি এসে জানান কয়েকজন লোক তার বাবাকে আটকে রেখেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ঘাড়ে তিনটি কোপের আঘাত ছিল। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নগরের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন নাদিম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, যে এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা আগে থেকেই নষ্ট ছিল। এ কারণে ঘটনা কারা ঘটিয়েছে সেটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে সেটিও রহস্যময়। পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এলাকার মানুষ পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন বলে জানান তিনি।

শাহপরান মাজার রোডের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজুল জানিয়েছেন ব্যবসায়ীক কারণে তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি খুব শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কেন তিনি খুন হলেন সেটি এখনো অজানা। শাহপরান (রহ.) থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ জানানÑ নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করেছে।