আকস্মিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত খাগড়াছড়ি

ফন্ট সাইজ:

আকস্মিক ভারীবর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। মাত্র ৫-৬ ঘণ্টার বর্ষণে তছনছ হয়ে গেছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা। আকস্মিক এই বন্যায় জেলার প্রায় ৭০০ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য মানুষ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে অবিরাম বর্ষণ চলে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে চোখ মেলতেই হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখতে পান নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মুসলিম পাড়া, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, ফুটবিল, খবং পড়িয়া এবং দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী, জামতলি ও ছোট মেরুংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের বেলুন মেকার শুভতি চাকমা জানান, টানা প্রায় ৬ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে শুধু মধ্যরাতের পর থেকেই ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার জন্য এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলেই এই আকস্মিক বন্যা। ভুক্তভোগীরা জানান, পানির গতি এতই তীব্র ছিল যে চোখের পলকে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক পরিবার আসবাবপত্র বা জরুরি কাগজপত্র সরানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি। পানিতে ভেসে গেছে শত শত হাঁস-মুরগি ও গৃহপালিত পশু। একইসঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ও আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানির কারণে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে জেলার যান চলাচলে। দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ এসব রুটে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকসহ হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী ও পথচারী। তবে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় নিম্নাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলো আমরা সরজমিন পরিদর্শন করেছি। যেসব পরিবার পানিবন্দি রয়েছে, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।