খুলনায় দুই খুনের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার

খুলনায় দুই খুনের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার

ফন্ট সাইজ:

এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুলনার লবণচরা থানার হরিণটানার আশিবিঘা বালুর মাঠে পর পর দুইটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যাকাণ্ড দুইটি ছিল পরস্পর প্রতিশোধপরায়ণ। টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের কাছে এমন তথ্য দিয়েছে। শনিবার র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ। এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা। তিনি বলেন, টুটপাড়া, হরিণটান ও লবণচরা এলাকার মাদক কারবারি নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর সহযোগী হয়ে কাজ করে।

অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে উল্লিখিত এলাকায় মাদকের কারবার করে। তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। গত ১৯শে আগস্ট বিকালে মাথার চুল কেটে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল নাজমুল। রফিক বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নেয়। এরপর ভিডিও কলে রেখে ভিকটিমকে কোপ দেয়। এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও দলের ১৫-১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় যায়। এ সময় বিরোধী পক্ষের সদস্য মনজুরুলকে সামনে পেলে বাবার সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সন্ধ্যায় মনজুরুলকে হত্যা করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকে হত্যা করে আশিবিঘা এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে।

ঘটনার দিন স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সাইফিকে গ্রেপ্তারের পর রাতে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে শটগান, শটগানের গুলি, পিস্তল ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার সাইফি গ্রেনেড বাবুর একান্ত সহযোগী কাউয়া মিরাজের নির্দেশনায় এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকালাপ করে থাকে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৪টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।