কুষ্টিয়ায় হামজাই সব

কুষ্টিয়ায় হামজাই সব

ফন্ট সাইজ:

মাওলানা আমির হামজা। আলোচিত-সমালোচিত এক ব্যক্তিত্ব। ওয়াজের ময়দান থেকে সরাসরি রাজনীতিতে। নাটকীয়ভাবে পেয়ে যান জামায়াতের মনোনয়ন। কুষ্টিয়া সদর আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হন এই ইসলামী বক্তা। তবে ওয়াজের মাহফিল থেকেই একের পর এক উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক জিইয়ে রেখেছেন তিনি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও ফের আলোচনায় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে।

কুষ্টিয়া সদর আসনে একসময় ছিল প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফের রাজত্ব। গত ১৭ বছর এই আসনে হানিফই ছিলেন শেষকথা। হানিফের অঙ্গুলি হেলনে সবকিছুই হতো। ভাই আতাউর রহমান আতাকে দিয়ে শাসন করতেন গড়াই নদীর তীরবর্তী এই জেলাটি। প্রশাসন, ঘাট, টার্মিনালসহ শহরের সর্বত্রই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। শহরে একের পর এক প্রাসাদ বানিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সাম্রাজ্য। কিন্তু ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর বদলে গেছে দৃশ্যপট। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন হানিফ ও আতা। হানিফের সাম্রাজ্যে এখন দাপট দেখাচ্ছেন আমির হামজা। বলছেন- কুষ্টিয়া সদর আসনে আগামী পাঁচ বছর তিনিই প্রধানমন্ত্রী, তিনিই সরকার। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অফিসের কর্মকর্তাদের অনেকটা ‘ফাটাকেস্ট’ স্টাইলে নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিজের গাড়িতে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র বহনের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। আমির হামজার মতো তার অনুসারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও একইভাবে দাপট দেখাচ্ছেন। একটি সংঘর্ষকে ঘিরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে তাণ্ডব চালান জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ছোট্ট রাজনৈতিক দলটির একাধিক নেতাকর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন তারা। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহরে শোডাউন করেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর ফের হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর শহরটিতে বিরাজ করছে উত্তেজনা।

এদিকে বিএনপি’র সংসদ সদস্য প্রার্থী পরাজিত হলেও দলটির নেতাকর্মীদের শহরে শক্ত অবস্থান রয়েছে। দলটির একাধিক গ্রুপ থাকলেও আধিপত্য নিয়ে সংঘাত কিংবা নিজেদের মধ্যে খুনখারাবির ঘটনা ঘটেনি। ওদিকে ৫ই আগস্টের পর হানিফ-আতাসহ কিছু পদধারী নেতা পালিয়ে গেলেও বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী শহরেই অবস্থান করছেন। মামলা-হামলা কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়নি দলটির নেতাকর্মীরা।

বিদ্যুৎ বন্ধ করে গণঅধিকার কার্যালয়ে তাণ্ডব: গত ১৫ই আগস্ট বিকালে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে গণঅধিকার সভাপতি নুরুল হক নুর ও দলটির সাবেক নেতা রাশেদ খানকে নিয়ে আমির হামজার কটূক্তির প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করেছিল দলটি। সমাবেশ শেষে গণঅধিকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘটনাস্থলে হাজির হওয়া আমির হামজার গাড়ি। এ সময় গণঅধিকারের দুজন নেতাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। সংঘর্ষের জেরে সন্ধ্যার পর এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে গণঅধিকারের জেলা কার্যালয়ে তাণ্ডব চালান জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী হকিস্টিক, লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তারা। হামলা থেকে রেহাই পায়নি গণঅধিকারের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। মারধর করা হয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের। সরজমিন দেখা যায়, হামলার পর কার্যালয়টি যেন একটি ধ্বংসস্তূপ। কার্যালয়ের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ভাঙা কম্পিউটার, এসি, চেয়ার- টেবিল, থাই গ্লাস ও মোটরসাইকেল। ভাঙচুর থেকে রেহাই পায়নি বাথরুমের ফিটিংসও। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফার্নিচার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ধ্বংস করা হয়। লুট করা হয় ক্যাশবাক্স। কর্মচারী সজীব মানবজমিনকে বলেন, সন্ধ্যার পর কারেন্ট বন্ধ করে দিয়ে ৭০-৮০ জন লোক হঠাৎ করে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার বলে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। কিছু বলার আগেই ভাঙচুর শুরু করে। আমাদের মারধর করে। প্রায় ৩০ মিনিট তাণ্ডব চালিয়ে তারা চলে যায়।

পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গণঅধিকারের নেতাকর্মীরা: সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে জামায়াত ও গণঅধিকার। তবে গ্রেপ্তার নয়, অতর্কিত হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকারের নেতাকর্মীরা। শিবির কর্মীদের হুমকির ভয়েস রেকর্ড ও মেসেঞ্জারে পাঠানো ক্ষুদেবার্তা মানবজমিনের হাতে রয়েছে। কুষ্টিয়া ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সবুজ মানবজমিনকে বলেন, মোবাইল ফোনে ও মেসেঞ্জারে আমাকে হুমকি দিচ্ছে আমির হামজার অনুসারীরা। বাসাবাড়িতে গিয়ে আমাদের খোঁজাখুঁজি করছে, থ্রেট করছে। একা পেলেই তুলে নিয়ে যেতে পারে কিংবা অতর্কিত হামলা চালাতে পারে- এই ভয়ে আছি আমরা। বাসা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি খন্দকার হাদিউর রহমান তনয় মানবজমিনকে বলেন, শিবিরকর্মী এনামুল হকের নেতৃত্বে আমার ভাই মোহাদ্দিসের ওপর হামলা হয়। এনামুল চাপাতি দিয়ে আমার ভাইয়ের পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অন্য শিবিরকর্মীরা হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পেটায়। তিনি বলেন, মামলার বাদী হওয়ায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে, থানায় মামলার এজাহার জমা দেয়ার সময়ও আমি হামলার শিকার হয়েছি। এখন হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই শিবিরকর্মীরা আমার পিছু নিচ্ছে। হামলায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রঅধিকার সভাপতি সোহান আহমেদ তুফানের নাকের হাড় ও হাত ভেঙে গেছে। তার পিতা সেন্টু আহমেদ জানান, শিবিরকর্মীরা তার বাসায় গিয়ে থ্রেট করেছে। তোর ছেলে কেন গণঅধিকার করে, এলাকায় ফিরে গেলে আরও খারাপ অবস্থা হবে। ফের হামলার ভয়ে ঢাকায় অবস্থান করছে সোহান।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আকাশও হামলার ভয়ে ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আহত মুহাদ্দিসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার ভিডিও ভাইরালের পর থেকে তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে শিবিরকর্মীরা। ফেসবুক মেসেঞ্জারে নানা বার্তা পাঠাচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মোরসালিন রাফিদ হামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে দেন। স্থানীয় শিবিরকর্মীরা তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন- এমপি’র বিরুদ্ধে কথা বললে রাফিদকে শায়েস্তা করা হবে। হামলার ভয়ে তিনিও বাড়ি ফেরার সাহস পাচ্ছেন না। হামলার ভয়ে এলাকাছাড়া জেলা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাকিব হোসেনও।

আমির হামজার যত বিতর্কিত বক্তব্য: সংসদ সদস্য হওয়ার আগে থেকেই একের পর এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন আমির হামজা। গত ১৬ই আগস্ট কুষ্টিয়ায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে আমির হামজা বলেনÑ কুষ্টিয়া সদর আসনে আগামী পাঁচ বছর আমিই প্রধানমন্ত্রী। ডিসি, এসপি, ইউএনও নিরপেক্ষ না হলে কুষ্টিয়া থেকে তাদের বিদায় করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর আগে ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর এক বক্তৃতায় আমির হামজা বলেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে গত ১৭ বছর আজান দিতে দেয়নি ফ্যাসিস্টরা। এবার ডাকসুতে শিবির বিজয়ী হওয়ার পর ফের আজান শুরু হয়েছে। তবে ঢাবি প্রশাসন জানিয়েছে, মুহসীন হলে নির্ধারিত মসজিদ রয়েছে, সেখানে আমির হামজার আজান না দেয়ার কথাটি সঠিক নয়।

এ ছাড়া আরেক বক্তৃতায় আমির হামজা বলেছিলেন- তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু জাবি প্রশাসন জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১ সালে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ চালু হয়। সুতরাং আমির হামজা এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছেন তা সত্য নয়। এসব বিষয়ে সমালোচনার পর চাপে পড়ে তিনি বলেনÑ মুখ ফস্কে তা বেরিয়ে গেছে। এর আগে করোনা মহামারিকালে বেশ কয়েকটি মাহফিলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন আমির হামজা। তিনি বলেছিলেন, করোনা এসেছে ইসলামের অবিশ্বাসীদের শায়েস্তা করতে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে কারও করোনা হবে না। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এক মাহফিলে আমির হামজা বলেছিলেনÑ আমার চৌদ্দগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ করে। তিনি শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেছিলেন, ১৬ কোটি মানুষের জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া আরেকটি ওয়াজ মাহফিলে ভারতের দক্ষিণের নায়িকা রাশ্মিকা মান্দানার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। আমির হামজা বলেছিলেন, চেহারার কাটিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর আছে রাশ্মিকা মান্দানা। মান্দানার দিকে আল্লাহর নাম নিয়ে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষমা চান তিনি। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন- কারাগারে নির্যাতনের কারণে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। এর আগে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আমির হামজা। এ ঘটনার পর আমির হামজার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া শহরে ঝাড়ুমিছিল বের করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

