চট্টগ্রাম বন্দরে এক বছরে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা

চট্টগ্রাম বন্দরে এক বছরে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতি বাড়ায় এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বেড়েছে কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং। তবে কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং বাড়লেও মোট কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সামান্য পতন হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ২ হাজার ৯৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৯৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ৩৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।
রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি কমেছে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ও। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ব্যয় ছিল ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৯১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এতে ব্যয় কমেছে ৫৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে বন্দরে ২ দশমিক ৪১ লাখ টিইইউএস কনটেইনার ওঠানামা করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১৪৪ লাখ টিইইউএসে।

একই সময়ে জাহাজ হ্যান্ডলিংও বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাস ১১ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ২ হাজার ৫৮৮টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২ হাজার ৬৩৫টি জাহাজ। অর্থাৎ এক বছরে জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৪৭টি বা প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
বন্দরের কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কনটেইনারবাহী জাহাজের অপেক্ষার সময়ে। ২০২৫ সালে একটি কনটেইনার জাহাজকে বন্দরে প্রবেশের জন্য গড়ে ৪ দশমিক ০৮ দিন অপেক্ষা করতে হতো। চলতি বছরে সেই সময় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ২৩ দিনে।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমেছে ২ দশমিক ৮৫ দিন বা প্রায় ৭০ শতাংশ। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেটি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দ্রুত কনটেইনার খালাস এবং অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে জাহাজের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাহাজ বন্দরে আসার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে পুনরায় বন্দর ত্যাগ করতে যে সময় লাগে, সেটিকে টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বলা হয়। এই সময়েও উন্নতি হয়েছে।
২০২৫ সালে একটি জাহাজের গড় টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ছিল ২ দশমিক ৬০ দিন। চলতি বছরে তা কমে হয়েছে ২ দশমিক ২৮ দিন। অর্থাৎ সময় কমেছে শূন্য দশমিক ৩২ দিন বা প্রায় ১২ শতাংশ।
তবে আমদানি করা কনটেইনার বন্দরে অবস্থানের সময় বা ডুয়েলিং টাইমে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে এ সময় গড়ে ৯ দশমিক ৫৬ দিন থাকলেও চলতি বছরে সামান্য কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৫১ দিন। কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং বাড়লেও মোট কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে কিছুটা পতন হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ৮৪ দশমিক ২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক বছরে কার্গো হ্যান্ডলিং কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
এর মধ্যেই রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণে নতুন রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। গত ১২ আগস্ট জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ১১ নম্বর জেটি থেকে মার্স্ক লাইনের ‘মারস্ক বিন্টুলু’ জাহাজে ৯৩৩ বক্স রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণ করা হয়। এসব কনটেইনারে ছিল ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউএস রপ্তানি পণ্য।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এক জাহাজে রপ্তানি পণ্যবাহী লোড কনটেইনার জাহাজীকরণের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে গত ১৮ জুন এক জাহাজে ৭৪২ বক্স বা ১ হাজার ৪৩৯ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড ছিল।
এ ছাড়া ‘মারস্ক বিন্টুলু’ জাহাজে আরও ১৪৪ বক্স খালি কনটেইনার জাহাজীকরণ করা হয়, যা ১৪৭ টিইইউএসের সমান। সব মিলিয়ে জাহাজটিতে ১ হাজার ৭৭ বক্স কনটেইনার ওঠানো হয়েছে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৯৩১ টিইইউএস।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত ছয় মাসে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও রাজস্ব আয় বেড়েছে। পুরো বছরেই এই অগ্রগতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।