কলকাতার মাটিতেই শেষ বিদায় রেবতী

ফন্ট সাইজ:

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) নিজ বাড়ির আঙিনায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। একই ঘটনায় নিহত কালীগঞ্জের রেবতী সরকার (৩৭)-এর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে কলকাতাতেই। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করে কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।

পরে আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে সন্ধ্যায় নিজ ঘরের সামনে তাকে সমাহিত করা হয়। আলিমুজ্জামান সাজু বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে। চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন তিনি। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অবস্থানকালে গত বুধবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে থেকেই সাজুর মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বাড়ির পাশে আগে থেকেই কবর খনন করে রাখা হয়েছিল। দুপুরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা। সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে তারা বাড়িতে নিয়ে আসেন। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে সাজুকে তার ঘরের সামনে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসা শেষে শনিবারই দেশে ফেরার কথা ছিল সাজুর। কিন্তু জীবিত আর ফেরা হলো না। দেশে ফিরলেন নিথর মরদেহ হয়ে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।
এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকারের শেষকৃত্য শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। রেবতীর দেবর তপন সরকার জানান, রেবতীর দুই সন্তান ভারতে থাকেন। পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এ সময় রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আরেক দেবর সঞ্জয় সরকার জানান, পরিবারের সদস্যরা ভারতে থাকায় রেবতীর মরদেহ দেশে আনা হয়নি। কলকাতাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকারও ছিলেন। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একই অগ্নিকাণ্ডে সাজু ও রেবতীর মৃত্যুর ঘটনায় কালীগঞ্জের দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাজু শেষ পর্যন্ত নিজ গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেও রেবতীকে শেষ বিদায় জানাতে হয়েছে কলকাতার মাটিতেই।