স্বামীকে কিডনি দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আকলিমার

স্বামীকে কিডনি দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আকলিমার

ফন্ট সাইজ:

কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রূপসা গ্রামের পাঠান বাড়ির দেলোয়ার হোসেন। একপর্যায়ে মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকা দেলোয়ারকে বাঁচাতে ভালোবাসার সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিতে এগিয়ে আসেন স্ত্রী আকলিমা বেগম।

নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। স্বামীহারা আকলিমা এখন হাসপাতালে নিজেই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। পরিবার সূত্র জানিয়েছে, গত ১৪ই আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। এতে দু’দিন উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। তবে ডায়াবেটিসসহ শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয়ায় অবশেষে, ১৮ই আগস্ট মারা যান দেলোয়ার হোসেন (৪০)। স্বামীহারা আকলিমা (২৮) এখন নিজে মারাত্মক অসুস্থ ও জীবন ঝুঁঁকিতে। চিকিৎসকরা আকলিমাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসায় থাকার পরামর্শ দিলেও চরম আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছেন তিনি। স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আগেই দেনার জালে আটকা পড়েছে। দেলোয়ারের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, প্রবাসে ছিলেন দেলোয়ার।

সেখানে কিডনি রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদটি আকলিমাকে না জানিয়ে মরদেহ বাড়িতে নেয়ার আয়োজন চলছিল। কিন্তু, আমাদের আচরণ আকলিমার কাছে ধরা পড়ে যায়। সে জেনে ফেলে ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাসপাতালের স্টাফরা শোকসহ আকলিমার প্রতি সহানুভূতি জানান। সেখানকার রোগী ও দর্শনার্থীরা আকলিমার কিডনি দানের সংবাদ শুনে শ্রদ্ধা ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

পরিবার সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, স্ত্রীর একমাত্র ইচ্ছা ছিল স্বামীকে সুস্থ জীবন দেয়া, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তা সম্ভব হলো না। আকলিমার শাশুড়ি জানান, বর্তমানে শারীরিক দুর্বলতায় কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন আকলিমা। ১১ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশু কন্যার দিকে তাকিয়ে কেঁদে কেঁদে সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছেন আমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য করুন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাউছারুল আলম কামরুল, দেলোয়ারের মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, দেলোয়ার মারা গেছেন। কিন্তু, আমাদের সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আকলিমা। ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজে এমন মানুষ পাওয়া ইতিহাসে
বিরল।