যা বললেন আমির হামজা: সব অভিযোগেরই খোলামেলা জবাব দিয়েছেন সংসদ সদস্য আমির হামজা। গণঅধিকার নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন। গণঅধিকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা করে আমির হামজা মানবজমিনকে বলেন, দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। দু’জন ছাড়া তো তাদের বড় কোনো নেতা নেই। গণঅধিকারের সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির বড় সংগঠন, সেই অর্থে গণঅধিকার তো ছোট দল। আর কুষ্টিয়ায় তাদের তেমন অবস্থানও নেই, নেতাকর্মীও নেই। বিএনপি’র একটি গ্রুপ তাদের ইন্ধন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে।

গণঅধিকার কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সংঘর্ষের পর আমি বাসায় চলে আসি। কিন্তু আমার অজান্তেই বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। সেটা উচিত হয়নি। গাড়িতে দেশীয় অস্ত্র বহনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই শহরের বাসভবনের নিচতলার কার্যালয়ে পায়ের নিচ থেকে একটি বেসবাটাম (বেসবল খেলার দণ্ড) তুলে টেবিলের সামনে রাখেন তিনি। এটি দেখিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেয়া হয়নি। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য সবসময় গাড়িতে এটি বহন করেন। কুষ্টিয়া সদর আসনে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবির ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমি এটা রূপক অর্থে বলেছি। আমার স্পষ্ট বক্তব্য- কুষ্টিয়ায় সদর আসনে কাউকে দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেবো না। যে দলেরই হোক, কোনো অন্যায়কে আমি প্রশ্রয়ও দেবো না। কুষ্টিয়া জেলায় পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন ছাড়া বিএনপি’র সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়ায় বিএনপি’র চার গ্রুপ: কুষ্টিয়ার বিএনপিতে গ্রুপিং রাজনীতির চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রুপিংয়ের কারণেই নিজেদের ঘাঁটিতে এমন শোচনীয় পরাজয়বরণ করেছে দলীয় প্রার্থী। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া বিএনপিতে চারটি গ্রুপ রয়েছে। জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ও দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জাকির হোসেনের নেতৃত্বে রয়েছে মূল গ্রুপ। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে রয়েছে আরেকটি গ্রুপ। ওদিকে কুষ্টিয়া সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি ইসলাম হোসেন মুরাদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবের নেতৃত্বে রয়েছে আলাদা দু’টি গ্রুপ। গ্রুপিং রাজনীতির কারণে আগামী আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে দলটির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তবে জেলায় গ্রুপিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব জাকির হোসেন। গণঅধিকার নেতাকর্মীদের ইন্ধন দেয়ার আমির হামজার অভিযোগের বিষয়ে তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমির হামজার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি ইসলামী বক্তা হয়েও প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছেন। একজন ইসলামী দাঈয়ের এমন মিথ্যাচারে ক্ষতি হচ্ছে ইসলামের। নানা উদ্ভট বক্তব্যের রাজনৈতিক জোকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমির হামজা দাবি করেছেনÑ নুর-রাশেদ ছাড়া গণঅধিকারের আর কোনো নেতা নাই অথচ কুষ্টিয়ায় ২৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন তারা।

কুষ্টিয়া সদর আসনে বিএনপি’র ঘাঁটিতে ৬৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের নেপথ্যে চারটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কুষ্টিয়া ডিসি-এসপিসহ পুরো প্রশাসন জামায়াতপন্থিদের দিয়ে সাজানো হয়েছিল। দ্বিতীয়ত. বিএনপি’র একটি গ্রুপ দলের বিপক্ষে কাজ করেছে। তৃতীয়ত. আমির হামজা জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা হওয়ায় এলাকার ধর্মভীরু মানুষের মধ্যে একটা সহানুভূতি কাজ করেছে। চতুর্থ কারণ হলো- দীর্ঘদিন কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের মাহবুব-উল আলম হানিফ জনপ্রতিনিধি থাকায় তার একটা বড় অনুসারী আমার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।

হানিফ-আতা ছাড়া পালাননি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ ও তার ভাই আতাউর রহমান আতাসহ কিছু পদধারী নেতা পালিয়ে গেলেও পালাননি দলটির বেশির ভাগ নেতাকর্মী। হানিফ-আতার বাসভবন ছাড়া কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িঘর কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ৫ই আগস্টের পর জেলা বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি হয়েছেন একজন আওয়ামী লীগ নেতা। স্থানীয় যুবলীগ নেতা মামুন মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে হানিফ ও তার ভাইয়ের দ্বারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ছিল নির্যাতিত। তারাই সবকিছু লুটপাট করে খেয়েছে। অন্যরা ছিল বঞ্চিত। তাই ৫ই আগস্টের পর অন্যদের পালাতে হয়নি।