আদালতের রায়ে মায়ের কোল ছেড়ে পিতার কোলে মেহজাবিন

আদালতের রায়ে মায়ের কোল ছেড়ে পিতার কোলে মেহজাবিন

ফন্ট সাইজ:

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পারিবারিক আদালতের এজলাস সাক্ষী হলো এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক অনুভূতির। মা-বাবার বিচ্ছেদের টানাপড়েনে নিষ্পাপ এক শিশুর ভালোবাসা যেন ভাগ হয়ে গেছে দুই কূলে। অবুঝ চোখভরা মায়া নিয়ে বাবার বুকে মুখ গুঁজে থাকা শিশু মেহজাবিনের মুখে যখন ভেসে ওঠে নিষ্পাপ স্বীকারোক্তি মা অনেক ভালো, আমি মায়ের কাছে যেতে চাই, তখন পুরো আদালত প্রাঙ্গণে নেমে আসে নীরব স্তব্ধতা।

আদালতের নথিসূত্রে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া পারিবারিক আদালতের পারিবারিক মামলায় নাবালিকা কন্যা মোসাম্মাৎ মেহজাবিনের অভিভাবকত্ব ও জিম্মা ফিরে পেতে আইনি লড়াই শুরু করেন বাবা মোহাম্মদ মেহেদুল প্রামাণিক। কন্যাসন্তানের সোনালি ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও সুষ্ঠু লালন-পালনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রবাস জীবনের নিশ্চিত আয়ের মায়া ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন এই পিতা। দীর্ঘ আইনি পর্যালোচনা শেষে সিভিল জজ মো. তানজীর হোসেনের আদালত নাবালিকা কন্যা মেহজাবিনকে তার বাবার জিম্মায় প্রদানের আদেশ দেন। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় পিতাকে জিম্মা দেয়া কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিচারিক ব্যবস্থা মাত্র; এর মাধ্যমে গর্ভধারিণী মায়ের অমলিন মাতৃত্বের মর্যাদা সামান্যতম ক্ষুণ্ন হয় না।

রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে মাতৃত্বের নাড়িছেঁড়া বন্ধন চিরন্তন ও পবিত্র। মাতৃস্নেহের পরশ ছাড়া কোনো শিশুর ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ অসম্ভব। তাই পিতা মেহজাবিনের সার্বিক দায়িত্ব বহন করলেও মা মোছাঃ সুমাইয়া সুলতানা নিয়মিত তার প্রিয় সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন, নিজ হাতে উপহার-খাবার তুলে দিতে পারবেন এবং সন্তানের শৈশবে ছড়িয়ে দিতে পারবেন অকৃত্রিম ভালোবাসার আলো। সন্তানকে কোনো পক্ষেরই মানসিক বিষাদ বা কটু কথার মুখোমুখি না করার জন্য উভয়পক্ষকেই কঠোর নির্দেশ দেন আদালত।
দাম্পত্যের ভাঙন দুটো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনে বিচ্ছেদ ঘটালেও শিশুর মনস্তত্ত্বে রেখে যায় গভীর ক্ষত। সন্তানের দৃষ্টিতে বাবা আশ্রয়, আর মা হলো গোটা পৃথিবী। আইনি সীমানায় জিম্মা যার হাতেই যাক না কেন, আদালতের এই প্রজ্ঞাপূর্ণ বার্তা মনে করিয়ে দেয়, বাবা-মায়ের অহংবোধের চেয়ে সন্তানের মন ও মানসিক সুরক্ষাই সবার উপরে।