শিবচরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় এক বছর বয়সী শিশু আবিরকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচদিন পর সোমবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা শিবচর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে আগস্ট শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় জমির ঝোপের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোর জেলার লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী ছেলে আবির ছিল। এ ঘটনায় ২০শে আগস্ট নিহত শম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ও র্যাব-৮, মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মোল্লাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাম্পাকে হত্যার পর তার সঙ্গে থাকা শিশু আবিরকেও হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এরপর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। পাঁচদিন পর সোমবার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা হত্যার পর এক বছর বয়সী শিশুকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
