চট্টগ্রাম কাস্টমসে ই-নিলামে উঠছে ৪৪২ কন্টেইনার পণ্য

ফন্ট সাইজ:

বন্দরের কন্টেইনার জট নিরসন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে ৪৪২ কন্টেইনার পণ্য ই-নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বলা হয়, নিলামের স্থায়ী আদেশ নম্বর-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ ও বিশেষ আদেশ নম্বর-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এ মোট ১০১টি লট রয়েছে। এসব লটে কন্টেইনারের সংখ্যা ২৯০টি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী ও বিশেষ আদেশের আওতায় বিশেষ ই-অকশন-১০/২০২৬ এবং ই-অকশন-০৯/২০২৬-এর মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ ই-অকশন-১০/২০২৬-এ ১০১ লটে ২৯০টি কন্টেইনার এবং ই-অকশন-০৯/২০২৬-এ ১০৯ লটে ১৫২টি কন্টেইনার রয়েছে। বিশেষ ই-অকশন-১০/২০২৬-এর আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক বর্জ্য, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য।

এ ছাড়া ৮৬টি পুরনো খালি কন্টেইনারও নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্য চালানের ক্ষেত্রে কোনো সংরক্ষিত মূল্য রাখা হয়নি। অন্যদিকে, ই-অকশন-০৯/২০২৬-এর আওতায় নিলামে উঠবে বিভিন্ন ধরনের মূলধনী যন্ত্রপাতি, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসি’র যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, এলিভেটর ও লবণসহ বিভিন্ন পণ্য। কাস্টমস জানিয়েছে, নিলাম কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। আগ্রহী ক্রেতারা কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্রে অংশ নিতে পারবেন। ই-অকশন-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০শে আগস্ট থেকে ১৩ই সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০শে আগস্ট থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরজমিন পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। ই-অকশন-০৯/২০২৬-এর দরপত্র ২৭শে আগস্ট থেকে ১৬ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২৭শে আগস্ট থেকে ১৭ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করা যাবে। অনলাইন দরপত্রের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে। ই-অকশন-০৯/২০২৬-এর দরপত্র আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় এবং বিশেষ ই-অকশন-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২০শে সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় খোলা হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন করে নিলামকৃত পণ্য খালাস নিতে হবে।

কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম জানিয়েছে, অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্য নিয়মিতভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দরের কন্টেইনার জট কমানো, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এ নিলাম কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।