আগামী ৩রা অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে ভারত। ম্যাচটি খেলার জন্য ফিফা আসিয়ান কাপ আসর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটি। ভারত তাদের নাম প্রত্যাহার করায় সুযোগ আসে বাংলাদেশের। সে সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এরইমধ্যে আয়োজকদের অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে বাফুফে। এরমধ্যেই বাংলাদেশের সামনে এসেছে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ। আগামী ৬ই অক্টোবর বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। হুট করে পাওয়া এই প্রস্তাবও বিবেচনা করছে বাফুফে। বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে তারা দ্রুতই ফিফার সঙ্গে কথা বলবে। ফিফার সবুজ সংকেত পেলে আসিয়ান কাপের পর এই ম্যাচটিও তারা খেলতে চায়।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।
এরপরই ভারত সফর করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৩রা অক্টোবরের ম্যাচকে সামনে রেখে রোববার ভারতের সুযোগ সুবিধা দেখতে আসে ব্রাজিল কনফেডারেশন (সিবিএফ)-এর পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে একইদিন দুপুরে ঢাকায় আসে তারা। ঢাকায় এসেই সরাসরি চলে যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেখান থেকে সন্ধ্যায় তারা পরিদর্শন করে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। রাতে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় বসে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল সঙ্গে। সেখানেই বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দেয় তারা। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রস্তাবিত প্রীতি ম্যাচটি খেলতে চায় বাফুফেও। তবে সামনে বড় বাধা বাংলাদেশের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩রা অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নেয়ার কথা বাংলাদেশের। সেই টুর্নামেন্টের সঙ্গে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের সূচি কীভাবে মেলানো যায়, তা নিয়ে ফিফার সঙ্গে কথা বলবেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ অথবা ৬ অক্টোবর। তবে ৬ই অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে এমন খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাফুফের নির্বাহী সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন। গতকাল শাহীন বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’ বাংলাদেশের সূচির জটিলতাটা এখানেই। ২৪শে সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে। এরপর স্থান নির্ধারণী ম্যাচসহ মোট চারটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৩রা অক্টোবর।
অন্যদিকে ব্রাজিল ২৫ ও ২৯শে সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে ৩রা অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে খেলবে। এরপরই ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা। ফলে ব্রাজিল ম্যাচটি আয়োজন করতে হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। শাহীন জানিয়েছেন, ব্রাজিলের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর শর্ত দেয়া হয়নি। জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ ও আশপাশের অবকাঠামো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল রুম এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতির পরামর্শ দিয়েছে তারা। ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের মতে, এসব কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব। ব্রাজিলের বহরও হবে বড়। প্রায় ৯০ সদস্যের দল নিয়ে ঢাকায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা সাপোর্ট স্টাফ রাখার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। তবে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে অর্থও বড় বিষয়। এত বড় দলের সফর ও ম্যাচ আয়োজন করতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা নেয়ার কথা জানিয়েছেন শাহীন। তিনি বলেন, ‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেয়া হবে। এ রকম ম্যাচ করতে হলে সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে।’
