অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ার তৃতীয় দল হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের পর অজি মাটিতে সিরিজ ড্র করা অনন্য অর্জন। ডারউইনে দারুণ জয়ের পর ম্যাকাইয়ে টাইগাররা দারুণ কিছু করবে এমনটাই আশা ছিল। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর সিরিজ জয়ের সুযোগ আসে। কিন্তু সেটি আর শেষ পর্যন্ত হয়নি। অজি পেস দাপটে দুই দিনেই হেরে যায় বাংলাদেশ। যদিও অজিদের মাটিতে এক টেস্ট জিতে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বর স্থানে উঠেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছিলেন সেখান থেকে সম্মান নিয়ে ফেরাটাও হবে বড় অর্জন। সেই হিসেবে এই অর্জনে বেশ খুশি তিনি।
বাশার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশ যেটা নিয়ে যাচ্ছে, আমরা আসার আগে বলেছিলাম যে আমরা যখন দেশে ফিরে যাই একটা সম্মান নিয়ে যেতে চাই। আমার মনে হয় সেটা নিয়ে আমরা দেশে ফিরতে পারছি। এছাড়াও প্রত্যাশা তো আসলেই বেশি ছিল। একটা সুযোগ তৈরি করেছিলাম সিরিজ জেতার। কিন্ত অস্ট্রেলিয়া টেস্টের এক নম্বর দল। আমরা জানতাম তারা তাদের সর্বশক্তি নিয়ে এই ম্যাচটা খেলবে এবং অবশ্যই প্র্যাকটিক্যালি ২-০ তে হারানোটা একটু বেশি হয়ে যায়। কিন্তু আমরা আরও বেটার ক্রিকেট খেলতে পারতাম।’ ম্যাকাই টেস্টে হারের কারণ হিসেবে উইকেটের আচরণ ও টসের প্রভাবটাও যে বড় ছিল তা নিয়েও কথা বলেছেন বাশার। ম্যাচের প্রথম দিনে উইকেটে পেসারদের জন্য সাহায্য ছিল। প্রতিপক্ষ দল উইকেটে বাউন্স ও গতিকে অস্ত্র বানিয়েছিল। এমন কন্ডিশনে খেলতে গিয়ে ব্যাটাররা সমস্যায় পড়ে। এছাড়াও টসের ভূমিকা প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘আমরা কিন্তু সুযোগ তৈরি করেছিলাম। আমার মনে হয় যে আমরা সবাই দেখেছি টসটা একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। টসের ওপর তো কারও হাত নেই, আপনি হারতেও পারেন জিততেও পারেন।
কিন্তু এত পার্থক্য সবসময় তৈরি করে না।’ সিরিজে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং বিভাগের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ডারউইনে প্রথম ম্যাচ জয়ে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে সুযোগ পেয়ে পেসার শরিফুল ইসলাম প্রথম ইনিংসে নেন ৭ উইকেট। পেস আক্রমণে প্রতিযোগিতা দলের শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং সাফল্য আনছে বলেই মনে করেন প্রধিান নির্বাচক। বাশার বলেন, ‘ম্যাকাই টেস্টে আমাদের ও অস্ট্রেলিয়া মিলিয়ে অনেকগুলো উইকেট পড়েছে এবং কিছু অসাধারণ ডেলিভারি ছিল; তবে আমার কাছে মনে হয়েছে শরিফুল যে বলে ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করেছে, সেটিই এই টেস্ট ম্যাচের সেরা ডেলিভারি ছিল।’
ডারউইনে প্রথম টেস্টের জয়কে দলগত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন বাশার। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম সেঞ্চুরি করেন এবং পেসার হাসান মাহমুদ দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নেন। পেসার তাসকিন আহমেদ বোলিংয়ে অবদান রাখেন। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেন। অধিনায়ক শান্ত ৮০ রান করার পাশাপাশি ব্যাটার মুশফিকুর রহীম ও মোমিনুল হক অবদান রাখেন। প্রথম টেস্টের সাফল্য নিয়ে বাশার বলেন, ‘ডারউইন টেস্ট ম্যাচটির কথাই যদি ধরেন যেটিতে আমরা জিতেছিলাম সেটি ছিল একটি দলগত প্রয়াস। কিছু পারফরম্যান্স তো অবশ্যই আলাদাভাবে হাইলাইট হয় যেমন তামিমের সেঞ্চুরি কিংবা হাসানের ৬ উইকেট।’
