টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের ডুবাইল আদর্শ গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান সিকদারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. হায়দর আলী। হায়দরের লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলোচিত এই প্রধান শিক্ষক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময় তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও অত্র বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি কে এম গিয়াস উদ্দিনের ছত্রছায়ায় লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যসহ অফিস সহকারী মো. হায়দরকে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করে বেতন-ভাতা আটকে রাখেন।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী খলিলুর রহমানকে অফিস সহকারীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া, হায়দরের স্ত্রী মরিয়ম বেগম ও শ্যালক মো. খোকন মিয়ার জমি দখল করে স্কুলের বাউন্ডারি তৈরি করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজ প্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রী মোসাম্মৎ আমিনা বেগমকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদে গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি দেন। ডুবাইল গ্রামের গোরস্থানে সভাপতি থাকা অবস্থায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নামে দলিল করে দেয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এসব অনৈতিক ও অপকর্মের বিরুদ্ধে অতীতে এলাকাবাসী মুখ না খুললেও বর্তমানে তারা সোচ্চার। তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রীকে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে হায়দর বলেন, স্কুলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের জাল দলিলকৃত জমির মামলায় সাক্ষী হওয়ায় আমাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় বলা আছেÑ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করে পেনশন প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাসহ যাবতীয় দেনা পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে। তবে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক হস্তক্ষেপে দুই বছরের অধিক সময় স্কুলে যোগদান করতে পারছি না।
শ্রী শ্রী কালী মন্দিরের জমি দখল প্রসঙ্গে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র ঘটক কর্তৃক গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে বলা হয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রী শ্রী আদ্যশক্তি কালী মন্দিরের ১৫ শতাংশ জমি জবরদখল করে শিক্ষক বদিউজ্জামান ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মানবজমিনকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছেÑ সব সত্যি নয়। প্রধান হিসেবে স্কুলের স্টাফ ও এলাকাবাসীর মধ্যে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকতেই পারে। এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আবু ঈসা মোহাম্মদ মুনিম বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অবগত থাকলেও সম্পূর্ণ জানি না। আমি কমিটিতে নতুন এসেছি। প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এটা সত্যি। বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুতই কাজ শুরু করবো।
